পাবনার ঈশ্বরদীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। গত ১ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র সাত দিনে সরকারি হাসপাতালেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এই সাত দিনে ভর্তি হওয়া ১৫ জন রোগীর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনজন ডেঙ্গু রোগী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেবল সরকারি হাসপাতালেই নয়, উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন পাল জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ঈশ্বরদীতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেশ কয়েকজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ১ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে তিনজন ভর্তি আছেন এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। রোগীদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ডা. শোভন পাল জানান, কোনো রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন কোনো ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়নি এবং ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও পৌর এলাকায় মশা নিধনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। পৌরবাসীর অভিযোগ, মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করলেও নিয়মিত ও ফলপ্রসূ মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। অবিলম্বে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শনিবার ৩ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সারা দেশে চার দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যরাতে মাত্র ৭৫ মিনিটের ব্যবধানে মিয়ানমার, ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরায় উৎপত্তি হওয়া তিনটি মাঝারি ও মৃদু ভূকম্পন আঘাত হানে। পরবর্তী সময়ে রবিবার ভোরে রাজধানী থেকে ৪৪৩ কিলোমিটার দূরে আরেকটি কম্পন রেকর্ড করা হয়। ইএমএসসি ও সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১২টা ১২ মিনিটে মিয়ানমার সীমান্তে ৪.৯ মাত্রা এবং এক মিনিট পরই ভারতের মিজোরামে ৫.০ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ফেনীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। এরপর রাত ১টা ২৭ মিনিটে ত্রিপুরার ডালাই এলাকায় আঘাত হানা ৩.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকা। এদিকে রবিবার ভোর ৪টায় ৪.৮ মাত্রার চতুর্থ ভূকম্পনটি রেকর্ড করে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘন ঘন এসব কম্পনে মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
দেশে শুধু স্বাস্থ্যব্যবস্থা নয়, কার্যত সব প্রতিষ্ঠানই এখন পুরোপুরি বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রাজধানীসহ সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রবিবার ৪ অক্টোবর রাজধানীর মধুবাগে জামায়াত আয়োজিত ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ’ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমানে দেশের ব্যাংক, বিমা, করপোরেশন ও শেয়ারবাজার মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকার পরও খোদ রাজধানীতে দিনদুপুরে ও রাতে যেসব অপকর্ম চলছে, তাতেই সারা দেশের বাস্তব পরিস্থিতির চিত্র ফুটে ওঠে। সম্প্রতি বিমানবন্দরে সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির বিরুদ্ধে কথা বলায় তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। লাগেজ পেতে দীর্ঘ বিলম্ব এবং ব্যাগের মালামাল চুরির বিরুদ্ধে তিনি যে প্রতিবাদ করেছিলেন, তা সম্পূর্ণ সত্য ছিল। আখতারুজ্জামানকে শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ দিয়ে গ্রেপ্তার ও অপদস্থ করার তীব্র নিন্দা জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হাতকড়া ও হেলমেট পরিয়ে অপমান করা হয়েছে এবং আদালতে মারধরের কোনো সিসিটিভি ফুটেজ বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি।
পাবনার ঈশ্বরদীতে শোভন আহম্মেদ (২৯) নামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করার অনুরোধ করায় মা-বাবার ওপর অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। রোববার ৪ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চররূপপুর নলগাড়ী এলাকায় তাঁর নানার বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শোভন আহম্মেদ ঈশ্বরদী পৌরসভার ভেলুপাড়া মধ্য অরণকোলা এলাকার মো. রঞ্জুর ছেলে। তিনি রাজধানী ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে নানার বাড়ির একটি ঘরের আড়ার সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় শোভনকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি মেয়ের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে ওই সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য বলা হয়। এ বিষয় নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে অভিমান করেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ না থাকায় এবং তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলায় নিয়মিত সাক্ষ্য দিতে হাজির না হওয়ায় প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বারবার সমন পাঠানোর পরও তাঁরা উপস্থিত না হওয়ায় বহু মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। এ জটিলতা নিরসনে মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) দেশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত এসব সদস্যকে নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে ১৮টি চিঠি পাঠিয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষীদের তালিকায় কনস্টেবল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে ২০২২ সালের একটি আলোচিত হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারকাজ আটকে আছে কেবল সাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারণে। একই ধরনের পরিস্থিতির মুখে নোয়াখালীতেও সম্প্রতি ১২১ জন পুলিশ সাক্ষীকে আদালতে হাজিরের বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মামলা চলাকালীন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দূরবর্তী