Breaking news

অর্থনীতি

ছবি : সংগৃহীত
‘মিউজ’ এআই চালু করার পর মেটার শেয়ারের দাম আকাশচুম্বী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটার নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী ‘মিউজ’ চালুর পর কোম্পানিটির শেয়ারের দামে অভাবনীয় উল্লম্ফন ঘটেছে। চলতি সপ্তাহে বড় উত্থানের মধ্য দিয়ে মেটার প্রতিটি শেয়ারের দর প্রায় ৭৭৮ ডলারে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিজ্ঞাপনের ওপর মেটার অতি-নির্ভরতা কমিয়ে নতুন রাজস্ব আয়ের পথ তৈরি করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে।   গত ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর কানাডায় ১৮ ঊর্ধ্ব ব্যবহারকারীদের জন্য মিউজ উন্মুক্ত করা হয়। ব্যবহারকারীর হয়ে কেনাকাটা, ভ্রমণ বুকিং ও ই-মেইল পাঠানোর ক্ষমতাসম্পন্ন এই বহুমুখী এআই এজেন্টটি বিনামূল্যের পাশাপাশি ২০ ও ১০০ ডলারের সাবস্ক্রিপশনেও পাওয়া যাচ্ছে। চালুর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে আইফোনে এটি ১৮ লাখ বার ডাউনলোড হয়েছে, যা চ্যাটজিপিটির প্রাথমিক রেকর্ডের চেয়েও বেশি। মেটার বার্ষিক ‘কানেক্ট’ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, মিউজ শিগগিরই তাদের স্মার্ট চশমায় যুক্ত হবে এবং ওয়ালমার্টের মতো শীর্ষ বিক্রেতাদের অংশীদারত্বে কেনাকাটা থেকে কমিশন আয়ের সুযোগ তৈরি করবে। এই সাফল্যের ওপর ভর করে বিনিয়োগ ব্যাংক জেপিমরগ্যান মেটার শেয়ারের লক্ষ্যমাত্রা ৯২০ ডলারে উন্নীত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, চ্যাটজিপিটির পর মিউজই হতে পারে ভোক্তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় এআই অ্যাপ্লিকেশন।   তবে নতুন এই প্রযুক্তি ঘিরে কিছু বিতর্ক ও আস্থার সংকটও তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি অ্যামাজন তাদের প্ল্যাটফর্মে মিউজ ব্যবহারে বাধা দিয়ে অভিযোগ করেছে, মেটার এজেন্ট গ্রাহকের লগইন তথ্য সংরক্ষণ করছে—যদিও মেটা তা অস্বীকার করেছে। এছাড়া এক জরিপে দেখা গেছে, পাসওয়ার্ড সুরক্ষায় মাত্র ৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মেটার ওপর ভরসা রাখেন, যেখানে গুগলের ওপর আস্থা ৩০ শতাংশ মানুষের।   এর আগে বিভিন্ন আইনি জটিলতা এবং চলতি বছরে এআই খাতে মেটার প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের ধাক্কায় কোম্পানিটির শেয়ারে বড় পতন হয়েছিল। তবে প্রতিদিন ৩৬০ কোটির বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী থাকার সুবিধা কাজে লাগিয়ে মেটা এই সংকট কাটিয়ে উঠতে চাইছে। এখন দেখার বিষয়, মিউজের এই গতি অতীতে থ্রেডসের মতো ধীর হয়ে যায় নাকি তা মেটার দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সাফল্যে স্থায়ী রূপ নেয়।   তথ্যসূত্র : বাসস

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
প্রবাসীদের সঞ্চয় থেকে চলতি মূলধন ঋণ দেয়ার সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

তারল্য সংকট কাটাতে ব্যাংকগুলোর অফশোর ইউনিটে থাকা প্রবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রার আমানত দেশীয় ব্যাংকিং ইউনিটে স্থানান্তরের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার ৪ আগস্ট জারি করা এক সার্কুলারে জানানো হয়েছে, এই তহবিল থেকে পর্যাপ্ত জামানতের বিপরীতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন ও ভোক্তা ঋণ দেয়া যাবে।   নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থানান্তরিত এসব অর্থ দিয়ে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যবসায়ীদের স্বল্পমেয়াদি চলতি মূলধনের জোগান দেয়া যাবে। এ ছাড়া সাধারণ ব্যক্তি, প্রবাসী বা তাঁদের মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানিকেও পর্যাপ্ত জামানতের বিপরীতে ঋণ দেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   সম্প্রতি দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাওযায় ব্যাংকগুলোর অফশোর ইউনিটে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় ও তারল্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যদিকে দেশের অনেক ব্যাংক ঋণ বিতরণে তীব্র তারল্য সংকটে ভুগছে বলে অলস পড়ে থাকা এসব অর্থের যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করতেই মূলত এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।   প্রবাসীদের আমানতের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে সাধারণত উচ্চ হারে মুনাফা দিতে হয়, যা অফশোর ইউনিটে অলস পড়ে থাকলে নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যাংকগুলোকে লোকসান গুনতে হয়। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলো এসব অর্থ ঋণ হিসেবে বিতরণ করে আয় করতে পারবে এবং সেই আয় থেকে সহজেই প্রবাসীদের মুনাফা মেটাতে সক্ষম হবে।  

সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বেতন বৃদ্ধির অজুহাতে পণ্যের দাম না বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রতি এফবিসিসিআইয়ের কড়া বার্তা

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা যেন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নতুন করে না বাড়ান, সেই আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয়ে নিত্যপণ্যের মজুত, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এই কড়া বার্তা দেয়া হয়।   আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান প্রশাসক মো. ফজলুল হক। মতবিনিময় সভায় নিত্যভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, নানা খাতের ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতা, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ী এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অংশ নেন। দেশের চলমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং নতুন সরকারি বেতন স্কেল ঘোষণার ঠিক পরপরই অনুষ্ঠিত হওয়া এই সার্বিক পর্যালোচনার বৈঠকটিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার উদ্দেশে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, বাজারে বর্তমানে জিনিসপত্রের যে ঊর্ধ্বমুখী দাম, তাতে সাধারণ মানুষ এমনিতেই বেশ কষ্টের মধ্যে দিন পার করছে। এমন এক সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে কিছু মানুষের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে। এই সুযোগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যেন আগামীকাল থেকেই চাল, ডাল বা ভোজ্যতেলের দাম কেজিতে দুই থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে না দেন, সে বিষয়ে বাজারের সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।  

সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বম্বে সুইটসের মসলা, বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বিএসটিআই

নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা, বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বিএসটিআই। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিম্নমান প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তাদের এসব পণ্য না কেনার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।   বিএসটিআই জানিয়েছে, বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে মিল্ক ফ্যাটের বদলে পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। অন্যদিকে বম্বে সুইটসের হাঁসের মাংস, তেহারি, কালা ভুনা, গরুর মাংস ও মাছের মসলায় নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি মাত্রায় অ্যাশ ও লবণ পাওয়া গেছে। নিম্নমানের অন্যান্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে ‘অরুন বাঘাবাড়ী’, ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল। এসব পণ্যের বিভিন্ন রাসায়নিক মান নির্ধারিত সীমার বাইরে ছিল।   বিএসটিআই মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক জানিয়েছেন, পণ্যের মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। নকল ও ভেজাল রোধে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর ও মেয়াদ যাচাই করতে ভোক্তাদের পরামর্শ দেন।  

আগস্ট ২৭, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
গাড়ির যন্ত্রাংশের আড়ালে রেঞ্জ রোভার ও বিএমডব্লিউ আমদানি, জব্দ করেছে কাস্টমস

গাড়ির পুরোনো যন্ত্রাংশের ঘোষণা দিয়ে আনা কোটি টাকা মূল্যের চারটি বিলাসবহুল গাড়ি মোংলা বন্দরে জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। শতভাগ কায়িক পরীক্ষায় চালানটিতে রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডব্লিউ ৬৫০আই, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ ও টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেটের বড় অংশ শনাক্ত করা হয়েছে।   কাস্টমস গোয়েন্দারা জানান, আস্ত গাড়িগুলোকে সাধারণ যন্ত্রাংশ হিসেবে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না করে মাত্র তিন-চারটি বড় অংশে কেটে আনা হয়েছে, যা পরে জোড়া লাগিয়ে মূল কাঠামোতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।   প্রায় ১০ হাজার ২২০ কেজি ওজনের এই চালানে দরজা, ইঞ্জিন, গিয়ারসহ নানা যন্ত্রাংশ ঘোষণা করা হলেও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৯ জুলাই এর খালাস স্থগিত করে কাস্টমস। পরে বিআরটিএ, কুয়েটের বিশেষজ্ঞ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় গাড়ির পরিচয় ও মডেল শনাক্ত করা হয়। জানা গেছে, শনাক্ত হওয়া ২০১৭ সালের রেঞ্জ রোভার, ২০১০ সালের বিএমডব্লিউ, ২০১৬ সালের লেক্সাস ও টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট—এই চারটি গাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি।   অথচ পুরো চালানের ঘোষিত মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার, যার বিপরীতে শুল্ক-করসহ পরিশোধযোগ্য অর্থ আসে প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, খণ্ডিত অবস্থাতেও এগুলো সম্পূর্ণ গাড়ির বৈশিষ্ট্য বহন করায় সে অনুযায়ী শুল্কায়ন করা হবে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা ঠেকাতে তাদের নজরদারি ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।  

আগস্ট ২৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ প্রকল্প অনুমোদন

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৬টি নতুন এবং ৪টি সংশোধিত প্রকল্প। মোট ব্যয়ের ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি অর্থ ঋণ হিসেবে মেটানো হবে।   অনুমোদিত উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ পুনর্নির্মাণ, ১০টি মেডিক্যাল কলেজে আধুনিক হোস্টেল নির্মাণ, সেতুগুলোর স্মার্ট মেইনটেন্যান্স প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি, লালমনিরহাটে নদীভাঙন রোধ ও সীতাকুণ্ডে ফেরিঘাট শক্তিশালীকরণ। এ ছাড়া গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদার, মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, ডেসকো এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং রামু সেনানিবাসের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প পাস হয়েছে।   সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও ৯টি প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত করা হয় এবং ‘ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক একটি প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

আগস্ট ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
শেয়ারবাজারে ঋণ সুবিধার নতুন বিধিমালার চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ

শেয়ারবাজারে মার্জিন বা ঋণ সুবিধার নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত করে ১৯ আগস্ট রাতে গেজেট প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ না থাকলে মার্জিন ঋণ পাওয়া যাবে না।   ঋণের সর্বোচ্চ অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে ১:১; অর্থাৎ নিজের ১ লাখ টাকা থাকলে সর্বোচ্চ আরও ১ লাখ টাকা ঋণ মিলবে। শুধু ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারেই এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। ‘জেড’, ‘এন’, ‘জি’ ক্যাটাগরি এবং এসএমই, এটিবি ও ওটিসি প্ল্যাটফর্মের কোম্পানিগুলো এই সুবিধার সম্পূর্ণ বাইরে থাকবে।   বিধিমালায় বলা হয়েছে, জীবন বিমা ছাড়া অন্যান্য খাতের শেয়ারের ক্ষেত্রে মূল্য আয়ের অনুপাত (পিই রেশিও) ৪০-এর বেশি হলে বা শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) নেতিবাচক হলে ঋণ মিলবে না। অন্যদিকে জীবন বিমার ক্ষেত্রে প্রাইস টু বুক ভ্যালু বা পিবি রেশিও ৩-এর বেশি হলে অথবা নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) নেতিবাচক হলে তা ঋণ সুবিধার অযোগ্য হবে। এ ছাড়া নিজের টাকায় মার্জিন অযোগ্য শেয়ার কিনলে তা গ্রাহকের ইক্যুইটি হিসেবে গণ্য হবে না।   ঝুঁকি কমাতে নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, গ্রাহকের ইক্যুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নামলে ব্রোকারেজ হাউজ থেকে তাকে আগাম নোটিশ দিতে হবে এবং ২৫ শতাংশের নিচে নামলে নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করা যাবে। এ ছাড়া ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মোট বকেয়া ঋণের ২০ শতাংশের বেশি কোনো একক শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারবে না। এক বছর মেয়াদি এই মার্জিন চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নযোগ্য এবং ঋণ অনুপাত ঠিক রেখে গ্রাহকরা যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন।  

