মেয়েটির নাম ছিল মায়া। সর্বদা হাসিখুশি, সুন্দর মনের একটি মেয়ে। বয়স সবে আঠারোতে পড়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছে। নতুন জীবন, নতুন অভিজ্ঞতা। মেয়েটির নাম যেমন ছিল মায়া, সে দেখতেও ছিল মায়াবতী। শ্যামলা মেয়েরা যে মায়াবতী হয়, সেটা মায়াকে দেখলেই বোঝা যেত।
মায়াবতী পড়াশোনায় তেমন ভালো না হলেও রান্না, হাতের কাজে ছিল পারদর্শী। কী সুন্দর সুন্দর কাঁথা সেলাই করত! তার কাজে এলাকায় সবাই মুগ্ধ ছিল। তার পড়াশোনায় সাহায্য করত তার বন্ধুর বড় ভাই। সে পড়াশোনার জন্য মাঝে মাঝে তার বন্ধুর বাসায় যেত। তার বন্ধুর ভাইয়ের নাম ছিল আরশ। আরশ পড়াশোনাতে অনেক ভালো ছিল। তার গ্রামে সে-ই ছিল একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়া ছাত্র। সে ছুটিতে গ্রামের ছেলে-মেয়েদের বিনামূল্যে পড়াত।
আরশ যখন মায়াকে অঙ্ক করাত, মায়া একদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকত। কিন্তু আরশ কখনো কিছু বলত না। সবাই মায়ার সাথে মজা করত আরশকে নিয়ে। কিন্তু আরশ ছিল গম্ভীর, চুপচাপ। হঠাৎ একদিন মায়ার বিয়ে ঠিক হলো। মায়া তার মনের কথা আরশকে বলতে পারল না। বুকভরা কষ্ট নিয়ে সে বিয়েতে রাজি হলো। কিন্তু আরশও হয়তো মায়াকে পছন্দ করত। সে মায়াকে ফোন দিয়ে বলল, “তোর জন্য একটা শাড়ি আনছি।” তারপর কী হলো, তা কেউ জানে না।
বিয়ের দিন বর এল। পুরো বাড়ি ফুল আর লাইট দিয়ে সাজানো। আত্মীয়স্বজনে বাড়ি গম গম করছে। কিন্তু পুরো বাড়িতে খুঁজেও মায়াকে পাওয়া গেল না। টেবিলের ওপর একটা চিঠি। তাতে লেখা, ‘বাবা আমাকে মাফ করে দিয়ো’। কাঁপা কাঁপা হাতে লেখা।
বাবার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। তিনি কী করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারলেন না। তখনই মনে পড়ল তাঁর ছোট মেয়ে নীরার কথা। নীরাকে তিনি বললেন, “একমাত্র তুমিই পারো আমাকে সম্মানহানির হাত থেকে রক্ষা করতে।”
নীরা বুঝে উঠতে পারছিল না তার কী করা উচিত। শেষ পর্যন্ত নিজের সাথে যুদ্ধ করে নীরা বিয়েতে রাজি হলো। সুন্দরভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হলো। এদিকে তিন দিন হয়ে গেল মায়ার কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না। কোথায় আছে, কার সাথে আছে কেউ জানে না। পঞ্চম দিন বিকেলে মায়াকে দেখা গেল আরশের সাথে। আরশ মায়াকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেছে তার বউ করে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো গ্রামে খবর ছড়িয়ে পড়ল।
আরশের প্রতি সবাই খারাপ ধারণা পোষণ করল। তার মতো ভদ্র, শিক্ষিত ছেলে এমন কাজ করবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি। মায়াকে আরশের বাড়িতে কেউ মেনে নিল না। আরশের মা কান্না শুরু করলেন। তাঁর মেধাবী, শিক্ষিত ছেলের সাথে মায়াকে কিছুতেই মেনে নিতে পারলেন না। তাঁর আশা ছিল তাঁর ছেলের বউ হবে সুন্দরী, সুহাসিনী, উচ্চ শিক্ষিত।