জেলা বা বিশেষায়িত ইউনিটে বদলি হয়ে যাওয়াই এই সংকটের প্রধান কারণ। অনেক সময় পুরোনো কর্মস্থলে সমন পৌঁছানোর পর তা নতুন কর্মস্থলে যেতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয় এবং সময়মতো প্রশাসনিক ছাড়পত্রও মেলে না। ফলে বিচার কার্যক্রম মাসের পর মাস পিছিয়ে গিয়ে মামলার জট প্রকট আকার ধারণ করছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, এটি কোনো ফৌজদারি অপরাধের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়, বরং সাক্ষীদের আদালতে আনা নিশ্চিত করার একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া। আইনি বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের মতে, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবং বিচারকাজে গতি আনতে পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি অনুপস্থিত সাক্ষীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফের বিরুদ্ধে যুবদল, কৃষক দল ও শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭ আগস্ট বিকেলে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের মন্ত্রী মোড়ে অবস্থিত উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রকির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুলতান আলী বিশ্বাস টনি। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রকি এবং ঈশ্বরদী পৌরসভার বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের সর্বশেষ মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নয়ন, উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মইনুল ইসলাম এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ছবি মণ্ডল। লিখিত বক্তব্যে টনি বিশ্বাস বলেন, “ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে আমাদেরও নাম ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে। যা আমরা কখনোই ওই আবেদন পত্রে স্বাক্ষর করি নাই। আমাদের ভাবমূর্তি এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার লক্ষ্যেই এই ঘৃণ্য কাজ করেছে। এ ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত তথ্যের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।” লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দলের মধ্যে ঘাপটে মেরে থাকা ষড়যন্ত্রকারীরা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে চলেছে। তিনি এদের বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপি, পাবনা জেলা বিএনপির কাছে আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মাননীয় চেয়ারম্যান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও এ ধরনের ষড়যন্ত্রকারী দলের ভাবমূর্তি নষ্টকারী মিথ্যাবাদী, চিটার, বিএনপির নেতৃবৃন্দর নামে যারা ফেসবুকে নিজের স্বার্থের জন্য মিথ্যা তথ্য পোস্ট দিয়ে নেতাদের ভাবমূর্তি জনগণের কাছে তুলে ধরে, এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও কৃষক দলের সদস্য সচিবের স্বাক্ষর ও সিল যারা জাল করতে পারে, তাদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অঙ্গ সংগঠনে কোনো দায়িত্বে থাকা উচিত হবে না। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবিনয় অনুরোধ, এ ধরনের ষড়যন্ত্রকারী, পোস্টধারী অযোগ্য নেতাদের দ্রুত বিচার দাবি করছি।” টনি আরও বলেন, “স্বেচ্ছাসেবক দলের নামধারী শরীফ এই মিথ্যা ও বানোয়াট আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক বিভাগীয় বিচার দাবি করছি এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিনীত অনুরোধ করছি।” সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি পাঞ্জুর রহমান সরদার, উপজেলা কৃষক দলের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম শাহীন, সলিমপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি সেলিম হোসেন মণ্ডল, উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাফরুহা আক্তার চামেলী, লক্ষীকুণ্ডা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি কামাল আক্তারুজ্জামান, সাহাপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম মনিরুল, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান নিশান প্রমুখ।
চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে ২০২৭ সাল থেকে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর দুপুরে কুমিল্লা শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ৫৩তম জাতীয় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। দেশের সব কটি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সময়োপযোগী ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও কারিগরি নির্ভর করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আনন্দময় শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি—এই চারটি বিষয় ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হবে। এ ছাড়া ২০২৮ সাল থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষাক্রমের নিয়মিত পরিমার্জন এবং নতুন বই সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আন্তর্জাতিক সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নেমে ৩.৪ শতাংশ হতে পারে। মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি জানায়, ২০২৮ অর্থবছরে তা কিছুটা বেড়ে ৩.৯ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সাল থেকেই দেশের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে, আর্থিক ও জ্বালানি খাতের দুর্বলতা, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হওয়াও থমকে গেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, অর্থনৈতিক এই প্রতিকূলতার কারণে ২০২৬ অর্থবছরে দেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য আরও বেড়েছে এবং প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩৩.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং রাজস্ব ঘাটতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দুর্বল অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতি দেশের বহিঃখাতকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। সংস্থাটির বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে সতর্ক করে জানান, দীর্ঘমেয়াদি মন্দা এড়াতে ব্যাংকিং, রাজস্ব ও জ্বালানি খাতে দ্রুত মৌলিক সংস্কার জরুরি। এ ছাড়া সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়িয়ে চরম দরিদ্রদের কাছে তা পৌঁছে দেয়ার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি। এদিকে একই প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৬.৭ থেকে ৬.৯ শতাংশের ঘরে থাকার অনুমিত হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে।