আগস্ট ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় নতুন আইনের খসড়া

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ‘বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ইতোমধ্যে খসড়াটি প্রকাশ করেছে। বর্তমানে এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাই ও নীতিগত পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তথ্যসূত্র : বাসস   প্রস্তাবিত এই আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডকে (সিএমএসএফ) একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই আইন কার্যকর হলে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা নগদ লভ্যাংশ, বোনাস ও রাইটস শেয়ার, রিফান্ড অর্থ ও আইপিওর অনাদায়ী অর্থ ফান্ডের অধীনে পরিচালিত হবে। তবে প্রকৃত মালিক বা তাঁদের উত্তরাধিকারীরা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে এসব সম্পদ পুনরায় ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন।   নতুন আইনটির ফলে সিএমএসএফ একটি আধুনিক নগদ লভ্যাংশ বিতরণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নগদ লভ্যাংশ বিতরণ প্রক্রিয়া আরও ডিজিটাল, স্বচ্ছ ও কেন্দ্রীভূত হবে। বিনিয়োগকারীরা একই প্ল্যাটফর্ম থেকে তাঁদের প্রাপ্ত লভ্যাংশ এবং উৎসে কর কর্তনের সম্পূর্ণ চালান ও সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন, যা কর সংক্রান্ত বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতাকে অনেক সহজ করে তুলবে।   ফান্ডের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে দৈনন্দিন কাজ পরিচালিত হবে। পাশাপাশি তদারকির জন্য বিভিন্ন আর্থিক ও পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ একটি শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফান্ডের সুষ্ঠু পরিচালনায় নিয়মিত নিরীক্ষা ও বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের আইনি বাধ্যবাধকতাও থাকছে। এ ছাড়া তথ্য গোপন, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান বা ফান্ডের সম্পদ অপব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির সুস্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। নতুন আইনটি কার্যকর হলে বিদ্যমান ২০২১ সালের বিধিমালা বাতিল হয়ে যাবে।   খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এই আইন দেশের পুঁজিবাজারে সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ বিষয়ে সিএমএসএফের অপারেশন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওয়াসি আজম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, প্রস্তাবিত আইনটি কার্যকর হলে অব্যবহৃত বিনিয়োগকারীর সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে এবং পুরো ব্যবস্থাটি ডিজিটাল ও স্বচ্ছ হওয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।  

আগস্ট ২, ২০২৬ 0
দশ বছর পর চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে চাইনিজ ইকোনমিক জোনের নির্মাণকাজ

প্রায় দশ বছর  অপেক্ষার পর অবশেষে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বহুল আলোচিত চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে। ২৭ জুলাই সকাল ১০টায় প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এর বাস্তবায়ন শুরু হতে চলেছে। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগের আওতায় প্রায় ৮০০ একর জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল। সংশ্লিষ্টদের মতে, এখানে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম বন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিক সুবিধার দিক থেকে জোনটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ী নেতারা জানান, এই বিশেষায়িত অঞ্চলে পোশাকশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও অ্যাকসেসরিজ উৎপাদিত হলে চীনের ওপর আমদানিনির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনি উৎপাদন ব্যয়ও হ্রাস পাবে। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের পর প্রকল্পটিতে নতুন করে গতি এসেছে। ইতোমধ্যে ৩০টির বেশি চীনা প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রকল্পটির সহায়ক অবকাঠামো যেমন জেটি, চার লেনের সংযোগ সড়ক, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা নির্মাণে গত ১৬ জুন একনেক ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে চীন সরকার ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে। ২০১৪ সালে প্রথম সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর দীর্ঘসূত্রতা ও নানা জটিলতা কাটিয়ে আলোর মুখ দেখা এ প্রকল্পের কাজ ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।  

জুলাই ২৬, ২০২৬ 0
২০২৬ সালে এলডিসি উত্তরণ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে : সরকারি প্রতিবেদন

অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক বহুমুখী সংকটে থাকা বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটালে চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে সরকারি এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসুবিধা হারানো, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মতো বিষয়গুলো এই চলমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল উত্তরণের সময়সীমা ২০২৯ সাল পর্যন্ত পেছানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছে। আসন্ন জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) বৈঠক সামনে রেখে অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (সিডিপি) বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণ তিন বছর স্থগিত করার সুপারিশ করেছে, যা এখন সাধারণ পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া মেধাস্বত্ব সুবিধা বাতিল হলে দেশে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি তৈরি পোশাকে শ্রম অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান তদন্তের কারণে দেশটির বাজারেও শুল্ক জটিলতা তৈরি হতে পারে। দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতিও বেশ চাপে রয়েছে। ২০২২ সাল থেকে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে থাকায় দারিদ্র্যের হার বাড়ছে এবং ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তেলের আমদানি ব্যয় ৭২ শতাংশ ও সারের ব্যয় ৪৪ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় রিজার্ভে টান পড়েছে। বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ এবং রোহিঙ্গা সংকটের কারণে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। এই অস্থিতিশীল অর্থনীতিকে স্বাভাবিক পথে ফিরিয়ে আনতে এবং একটি মসৃণ এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে অন্তত আরও কয়েক বছর প্রস্তুতির সময় প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে জোর দেওয়া হয়েছে।

জুলাই ২২, ২০২৬ 0
বাংলা কিউআর লেনদেন সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করবে : গভর্নর

বাংলা কিউআর (Bangla QR) ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, এর ফলে নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন যেমন কমবে, তেমনি জাল ও ছেঁড়া নোটের ভোগান্তি থেকেও মুক্তি মিলবে। সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ‘বাংলা কিউআর রিলস মেকিং’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গভর্নর জানান, গত ১ জুলাই থেকে দেশের লেনদেনে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা একটি অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহার করে যেকোনো স্থান থেকে সহজে অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন। এটি একদিকে যেমন লেনদেনের গতি বাড়াবে, অন্যদিকে আর্থিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে। অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশেও দ্রুত বাড়ছে। সব ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানকে গ্রাহকদের জন্য বাংলা কিউআরের ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশের লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও নগদ অর্থনির্ভরতামুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। উল্লেখ্য, বাংলা কিউআর সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এর ব্যবহার জনপ্রিয় করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এই রিলস মেকিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত ১০ জন বিজয়ীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

জুলাই ২২, ২০২৬ 0
পানিসংকটে দুর্ভোগে পড়েছেন ঈশ্বরদীর পাটচাষিরা
পানিসংকটে জাগ দিতে না পেরে দুর্ভোগে পড়েছেন ঈশ্বরদীর পাটচাষিরা