আরশের সামনে বিসিএস ও অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা ছিল। তাই সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও মায়াকে বাড়িতে রেখে চলে গেল। যাওয়ার আগে শুধু বলে গেল, “সাবধানে থেকো, একটু কষ্ট করে মানিয়ে নিয়ো।খুব তাড়াতাড়ি তোমাকে নিয়ে যাব।” ছলছল চোখে মায়া আরশকে বিদায় দিল। তার দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। মায়ার শাশুড়ি, ননদ তাকে দুচোখে দেখতে পারত না। মায়াকে অনেক মানসিক নির্যাতন করত। কিন্তু মায়া সব সহ্য করত। আরশকে কিছুই বুঝতে দিত না সেসব।
আরশ প্রতিদিনই মায়াকে ফোন দিত। বলত, “আর কিছুদিন অপেক্ষা করো।” দিন দিন তাদের নির্যাতনের পরিমাণ বাড়তে লাগল। এদিকে মায়ার বাড়ির লোকও মায়ার সাথে কোনো যোগাযোগ রাখেনি। মায়া নিজের কষ্ট কাউকে বলতে পারত না। নীরবে সব সহ্য করত। দিন দিন তার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়ে গেল। দেখতে দেখতে তিন মাস হয়ে গেল।
তখন শীতের সময়। একদিন ভোরে পুরো গ্রাম নিস্তব্ধ হয়ে গেল। মায়ার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া গেল। তার শ্বশুরবাড়ির সবাই মেকি কান্না শুরু করল। বাড়িতে পুলিশ এল। কিন্তু পুরো বাড়ির কোথাও আরশকে দেখা গেল না। তবে সেদিন বাড়িতে একটা চিঠি এসেছিল। আরশ বিসিএস প্রসাশন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তার আর চাকরি করা হলো না। পুলিশ অনেক খোঁজাখুঁজির পরে আরশকে পায়নি।
মায়ার মরদেহ পুলিশ নিয়ে গেল, ময়নাতদন্ত হলো। প্রমাণিত হলো, মায়া আত্মহত্যা করেনি। মায়াকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু মায়ার খুনি হয়তো আজও মুক্ত আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ওই ঘটনার পর মায়ার শ্বশুর, শাশুড়ি আর ননদকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়। কিন্তু আরশকে কখনো আর দেখা যায়নি। তবে লোকমুখে শোনা যায়, মায়ার খুনের আগের দিন রাতে আরশকে গ্রামে দেখে কিছু মানুষ...
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।
বাবা, তুমি কোন মাটি দিয়ে গড়া কী করে এত সংগ্রাম করো দুঃখ, কষ্ট, জ্বালা? দিনের পরে দিন কেটেছে তোমার অনাহারে তবুও তুমি মিটিয়েছে সাধ কত না যতন করে! পরনে তোমার একখানা ধুতি জীর্ণ-শীর্ণ দেহ আমারে দিয়াছ রাজার পোশাক বুঝিতে পারেনি কেহ। হয়তো আমারে চড়াতে পারোনি চার চাকার ওই গাড়ি কিন্তু তোমার কাঁধেতে চড়ে দিয়েছি হাজার রাস্তা পাড়ি।
জুলাই এসেছিল মুক্তির গান অন্যায়ের বিরুদ্ধে লাখো প্রাণ ছাত্র-শ্রমিক, কৃষক-জনতা বুকে ধারণ করেছিল সমতার বারতা। স্বপ্ন ছিল দুর্নীতি যাবে চাঁদাবাজির অবসান হবে ন্যায়বিচারে গড়বে দেশ মানুষ পাবে শান্তির রেশ। ক্ষমতা বদলেছে, বদলায়নি চিত্র নতুন মুখে পুরোনো চরিত্র অর্থনীতির বেহাল দশা মানুষের মনে জমে হতাশা। তবে কি এটাই মুক্তির দেশ কোথায় স্বপ্ন, কোথায় পরিবেশ? আজ মানুষের মুখে একটাই বাণী ‘আগেই তো ভালো ছিলাম!’ জুলাই, তোমার আত্মত্যাগের ঋণ শোধ হবে কবে, জাগবে কি দিন?
ব্যালট, সিল নিয়ে প্রস্তুত হও শহরে নতুন ডাক এসেছে ভালোবাসার গণভোট হবে কারণ, দিনশেষে এটাই শূন্যে নেমেছে! হসপিটালে যাও, বাজারে যাও, বিদ্যালয়ে যাও সবখানে এ কেমন এআই ঢুকেছে ভালোবাসার গণভোট হবে কারণ, দিনশেষে এটাই শূন্যে নেমেছে! সত্য বলো, মিথ্যা বলো, তবু কথা বলো নিজেকে পরিবর্তনের সময় এসেছে ভারোবাসার গণভোট হবে কারণ, দিনশেষে এটাই শূন্যে নেমেছে!