পাবনার ঈশ্বরদী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মিনারুল ইসলাম জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক’ সম্মাননা পেয়েছেন। পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মাননা দেয়া হয়েছে। বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সোমবার ৫ অক্টোবর রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে মিনারুল ইসলামের হাতে সম্মাননা পদক, সনদপত্র ও চেক তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন এলাকার মোট ১০২ জন গুণী শিক্ষককে সম্মানিত করা হয়েছে। ঈশ্বরদীর কোনো শিক্ষক জাতীয় পর্যায়ে এমন স্বীকৃতি পাওয়ায় স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তার এ অর্জনে ঈশ্বরদী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অভিনন্দন জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ঈশ্বরদী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় সহকারী মৌলভী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মিনারুল ইসলাম। আরবি ভাষা ও ইসলামি শিক্ষাকে শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ, সাবলীল ও সৃজনশীলভাবে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তাঁর শিক্ষকতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—শিক্ষাকে শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা একাডেমিক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখা। শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেও তিনি গুরুত্ব দেন। পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করেন তিনি। কঠিন বিষয় সহজভাবে বোঝানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তোলারও চেষ্টা করেন। মিনারুল ইসলামের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। ১৯৯১ সালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম তাঁর। ১০ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সপ্তম।তাঁর বাবা প্রয়াত ডাক্তার আব্দুল ওয়াহাব এবং মা ছামিরন নেছা। মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবাকে হারান মিনারুল। এরপর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। দারুস সুন্নাহ মদিনাতুল উলুম কওমিয়া মাদ্রাসা, বহরপুর এবং চাটমোহরের দারুল উলুম মুহাম্মদপুর কওমিয়া মাদ্রাসায় কিতাব বিভাগে পড়াশোনা করেন। পরে পাবনা পুষ্পপাড়া কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল সম্পন্ন করেন। এর পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্মান ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন তিনি। বর্তমানে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অ্যাওয়ার্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন মিনারুল ইসলাম। জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে মিনারুল ইসলাম বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এমন স্বীকৃতি পাওয়া আনন্দ ও গর্বের। তবে এই সম্মাননা আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেয়াই আমার লক্ষ্য নয়। তাদের আদর্শ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যেতে চাই।” নিজের এ অর্জনের পেছনে সহধর্মিণী, বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং সহকর্মীদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করে মিনারুল ইসলাম বলেন, “আজকের এই আনন্দের দিনে আমার আব্বাজান বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। আমি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।” পাবনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “পাবনা জেলা থেকে তিনজন গুণী শিক্ষক জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা পাওয়ায় আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। এটি শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পুরো জেলার জন্যই অত্যন্ত সম্মানের। তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগে শিক্ষক সমাজে উৎসাহ বাড়বে। শিক্ষার মানোন্নয়নেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ঈশ্বরদী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সোবহান (সাবান) বলেন, “মিনারুল ইসলামের জাতীয় পর্যায়ের এই অর্জন আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গর্বের। তাঁর এই স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাগত ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। একই অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক’ সম্মাননা পেয়েছেন পাবনার আরও দুই শিক্ষক। তাঁরা হলেন পাবনা পুষ্পপাড়া কামিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হুসাইন এবং মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী জীববিজ্ঞান শিক্ষক মো. ইকরামুল হক। একই জেলার তিন শিক্ষকের জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ায় পাবনার শিক্ষা অঙ্গনে তৈরি হয়েছে আনন্দের আবহ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের স্বীকৃতি শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