বর্ষার মৌসুমেও প্রয়োজনীয় পানি ও উপযুক্ত জলাশয়ের অভাবে কাটা পাট জাগ দিতে পারছেন না ঈশ্বরদীর পাটচাষিরা। এ কারণে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের।   ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীতে প্রধানত তোষা ও দেশি জাতের পাট চাষ হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৫৯ হেক্টর। তবে গত বছর পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বেড়ে যায়। ফলে এবার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ বিনামূল্যে উন্নত জাতের পাটবীজ ও সার বিতরণ করেছে।   উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারী গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, “এবার ১০ বিঘা জমিতে তোষা পাট চাষ করেছি। চার বিঘার পাট ইতোমধ্যে কেটেছি। কিন্তু জাগ দেয়ার মতো কোনো জায়গা পাচ্ছি না। পানি না থাকায় পাট নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি।”   অরণকোলা এলাকার কৃষক মো. মিজানুর বলেন, “আগে গ্রামের বিভিন্ন ডোবা-খালে সহজেই পাট জাগ দেয়া যেত। এখন অধিকাংশ জায়গা মাছ চাষের পুকুরে রূপ নিয়েছে। ফলে পাট পচানোর মতো জলাশয় খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে।”   দিনমজুর কাদের আলী জানান, পাট কাটার পর কয়েক দিন জমিতে স্তূপ করে রেখে পাতা ঝরানো হয়। এরপর পানিতে ডুবিয়ে জাগ দিতে হয়। কিন্তু পানি না থাকায় কাটা পাট জমিতেই পড়ে আছে। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও জাগ দেয়ার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না।   ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, “এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছি। বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে কৃষকরা লাভবান হবেন। কৃষকদের উৎসাহ দিতে ১০০ জন কৃষকের মধ্যে উন্নত জাতের পাটবীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।”   তিনি আরও বলেন, “মাছ চাষের পুকুরে পাট জাগ দেয়া উপযুক্ত নয়। তাই কৃষকদের বাড়ির আশপাশের পরিত্যক্ত বা বুজে যাওয়া পুকুর এবং সরকারের খনন করা খালগুলো ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এসব জলাশয় পাট পচানোর জন্য তুলনামূলকভাবে উপযোগী।”    

জুলাই ২১, ২০২৬ 0
সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সরকারের বড় উদ্যোগ: লক্ষ্য ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতি বা ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বিকাশে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই খাতের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে জিডিপির অবদান ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি প্রায় ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সদ্য পাস হওয়া ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ স্থাপন করা হবে। এসব হাবে সাংস্কৃতিক মঞ্চ, সিনেপ্লেক্স এবং স্থানীয় পণ্যের বিপণন ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া ‘একটি গ্রাম-একটি পণ্য’ উদ্যোগের আওতায় মৃৎশিল্প, তাঁত, নকশিকাঁথাসহ দেশীয় পণ্যের প্রসার ঘটানো হবে। বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা জানান, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে গ্রামীণ তরুণদের দক্ষতা কাজে লাগালে বিপুল উদ্যোক্তা তৈরি হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন মনে করেন, দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক হাব গড়ে উঠলে শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য আয়ের নতুন পথ উন্মুক্ত হবে। এ খাতের প্রান্তিক উদ্যোক্তারাও সহজ শর্তে ও বিনা জামানতে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সরকারের বড় উদ্যোগ: লক্ষ্য ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান

ধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতি বা ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বিকাশে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই খাতের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে জিডিপির অবদান ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি প্রায় ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সদ্য পাস হওয়া ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ স্থাপন করা হবে। এসব হাবে সাংস্কৃতিক মঞ্চ, সিনেপ্লেক্স এবং স্থানীয় পণ্যের বিপণন ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া ‘একটি গ্রাম-একটি পণ্য’ উদ্যোগের আওতায় মৃৎশিল্প, তাঁত, নকশিকাঁথাসহ দেশীয় পণ্যের প্রসার ঘটানো হবে। বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা জানান, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে গ্রামীণ তরুণদের দক্ষতা কাজে লাগালে বিপুল উদ্যোক্তা তৈরি হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন মনে করেন, দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক হাব গড়ে উঠলে শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য আয়ের নতুন পথ উন্মুক্ত হবে। এ খাতের প্রান্তিক উদ্যোক্তারাও সহজ শর্তে ও বিনা জামানতে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম বন্দরের ‘বে টার্মিনাল’ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রস্তাবিত ‘বে টার্মিনাল’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে তা অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, এই টার্মিনাল চালু হলে বন্দরে সরাসরি বড় মাদার ভেসেল ভিড়তে পারবে, যার ফলে আমদানি-রপ্তানির পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। একই সঙ্গে বন্দরকেন্দ্রিক কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর বিচার করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সংসদ অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বন্দরটিকে দেশের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, রাষ্ট্রীয় সম্পদের কোনো ধরনের অপচয় রোধে সরকার বদ্ধপরিকর। নাব্যতা সংকটের কারণে বর্তমানে বড় জাহাজগুলো সরাসরি বন্দরে আসতে পারে না। বে টার্মিনাল নির্মিত হলে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে, যা দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
ঋণনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশকে একটি ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের করে পুরোপুরি বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি জানান, আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ, ব্লু-ইকোনমি ও ইকো-ট্যুরিজম খাতে ২০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানি আরও সহজ ও কার্যকর করতে যুবসমাজের জন্য চাহিদাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা, বিভিন্ন ভাষা শেখানো এবং যুগোপযোগী কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও দুর্বল অর্থনীতির মধ্যেও দেশ ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সব বাধা দূর করে তরুণ ও উদ্যোক্তাদের কাজে লাগানোর মাধ্যমেই একটি প্রত্যাশিত ও টেকসই বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা আনতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে টিসিবি

সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডকে অন্যান্য সরকারি সেবার সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি পণ্য বিতরণের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিসিবির কার্যক্রম মূল্যায়ন সভায় এআইভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণের একটি রূপরেখা নিয়ে এসব আলোচনা হয়। সভায় বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান বলেন, দরপত্রে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়লে বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য কমবে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। এজন্য দেশি-বিদেশি বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে নির্ভুল ব্যয় প্রাক্কলনের ওপর তিনি জোর দেন। এআই প্রযুক্তি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে শিগগিরই একটি কমিটি গঠন করা হবে। অন্যদিকে, ভোক্তাদের চাহিদা মেটাতে টিসিবির পণ্য তালিকায় আরও নতুন সামগ্রী যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়সল আজাদ।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
Popular post
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শে আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক সংবেদনশীলতা, ইতিবাচক চিন্তার শিক্ষা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা

আধুনিক মনোবিজ্ঞানে ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ বা আবেগিক বুদ্ধিমত্তা ধারণাটি তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক। ১৯৯০-এর দশকে মনোবিজ্ঞানী পিটার স্যালোভি ও জন মেয়ার এ তত্ত্বের গোড়াপত্তন করেন। পরবর্তী সময়ে ড্যানিয়েল গোলম্যানের গবেষণার মাধ্যমে তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। গোলম্যানের কাঠামো অনুযায়ী আবেগিক বুদ্ধিমত্তার পাঁচটি মূল স্তম্ভ চিহ্নিত করা হয় : আত্মসচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, অভ্যন্তরীণ প্রেষণা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দক্ষতা। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এ ধারণার মূল উপাদানগুলো মানবসভ্যতার ইতিহাসে বহু আগে থেকেই আদর্শ চরিত্র ও কার্যকর নেতৃত্বের অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। কেবল এত দিন তাত্ত্বিক কাঠামোয় নামকরণ হয়নি।   মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাচরণে এই গুণাবলির এক সমন্বিত ও ব্যবহারিক রূপ বিদ্যমান, যা সমসাময়িক ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব ও মনোবিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত। সমসাময়িক মনোবিজ্ঞান ও নেতৃত্ববিষয়ক আলোচনায় আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক বুদ্ধিমত্তা, সহমর্মিতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সচেতনতা, সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ও ইতিবাচক চিন্তা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তবে এই পরিভাষাগুলো আধুনিক হলেও মহানবি (সা.)-এর জীবনাচরণে এগুলোর বাস্তব ও গভীর প্রয়োগ বহু শতাব্দী আগেই প্রতিফলিত হয়েছিল।   আবেগিক বুদ্ধিমত্তার একটি কেন্দ্রীয় দিক হলো তীব্র মানসিক চাপের মুহূর্তে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে চিন্তাশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নবি করিম (সা.) তাঁর আবেগ নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শন করতেন। মক্কা বিজয়ের সময় সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ঘটনা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বহু বছরের নিপীড়ন, অবরোধ ও যুদ্ধের ইতিহাস সত্ত্বেও প্রতিহিংসার পরিবর্তে সংহতি ও সহাবস্থানের নীতি গ্রহণ করেছিলেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়ায় আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেয়ার একটি কৌশলগত দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, যা নেতৃত্বতত্ত্বের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।   সাংগঠনিক আচরণবিজ্ঞানে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে প্রায়ই ‘ইমোশনাল রেগুলেশন ইন হাই-স্টেকস লিডারশিপ’ বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ নেতৃত্বে আবেগ নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়, যেখানে তাৎক্ষণিক আবেগীয় তাড়নার বদলে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলের কথা বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁর আত্মনিয়ন্ত্রণের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। সন্তান হারানোর শোক, নিকটাত্মীয় বিয়োগ কিংবা অনুসারীদের ভুল-ত্রুটির মুখোমুখি হয়েও তিনি ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতেন বলে হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ পাওয়া যায়। আবেগ প্রকাশে সংযম, অথচ আবেগকে সম্পূর্ণ দমন না করা, এই দ্বৈত ভারসাম্য আধুনিক মনোবিজ্ঞানে ‘ইমোশনাল রেগুলেশন’ এবং ‘ইমোশনাল সাপ্রেশন’-এর মধ্যকার পার্থক্য বোঝার ক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্ত হতে পারে।   সামাজিক বুদ্ধিমত্তার একটি মূল উপাদান হলো ভিন্ন সামাজিক অবস্থান ও প্রেক্ষাপটের মানুষের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক স্থাপনের দক্ষতা। নবি করিম (সা.) দাস, শিশু, নারী, বয়োজ্যেষ্ঠ ও ভিন্নধর্মাবলম্বী সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে তাদের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সংবেদনশীলভাবে আচরণ করতেন। প্রতিবেশীর অধিকার, অতিথি আপ্যায়ন এবং পারস্পরিক পরামর্শ বা ‘শূরা’র নীতির ওপর তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপ এই সামাজিক সংবেদনশীলতারই প্রতিফলন বলে গবেষকরা মনে করেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পরামর্শের ভূমিকা। বদরের যুদ্ধের অবস্থান নির্বাচন থেকে শুরু করে উহুদের যুদ্ধকৌশল পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি অনুসারীদের মতামত গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি ব্যক্তিগত মত ভিন্ন হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।   সাংগঠনিক নেতৃত্বতত্ত্বে এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়াকে ‘পার্টিসিপেটিভ লিডারশিপ’ বলা হয়। যেখানে নেতা তাঁর কর্তৃত্ব বজায় রেখেও অধস্তনদের মতামতকে মূল্য দেন; এবং এর মাধ্যমে সংগঠনের মধ্যে আস্থা ও সংশ্লিষ্টতার অনুভূতি তৈরি করেন। মদিনা সনদ, ইতিহাসে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন লিখিত সংবিধান হিসেবে স্বীকৃত, ছিল এই সামাজিক দক্ষতারই একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহাবস্থানের একটি কাঠামো তৈরি করে তিনি বহুত্ববাদী সমাজ পরিচালনায় সংলাপ ও সমঝোতার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন, যা সমকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সংঘাত-নিরসন তত্ত্বের দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। এই সনদে বিভিন্ন পক্ষের অধিকার ও দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার মাধ্যমে একটি বহু-সাংস্কৃতিক নগর-রাষ্ট্র পরিচালনার যে কাঠামো তৈরি হয়েছিল, তা আধুনিক ‘কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন’ বা সংঘাত-নিরসন তত্ত্বের অনেক মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।   সহমর্মিতার আরেকটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় তাঁর দৈনন্দিন আচরণে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি তাঁর মনোযোগ, রোগীর সেবা এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা শোনার আগ্রহের মধ্যে। এই আচরণ কেবল ব্যক্তিগত সদাচরণের প্রকাশ নয়, বরং একধরনের সক্রিয় শ্রবণ বা ‘অ্যাক্টিভ লিসেনিং’-এর দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে, যা আধুনিক যোগাযোগ তত্ত্বে সম্পর্ক নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে স্বীকৃত।   তায়েফের ঘটনা মহানবি (সা.)