গণভোটের বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামী ৩১ অক্টোবর লংমার্চের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। পূর্বনির্ধারিত সূচি বদলে এই লংমার্চের রুট বাড়িয়ে ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। রবিবার রাজধানীর মগবাজারে বাস্তবায়ন কমিটির এক বৈঠকে এ কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। নতুন সূচি অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হবে। পথিমধ্যে ৫-৬টি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে কুষ্টিয়ায় গিয়ে এর সমাপ্তি ঘটবে। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা এই লংমার্চে অংশ নেবেন। লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে অক্টোবরে কর্মসূচি শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও এখন লংমার্চের পরিসর বাড়িয়ে তা ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু রাখা হবে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে চলন্ত মাইক্রোবাসে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় দুই যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার ৫ অক্টোবর দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত মোহন বিশ্বাস ও তায়েব মাতুব্বরকে একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ২০২০ সালের ৮ আগস্ট বিকেলে বাড়িসংলগ্ন সড়ক থেকে কিশোরীটিকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নেন মোহন ও তাঁর সহযোগী তায়েব। চলন্ত গাড়ির ভেতরেই তাঁরা দুজন কিশোরীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন এবং রাতে অসুস্থ অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরদিন নির্যাতিত কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে তার বাবা ভাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া এ রায়ে পূর্ণ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষা ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ১০২ জন শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ের বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে সরকার। সোমবার ৫ অক্টোবর রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মাননা হিসেবে প্রত্যেক গুণী শিক্ষককে নগদ দুই লাখ টাকা, একটি ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তদের তালিকায় প্রাথমিক পর্যায়ের ১০ জন, মাধ্যমিকের ২০ জন এবং কলেজ পর্যায়ের ২৫ জন শিক্ষক স্থান পেয়েছেন। এ ছাড়া সাধারণ, মেডিকেল, কৃষি, প্রকৌশলসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ জন শিক্ষক এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত বিশেষ ৭ জন শিক্ষককে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা, পেশাগত সুরক্ষা এবং অধিকার সুরক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দেশজুড়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। শিক্ষক সমাজের মর্যাদা বৃদ্ধি ও মানসম্মত শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিনসহ দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ‘মানহানিকর স্লোগান ও মিথ্যা বক্তব্যের’ প্রতিবাদে পাবনার ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। বুধবার ১৯ আগস্ট বিকেলে দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দাশুড়িয়া বাজার ও ট্রাফিক মোড় এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি দাশুড়িয়া বাজার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ট্রাফিক মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েক শ নেতা-কর্মী অংশ নেন। পথসভায় বক্তব্য দেন দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ সুলভ মালিথা, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিনুজ্জামান সেনা, বিএনপির নেতা আব্দুর রাজ্জাক, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ডালিকী, সলিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান মুকুল এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শফিউদ্দিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা অভিযোগ করেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা জাকারিয়া পিন্টু, তাঁর ভাই মেহেদী ও জুয়েল এবং জামায়াত নেতা হাফিজ মেম্বারের নেতৃত্বে গত দুই দিন ঈশ্বরদী থানার সামনে মব সৃষ্টি করা হয়েছে। সেখানে হাবিবুর রহমান হাবিব, শরিফুল ইসলাম তুহিনসহ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অশ্লীল স্লোগান ও মিথ্যা বক্তব্য দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। তাঁদের আরও অভিযোগ, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগও দেয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে এবং হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, সুদের ব্যবসা ও মব সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বক্তারা বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনগত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে। মব সৃষ্টি করে কাউকে হেয় করা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এ সময় দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান মুকুল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হেদায়েতুল ইসলাম অনিক ও সাইফুল ইসলাম পণ্ডিত, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব বিপুল মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রকিবুল ইসলাম লাকি, কৃষক দলের আহ্বায়ক মহিদুল ইসলাম, সদস্য সচিব শহীদ মণ্ডল, ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল সিজন, সিদ্দিকুর রহমান, জীবন মোল্লা, মেরিদুল ইসলামসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে তৃণমূল পর্যায়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে আইনি সেবা পৌঁছে দেয়া এবং সুশাসন ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি ও সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (CSO) প্রতিনিধিদের মধ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ৫ অক্টোবর উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে (নিমগাছী, রায়গঞ্জ) ‘নাগরিক সংগঠনের অংশগ্রহণে জনপরিসর সম্প্রসারণ ও সুশাসন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ (ECSAP) প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘বাংলাদেশ রুরাল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ (ব্রেড)-এর আয়োজনে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, উই ক্যান ও ক্রিশ্চিয়ান এইড-এর সহযোগিতায় সভাটি পরিচালিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (বিজ্ঞ সিনিয়র সিভিল জজ) ও জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব কাফি আল আজাদ। ব্রেডের প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ আশিকুর রহমানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সোনাখাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার মিঞা। সভায় বক্তারা বলেন, সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সরকারি আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। আইনি সহায়তা কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে এবং আইনি সচেতনতা বাড়াতে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি ও স্থানীয় সিএসও প্রতিনিধিদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আবুজর গিফারী, ব্রেডের অ্যাকাউন্টস অফিসার আবুল কালাম আজাদ, প্রকল্প অফিসার সোলাইমান শেখ, সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মকর্তা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুজন বিমানকর্মীর জুতা থেকে প্রায় ৯ .৩৪ কেজি ওজনের ৮০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। জব্দকৃত এই স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। রবিবার ৪ অক্টোবর দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট অবতরণের পর তাঁদের কাছ থেকে এ চালানটি আটক করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের রানওয়েতে সন্দেহভাজন ওই দুজন কর্মীর জুতায় তল্লাশি চালান শুল্ক গোয়েন্দারা। এ সময় জুতার ভেতরে অভিনব কায়দায় লুকানো প্রতিটি ১১৭ গ্রাম ওজনের স্বর্ণবারগুলোর সন্ধান মেলে। দুবাই থেকে আনা এই চোরাচালানের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না এবং কার কাছে এগুলো পৌঁছানোর কথা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে সিআইআইডি। এ ঘটনায় আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীরা প্রায় তিন মাসের বকেয়া বেতন একসঙ্গে পেতে যাচ্ছেন। তবে কে কত টাকা পাবেন, তা নির্ধারিত হবে নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশনের মাধ্যমে। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার থেকে শুরু হওয়া এ প্রক্রিয়া ২০ অক্টোবরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণের কাজটি সম্পন্ন হবে iBAS++ এর পে ফিক্সেশন মডিউলে। এ জন্য কর্মচারীদের নিজস্ব এনআইডি, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ ও বর্তমান মূল বেতন দিয়ে পোর্টালে তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। এ ছাড়া পদোন্নতি, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেডসংক্রান্ত তথ্য ও নথিপত্র প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে, যাতে বেতন নির্ধারণে কোনো জটিলতা না ঘটে। নতুন ও পূর্ববর্তী বেতনের পার্থক্য এবং কার্যকরের তারিখ হিসাব করে এই বকেয়া নির্ধারণ করা হবে। অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড ও নতুন কাঠামোতে নির্ধারিত বেতনের ভিত্তিতে কর্মচারীদের বকেয়ার পরিমাণে ভিন্নতা আসবে। যাচাই-বাছাই ও বেতন নির্ধারণ প্রক্রিয়া শেষ হলেই তিন মাসের এরিয়ার অর্থ একসঙ্গে ছাড় করবে সরকার। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার সর্বনিম্ন ২০ হাজার ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণ করে নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই কাঠামো ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮ অর্থবছরে কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি অর্থবছরে মূল বেতনের বাড়তি অংশের প্রথম দুই ধাপ বাস্তবায়নের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে।
রাজধানীর যানজট নিরসনে অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক (ইনার সার্কুলার রিং রোড) নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে সমন্বিতভাবে বর্তমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নের সব প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা, কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি আনা এবং একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের তাগিদ দেন তিনি। ওই পর্যালোচনা সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীগণ এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে এই কর্মীদের প্রায় ৮০ শতাংশ পদে নারীদের নিয়োগ দেয়া হবে। শনিবার ৩ অক্টোবর ঢাকায় সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এসব কর্মী তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যপরামর্শ ও রেফারেল কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হবে। জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, নীতির ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সরকারের মূল অগ্রাধিকার। এখন সময় প্রতিশ্রুতি থেকে সরাসরি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়ার। সামাজিক সুরক্ষা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সুবিধাবঞ্চিতদের অগ্রাধিকার দিতে কর্মসূচিগুলো ঢেলে সাজানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারের মায়েদের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের মরদেহ সমাহিত, সৎকার ও পরিবহনের তাৎক্ষণিক ব্যয় মেটাতে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা আর্থিক মঞ্জুরি দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের আওতায় মুক্তিযোদ্ধাদের দাফন বাবদ অনুদানের ১৮ কোটি টাকা থেকে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। বরাদ্দের টাকা দেশের সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে ছাড় করা হবে। সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসন যথাযথ বিল দাখিল করে স্থানীয় ট্রেজারি বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক ও সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের শর্ত অনুযায়ী, মরদেহ সৎকার, সমাহিত ও পরিবহন ছাড়া অন্য কোনো কাজে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না। আর্থিক বিধিবিধান লঙ্ঘিত হলে বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে এবং ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে।
দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অনলাইন সফটওয়্যার ব্যবহারসংক্রান্ত এক আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেছেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এর ফলে তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে এবং বাল্যবিয়ে রোধ করা সম্ভব হবে। আইনমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সব কাজিকে ডিজিটাল নিবন্ধনের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বিবাহ ও তালাকের অনলাইন তথ্য এনআইডি, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ফলে এনআইডি যাচাইয়ের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তির পূর্ববর্তী বৈবাহিক অবস্থা কিংবা বহুবিবাহের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি রয়েছে কি না, তা সহজেই শনাক্ত করা যাবে। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার থাকলে মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার নিয়ে জটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমা উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিরা পরিবার নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষও সহজে ও দ্রুততম সময়ে অনলাইনে বৈবাহিক সম্পর্ক যাচাই করতে পারবে। এদিকে ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারদের দীর্ঘদিনের প্রভাব ও বদলিজনিত তদবির বন্ধে নতুন উদ্যোগের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত তদবিরের চাপ এড়াতে শিগগিরই লটারির মাধ্যমে ঢাকা শহরের সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়ন বা পোস্টিং কার্যকর করা হবে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আনা পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের নতুন চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। একইসাথে প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের প্রয়োজনীয় জ্বালানিও এ চালানের সাথে আনা হয়েছে। শনিবার ৩ অক্টোবর দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ বহরটি কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বিশেষ রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পুরো পরিবহনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে শুক্রবার রাতে রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম নিয়ে একটি বিশেষ কার্গো বিমান ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে শনিবার সকালে নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে তিনটি বিশেষ লরিতে করে ইউরেনিয়ামের চালানটি রূপপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে রওনা হয়। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চালানটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে ইউরেনিয়াম বহনকারী কার্গো উড়োজাহাজকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেয়ায় নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটটি পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ফলে চালান পৌঁছাতে সময় লাগে। রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি এর আগে ২০২৩ সালে বাংলাদেশে আনা হয়। চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে স্থাপন করা হয়েছে। শিগগিরই ওই ইউনিটে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৩ সালে ১,২০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট নিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মাণাধীন প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।
পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়াম আজ শুক্রবার ২ অক্টোবর দেশে আসছে। বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে করে ইউরেনিয়াম দুপুরের মধ্যে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শনিবার কঠোর নিরাপত্তায় তা রূপপুরে নেয়া হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার ইউরেনিয়াম আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে উড়োজাহাজের ফ্লাইট বাতিল করা হয়। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃভরণের জন্য দুটি—মোট নয়টি চালানে ইউরেনিয়াম দেশে আনা হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো সরবরাহ শেষ করার কথা রয়েছে। সব ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের একমাত্র পারমাণবিক কেন্দ্রটি থেকে প্রাথমিকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান বুধবার রাতে জানান, আগের রাত থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষাটি প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ—উভয় স্থান থেকেই পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষার সময় নিয়ন্ত্রণ ভালভগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। এগুলোর কার্যক্রম সন্তোষজনক পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রধান নিরাপত্তা ভালভের কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়াও পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ভালভের প্রতিক্রিয়া, খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম, সতর্কসংকেত এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরীক্ষা শুরুর আগে ও চলাকালে যোগাযোগব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা ও বিকিরণ নিরাপত্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করা হয়। পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ মেগাপাসকেল চাপে আরও একটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশনিং দল ধাপে ধাপে এগিয়ে প্রতিটি পর্যায় সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ভালভের ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে ত্রুটি মেরামত বা বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর নির্দিষ্ট সময়সীমা তখন জানানো হয়নি।