-এর আবেগিক নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমাশীলতা ও ভবিষ্যৎমুখী ইতিবাচক চিন্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তায়েফে তিনি প্রত্যাখ্যাত, অপমানিত ও নির্যাতিত হন। শারীরিক নির্যাতন ও অপমানের শিকার হয়েও প্রতিশোধের পরিবর্তে তিনি ধৈর্য ও ক্ষমার পথ বেছে নেন। সহিহ আল-বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, পাহাড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা তাঁকে তাঁর নির্যাতনকারীদের ওপর দুই পাহাড় চাপিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন। প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। আশা করেন যে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্য থেকে এমন মানুষ জন্ম নেবে, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে। এখানে ক্ষমার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। এ ঘটনা কেবল ধর্মীয় সহনশীলতার উদাহরণ নয়, বরং তীব্র মানসিক চাপের মুহূর্তে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার একটি বাস্তব নজির, যাকে আধুনিক পরিভাষায় ‘স্ট্রেস রেগুলেশন’ বা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ বলা যেতে পারে।   এক বেদুঈন মসজিদের ভেতর প্রস্রাব করতে শুরু করলে সাহাবিরা তাঁকে থামাতে উদ্যত হন। কিন্তু মহানবি (সা.) তাঁদের বিরত করেন এবং পরবর্তী সময়ে জায়গাটি পানি দিয়ে পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। তিনি ভুলটিকে সমর্থন করেননি; বরং ভুলকারী ব্যক্তির অজ্ঞতা ও সামাজিক অবস্থাকে বিবেচনায় নিয়েছিলেন। মূল শিক্ষা হলো : অজ্ঞতার চিকিৎসা অপমান নয়, শিক্ষা।   আধুনিক সমাজে মানুষ প্রায়ই ভুল এবং ভুলকারীকে একইভাবে বিচার করে। একটি ভুলের ভিত্তিতে পুরো ব্যক্তিত্বকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। নববি পদ্ধতি ছিল ভিন্ন। ভুল সংশোধন করতে হবে, কিন্তু এমনভাবে, যাতে মানুষের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে এবং তার ফিরে আসার পথ বন্ধ না হয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নীতি প্রয়োগ করা হলে বহু অপ্রয়োজনীয় সংঘাত ও সম্পর্কভাঙন এড়ানো সম্ভব। উহুদের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতেও মহানবি (সা.)-এর নেতৃত্বে আবেগিক ও সামাজিক প্রজ্ঞার উজ্জ্বল উদাহরণ দেখা যায়। কিছু সাহাবির সিদ্ধান্তের কারণে গুরুতর বিপর্যয় ঘটেছিল। মহানবি (সা.) নিজেও আহত হয়েছিলেন। কিন্তু সুরা আলে ইমরান ৩:১৫৯-এ তাঁকে তাঁদের প্রতি কোমল থাকতে, ক্ষমা করতে, তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ অব্যাহত রাখতে বলা হয়। এখানে নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রকাশিত হয়েছে।   একজন অনুসারী ভুল করলেই তার মর্যাদা ও অংশগ্রহণের অধিকার চিরতরে নষ্ট হয়ে যায় না। বরং কার্যকর নেতৃত্ব মানুষের ভুল সংশোধন করে তাকে পুনরায় দায়িত্বশীল অংশগ্রহণে ফিরিয়ে আনে। মহানবি (সা.)-এর নেতৃত্ব তাই শুধু শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তা মানুষের পুনর্গঠন, আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।   তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রকৃত গভীরতা সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝা যায় কাছের মানুষের সাক্ষ্যে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) প্রায় দশ বছর মহানবি (সা.)-এর সেবায় ছিলেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময়ে মহানবি (সা.) তাঁকে কোনো কাজ করা বা না করার জন্য অপমানজনক ভঙ্গিতে প্রশ্ন করেননি। এই সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জনসমক্ষে ভদ্র থাকা তুলনামূলকভাবে সহজ, কিন্তু যারা নিকটবর্তী, অধীনস্থ বা প্রতিদিনের সম্পর্কের অংশ, তাদের সঙ্গে আচরণই ব্যক্তির প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করে।   আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনাতেও পাওয়া যায় যে মহানবি (সা.) ব্যক্তিগত কারণে প্রতিশোধ নিতেন না এবং কোনো নারী বা খাদেমকে হাতে আঘাত করেননি। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোমলতা বজায় রাখা তাঁর নৈতিক ও আবেগিক পরিপক্বতার একটি উল্লেখযোগ্য দিক। শিশুদের প্রতি তাঁর আচরণ সামাজিক সংবেদনশীলতার আরেকটি মানবিক উদাহরণ। আনাস (রা.)-এর ছোট ভাই আবু উমাইরের একটি পাখি ছিল এবং মহানবি (সা.) তাঁর সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন ও পাখিটির খবর নিতেন। রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, ধর্মীয় ও বিচারিক অসংখ্য দায়িত্বের মধ্যেও একটি শিশুর ক্ষুদ্র আনন্দ ও দুঃখ তাঁর কাছে গুরুত্ব হারায়নি।   মহানবি (সা.)-এর সামাজিক বুদ্ধিমত্তা ধর্মীয় ভিন্নতার ক্ষেত্রেও মানবিক মর্যাদার প্রতি গভীর সম্মান প্রকাশ করে। একজন ইহুদি ব্যক্তির জানাজা অতিক্রম করার সময় তিনি উঠে দাঁড়ান। তাঁকে জানানো হলো যে মৃত ব্যক্তি ইহুদি। তিনি প্রশ্ন করেন, “সে কি একটি প্রাণ নয়?” এই সংক্ষিপ্ত ঘটনায় একটি সর্বজনীন মানবিক নীতি নিহিত রয়েছে। ধর্মীয়, সামাজিক বা রাজনৈতিক মতপার্থক্য মানুষের মৌলিক মর্যাদা অস্বীকারের কারণ হতে পারে না।   বর্তমান বিভক্ত বিশ্বে এই শিক্ষা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামাজিক মেরুকরণ প্রায়ই মানুষকে এমন অবস্থায় নিয়ে যায়, যেখানে নিজের দলের মানুষের কষ্টকে গুরুত্ব দেয়া হয়, কিন্তু ভিন্ন পরিচয়ের মানুষের কষ্টকে উপেক্ষা করা হয়। এ কারণেই মানুষ মহানবি (সা.)-এর পাশে নিজেদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ মনে করত। ভুল করলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে, কষ্ট পেলে তিনি শুনবেন, দুর্বল হলে অপমান করবেন না, শিশু হলে অবহেলা করবেন না, অধীনস্থ হলে মর্যাদা কমবে না এবং ভিন্ন বিশ্বাসের হলেও মানবিক অস্তিত্ব অস্বীকার করা হবে না। এই নিরাপত্তাবোধ তাঁর নেতৃত্বের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য ছিল। কোরআনের ভাষায়, তিনি যদি রূঢ় ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, মানুষ তাঁর চারপাশ থেকে সরে যেত। ফলে নববি নেতৃত্বের অন্যতম শিক্ষা হলো : মানুষ শুধু শক্তিশালী নেতার অনুসারী হয় না, তারা সেই নেতার প্রতি আস্থাশীল হয়, যার কাছে তাদের মর্যাদা নিরাপদ।   কোরআন মহানবি (সা.)-এর এই মানবিক ও আবেগিক চরিত্রকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে তুলে ধরে। সুরা আত-তাওবা ৯:১২৮-এ বলা হয়েছে যে, মানুষের কষ্ট তাঁর কাছে অত্যন্ত কষ্টকর ছিল, তিনি মানুষের কল্যাণকামী এবং মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল ও দয়ালু ছিলেন। এ বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, তাঁর সহমর্মিতা ছিল শুধু নৈতিক বক্তব্য নয়; বরং তা তাঁর নেতৃত্ব ও সামাজিক সম্পর্কের মৌলিক ভিত্তি ছিল। অন্যের দুর্দশা, ব্যথা ও দুর্বলতার প্রতি সংবেদনশীলতা তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। মহানবি (সা.)