পাবনার ঈশ্বরদীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কৃষক মো. শামীম হোসেনের তিনটি ঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরে থাকা নগদ প্রায় এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব মালামাল পুড়ে নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের খারজানী গ্রামে শামীম হোসেনের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, রাতে প্রথমে শামীম হোসেনের গোয়ালঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের আরও দুটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনটি ঘরই আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। এ সময় গোয়ালঘরে থাকা গরুগুলো দড়ি ছিঁড়ে বাইরে বেরিয়ে আসায় গবাদিপশুগুলো রক্ষা পায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শামীম হোসেন জানান, আসন্ন সবজি চাষসহ কৃষিকাজের খরচ মেটানোর জন্য তিনি প্রায় এক লাখ টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন। আগুনে সেই পুরো টাকাই পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, পোশাক ও অন্য মালামালও পুড়ে নষ্ট হয়েছে। আগুন নেভানোর পর স্বর্ণালংকারেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে তাঁর প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে রূপপুর মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তবে বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় কর্মীদের হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়। ততক্ষণে স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলেন বলে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে গোয়ালঘরে থাকা কয়েল থেকেও আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ও সঞ্চিত অর্থ হারিয়ে শামীম হোসেনের পরিবার এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও স্থানীয়দেরও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পথচলার ৫০ বছরে পদার্পণ করেছে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ঈশ্বরদী সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ। এ উপলক্ষে শুরু হয়েছে সংগঠনটির সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন। বৃহস্পতিবার পরিষদ চত্বরে জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন শেষে সংগঠনের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাহিত্যিক মজিবুর রহমান বিশ্বাসের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। উৎসবের প্রথম দিন সন্ধ্যায় কবি মজিদ মাহমুদ কবিতা উৎসব ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আশিকুর রহমান লুলুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের সহসভাপতি জাহিদুল আলম সনু, মোস্তাক আহমেদ কিরণ, ইঞ্জিনিয়ার ওহিদুর রহমান ঝন্টু, সাধারণ সম্পাদক এস আলমগীর, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবির, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. জাহিদুর রহমান, সরকারি এস এম স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহিদুল হক শাহীন, পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহেদুজ্জামান টিপু, অধ্যাপক হাসানুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক খন্দকার মাহবুবুল হক দুদু, পরিষদের নির্বাহী সদস্য আদু বালা শীল প্রমুখ। পরিষদের সহসম্পাদক আতাউর রহমান বাবলুর সঞ্চালনায় কবি মজিদ মাহমুদের জীবনালেখ্য উপাস্থাপন করেন সাংবাদিক সেলিম সরদার। আলোচনা সভা শেষে কেক কাটা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করা হয় । তিন দিনব্যাপী এ উৎসবে শোভাযাত্রা, শিশুদের ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা ও গুণীজন সংবর্ধনা, স্মারক পদক প্রদান, বৃক্ষরোপণ এবং নানামুখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় শিশুদের ছবি আঁকা প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন ঢাকা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. সিরাজুল ইসলাম মামুন। আগামী শনিবার (৩ অক্টোবর) গুণীজন সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে তিন দিনের এই উৎসবের পর্দা নামবে। সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৬ সালের ১ অক্টোবর ঈশ্বরদী কলেজ মাঠে স্থানীয় শিল্প-সাহিত্যপ্রেমী একঝাঁক মানুষের হাত ধরে পাঁচ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। সংগঠনের সভাপতি প্রবীণ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান কামাল জানান, প্রতিষ্ঠাকালে নিজস্ব অফিস না থাকায় কিছুদিন তাঁর বাসভবন ও মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ের পাশে কার্যক্রম চালানো হতো। পরবর্তী সময়ে শহরের স্টেশন সড়কে নিজস্ব কার্যালয় নির্মিত হয়। বর্তমানে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার (প্রায় ২ হাজার বই সংবলিত) পরিচালনাসহ নিয়মিত সাহিত্য চর্চা, সংগীত ও সংস্কৃতি বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি। উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আশিকুর রহমান লুলু জানান, সুবর্ণজয়ন্তী ঘিরে সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় শিল্প-সাহিত্যপ্রেমীদের উপস্থিতি ও পদচারণায় উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ায় নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সংবর্ধনা পেয়েছে মেধাবী শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর সকালে বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ সংবর্ধনার আয়োজন করে ঈশ্বরদীর স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্বটেংরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান পলাশের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাক। প্রধান শিক্ষক মো. জোমসেদ আলীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম নয়ন। এ সময় আরও বক্তব্য দেন