-এর আবেগিক বুদ্ধিমত্তার আরেকটি কেন্দ্রীয় দিক ছিল আত্মসংযম। তিনি শক্তির প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেন। সহিহ আল-বুখারির হাদিসে তিনি বলেন, প্রকৃত শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং সে, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই বক্তব্য মানবিক আত্মনিয়ন্ত্রণের গভীর তাৎপর্য প্রকাশ করে।   নববী দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রকৃত শক্তি হলো আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। মক্কিজীবনের প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিক বয়কট, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতির মুখেও নবুয়তি দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকা এবং অনুসারীদের মধ্যে আশাবাদ সঞ্চার করার প্রবণতা আধুনিক মনোবিজ্ঞানের ‘রেজিলিয়েন্স’ বা প্রতিরোধ-সক্ষমতা ধারণার সঙ্গে তুলনীয়। বদর ও উহুদের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনায়ও তিনি হতাশার পরিবর্তে ভবিষ্যৎমুখী পুনর্গঠনের নীতি অনুসরণ করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক বিবরণ থেকে জানা যায়।   হিজরতের সময়কার একটি বহুল-উদ্ধৃত ঘটনাও এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ। সাওর গুহায় আশ্রয় নেয়ার সময় শত্রুপক্ষের নিকটবর্তী উপস্থিতি সত্ত্বেও তিনি তাঁর সহচরকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। এ ঘটনা চরম অনিশ্চয়তার মুহূর্তেও স্থিতধী মনোভাব বজায় রাখার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। ইতিবাচক মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘কগনিটিভ রিফ্রেমিং’ বলা যেতে পারে। অর্থাৎ একই পরিস্থিতিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করে মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই ইতিবাচক মনোভাব কোনো নিষ্ক্রিয় আশাবাদ নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। শত্রুরা তাঁদের খুঁজছিল এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।   আবু বকর (রা.) উদ্বিগ্ন হলে মহানবি (সা.) বলেন, “চিন্তিত হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।” ( সুরা আত-তাওবা ৯:৪০) এখানে তিনি বাস্তব বিপদকে অস্বীকার করেননি, বরং বিপদের মাঝেও আল্লাহর সাহায্যের প্রতি আস্থা বজায় রেখেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি শেখায় যে জীবনের কোনো একটি সংকটকে সমগ্র ভবিষ্যতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খননের কৌশল গ্রহণ কিংবা মদিনায় অভিবাসনের পর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ।   এসব দৃষ্টান্ত থেকে বোঝা যায়, তাঁর আশাবাদ বাস্তবতাবিবর্জিত ছিল না, বরং কার্যকর পরিকল্পনার সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এই সমন্বয়কে আধুনিক ব্যবস্থাপনা-তত্ত্বে ‘রিয়েলিস্টিক অপটিমিজম’ বা বাস্তবতাভিত্তিক আশাবাদ বলা হয়, যেখানে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবতা-বিচ্ছিন্ন না হয়ে কার্যকর পদক্ষেপের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই আবেগিক ও সামাজিক প্রজ্ঞার সঙ্গে মহানবি (সা.)-এর ইতিবাচক চিন্তা গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাঁর জীবন পিতৃহীনতা, মাতৃহীনতা, প্রিয়জন হারানো, সামাজিক বর্জন, উপহাস, নির্যাতন, যুদ্ধ ও বিরোধিতায় পরিপূর্ণ ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি তিক্ত, প্রতিহিংসাপরায়ণ বা হতাশ হয়ে যাননি। মানুষের পরিবর্তনের সম্ভাবনায় বিশ্বাস রেখেছেন। চাকরি হারানো, পরীক্ষায় ব্যর্থতা বা আর্থিক সংকট এসব জীবনের কঠিন অধ্যায় হতে পারে। কিন্তু পুরো জীবন নয়।   মহানবি (সা.) আশাব্যঞ্জক কথাও পছন্দ করতেন। সহিহ হাদিসে তাঁর ভালো, সুন্দর ও আশাজাগানিয়া কথা পছন্দ করার কথা এসেছে। এর তাৎপর্য হলো, ভাষা মানুষের মনোবল ও আচরণে প্রভাব ফেলে। ‘তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না’ এবং ‘ভুল হয়েছে, কিন্তু চেষ্টা করলে উন্নতি সম্ভব’ এ দুই ধরনের বক্তব্য একই বাস্তবতার প্রতি সম্পূর্ণ ভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। নববি ইতিবাচকতা এমন ভাষার ব্যবহার করে, যা মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি ও পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে অক্ষুণ্ন রাখে। একই সঙ্গে এই ইতিবাচকতা কোনো কৃত্রিম আবেগ-দমন ছিল না।   মহানবি (সা.) কেঁদেছেন। শোক প্রকাশ করেছেন। মানুষের আচরণে কষ্ট পেয়েছেন এবং উম্মতের জন্য উদ্বিগ্ন হয়েছেন। ফলে দুঃখ অনুভব করা বা কান্না করা ইমানের দুর্বলতার প্রমাণ নয়। একজন মানুষ একই সঙ্গে কষ্ট অনুভব করতে পারে এবং আল্লাহর ওপর আস্থাও রাখতে পারে। সামগ্রিকভাবে মহানবি (সা.)-এর আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক প্রজ্ঞা এবং ইতিবাচক চিন্তা একটি সমন্বিত মানবিক দর্শন নির্মাণ করে। এ দৃষ্টিভঙ্গির সারকথা হলো : মানুষের হৃদয় জয় করতে তাকে পরাজিত করার প্রয়োজন নেই। তাকে বোঝা প্রয়োজন। মানুষের ভুলের মধ্যেও সম্ভাবনা দেখতে হবে। কষ্টের মধ্যেও আশা রাখতে হবে। ভয়ের মধ্যেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। অশ্রুর মধ্যেও পথচলা অব্যাহত রাখতে হবে। এই শিক্ষা শেষ পর্যন্ত কোরআনের সেই গভীর ঘোষণার সঙ্গে সংযুক্ত হয় : মহানবি (সা.) বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর শক্তির গভীরে ছিল দয়া। তাঁর নেতৃত্বের কেন্দ্রে ছিল মানুষের হৃদয়। তাঁর ইতিবাচকতার কেন্দ্রে ছিল আল্লাহর ওপর আস্থা।   আধুনিক সমাজে যেখানে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও সহমর্মিতার ঘাটতি রয়েছে, সেখানে তাঁর জীবন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রকৃত প্রজ্ঞা হলো ক্ষমতার মধ্যেও কোমল থাকা। কষ্টের মধ্যেও ন্যায়বান থাকা। ক্রোধের মধ্যেও আত্মসংযমী থাকা। মানুষের ভুলের মধ্যেও তার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎকে দেখতে শেখা। বর্তমান কর্মক্ষেত্র ও সমাজে নেতৃত্বের সংকট, মানসিক চাপ ও আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্কের জটিলতা ক্রমবর্ধমান একটি আলোচ্য বিষয়। বিশ্বজুড়ে ব্যবস্থাপনা-শিক্ষায় ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘রেজিলিয়েন্স’ এখন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এবং বহু প্রতিষ্ঠান নেতৃত্ব-উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই দক্ষতাগুলোকে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমান বা তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে। বাংলাদেশসহ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পারিবারিক পরিমণ্ডল ও কর্মক্ষেত্রে নৈতিক নেতৃত্বের আদর্শ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঐতিহাসিক-বিশ্লেষণাত্মক পাঠ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।  

চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

সেবিকা

বয়সটা নিতান্তই বাল্যকাল। শখের প্রিয় টেপা পুতুলঘোড়ার খেলনাগুলো এক পাশে রেখে যখন থার্মোমিটার, রক্তচাপ মান যন্ত্রাংশের স্পর্শতা পেয়েছিল, ঢের বুঝেছিলাম একদিন সু-বিশালতার আদর্শ সেবিকা হব।   হঠাৎ অগোচরে বাবার শরীর কাঁপুনিতে জ্বরের আগমনী বার্তা। মনের উদ্দীপ্ত একাগ্রতা চিত্তের আকুলতায় সেবিকা আদর্শে স্পর্শ ছোঁয়ায় অনবদ্য মাধুর্যতা। স্নিগ্ধতায় মস্তকে হাত বুলিয়ে বাবার পরশমণির মৃদু হাসির আড়ালে এক উচ্চারিত প্রতিধ্বনি, “অনেক বড় হও মা। সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনার আলোয় আলোকিত করো প্রতিটি জীবের শুদ্ধতার পবিত্র অন্তর।” এই উচ্চারিত প্রতিধ্বনি কেবল এক নিচ্ছুক শব্দ নয়, জীবনবৃত্তান্তে বেড়ে ওঠা স্বপ্ন পূরণের বহিঃপ্রকাশ।   বাংলার সবুজ দিগন্তে প্রকৃতির নিবিড়য়তায় স্বপ্নগুলো আমার একান্তই সঙ্গী। সন্ধ্যা আঁধারে ঝিঁঝি পোকার আলোই বয়ে চলা নিঃসঙ্গতা নদীপথ। নিদ্রা যাপনে কল্পনার জগৎ ভাবে ভাবান্তর অতুলনীয় স্বপ্ননীল সুন্দর।   কালবেলার দ্বিখণ্ডিত পর্বে শতাব্দীর অবসান। কত শত জীবন্ত মরুভূমি প্রান্তরে অলীক চিন্তার মোড়কে স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার। স্বপ্নসিঁড়ির যাত্রাপথে শহরতলির অভিশপ্ত নগরী আমার আবাসস্থল। ইট-পাথরের শহর গলিপথে অসহায়ত্বের শান্তিনিকেতনে আমার দিবালয় মিশনারি হাসপাতাল।    সমুদ্রের কিনারে সূর্যাস্তে ঢলে পড়া ক্লান্ত সন্ধ্যায় মুঠোফোনের ওপাশ থেকে এক শুভেচ্ছা বার্তা। এই তো এখানে জায়গা আছে। হৃদয়ের সুপ্ত গভীরতায় যে স্বপ্ন বুনেছিলাম, তার প্রতিটি অপেক্ষা পূরণের ব্যাকুলতায় সীমাহীন আনন্দ অভিমান।    পাখিডাকা ভোরের উষ্ণ শীতলতায় ওয়ান জিরো ফোর অপারেশন থিয়েটার। হাসপাতালের প্রতিটি ইট, ধূলিকণা যেন এক নির্বাক বাঁচার আকুতি। কিছু মুহূর্তে হারিয়ে গিয়েছিলাম বিষাদ সিন্ধুর একাকিত্বে। হঠাৎ দরজায় কড়া নেড়ে রুক্ষ মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে এক জীবন্ত সেবিকা। বিষণ্ন বাতাসে মৃদু হেসে বলিয়া উঠিল, “তোমার ডিউটি ওয়ান জিরো ফোর অপারেশন থিয়েটার রুম।”   বেস্ট রঙের যুগলবন্দী পোশাকের ঘ্রাণের মাধুর্যতা আমার শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় বহমান। মুহূর্তেই এক দুঃখবিলাসী জীবনের কাতরতায় অভাগীর অনুপ্রবেশ।   বাঁচার আকুতি এবং সেবা গ্রহণের প্রতীক্ষায়। আগ্রহ বাড়িয়ে হৃদয়স্পর্শী সেবা দানে সমাপ্ত হইল তাহার নিকট আমার প্রথম সেবার আত্মনিবেদন।    

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

Top week

সাহিত্য

শরৎ

অক্টোবর ২, ২০২৬ 0