অত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক রাইদুল ইসলাম, শিক্ষক নূর বক্স শাহ্, মো, আব্দুল মজিদ, সুলতানা লায়লা, কৃতী শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস সূচি প্রমুখ। অনুষ্ঠানে এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানানো হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফল শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে উৎসাহ ও সহযোগিতা করা হলে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এ ধরনের সংবর্ধনা তাদের আগামী দিনের পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ভালো ফল করার আগ্রহ তৈরি হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে জাতীয় সংসদের ২৩ নম্বর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। ১ অক্টোবর তাঁর পদত্যাগপত্র কার্যকর হওয়ায় সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আসনটি শূন্য হয়। সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে স্পিকারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় এই সংসদ সদস্যের নাম প্রকাশ্যে আসে। ওই ঘটনায় দলীয় নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় সরকারপ্রধান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
রাজধানীর দক্ষিণ মানিকদীতে একটি আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মো. মিজানুর রহমানসহ তিন জনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ১ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রিমান্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি হলেন শাহরিয়ার মাহমুদ ও মো. শাহ আলম ওরফে অনিক। তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ডের সিদ্ধান্ত দেন। পুলিশ জানায়, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, অস্ত্রের উৎস এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন ছিল। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ইসিবি চত্বরসংলগ্ন নিউগিনি প্রোপার্টিজ প্রকল্পে প্রায় ৫০ জন অস্ত্রধারী এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে হামলা ও মারধর করে। একই সঙ্গে তারা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর এবং নগদ টাকাসহ প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়; জবাবে পুলিশও পাল্টা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে দেশীয় অস্ত্রসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এ ঘটনায় প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাসহ প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের সুবিধার পাশাপাশি দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফেনীর পরশুরামে ১,৫০০ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া সেচ প্রকল্প উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ বেড থেকে ১৫০ বেডে উন্নীত করার সুস্পষ্ট ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষকে যেন চিকিৎসার জন্য জেলা সদর কিংবা রাজধানীতে ছুটতে না হয়, সে জন্য তৃণমূল পর্যায়েই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড এবং মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই প্রান্তিক কৃষকদের হাতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। অত্র অঞ্চলের অতীত বন্যার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষিকাজে সুবিধার জন্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নদী ও খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। মানুষের মৌলিক কল্যাণ ও জীবনমানের উন্নয়নই বর্তমান সরকারের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সমাবেশে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল চৌধুরী মিন্টু, স্থানীয় সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনুসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা ও দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাইবার অপরাধ কার্যকরভাবে মোকাবেলায় ৪ হাজার ৫৯২ জনবল নিয়ে একটি বিশেষায়িত ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন এই ইউনিটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তিনি। প্রযুক্তি ও মেধানির্ভর এই বিশেষ ইউনিটে ক্রিপ্টো, ডার্ক ওয়েব, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন খাতের বেসামরিক বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নতুন ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন একজন অতিরিক্ত আইজিপি এবং বিভাগীয়, জেলা ও থানা পর্যায়েও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিযুক্ত থাকবেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশের বিদ্যমান জনবল থেকেই ইউনিটটি চালু করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী জনবল পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। তিনি আরও বলেন, নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা অ্যানালিসিস ও ডিজিটাল তদন্তে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের বিশেষ বেতন কাঠামোয় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আগ্রহী পুলিশ সদস্যদের আধুনিক ফরেনসিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে দেশ-বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ এবং বিশেষজ্ঞদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেয়া হবে। এ সময় সাইবার সিকিউরিটি আইন আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নিরপরাধ ব্যক্তিরা যেন কোনো হয়রানির শিকার না হন এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা পায়, তা মাথায় রেখেই আইনটি সংশোধনের কাজ চলছে। সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই সংবেদনশীল আইনের সংশোধিত বিল চূড়ান্ত করা হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নতুন করে গেজেটভুক্তির জন্য আবেদন গ্রহণের সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী ৭ অক্টোবর। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, এই নির্ধারিত তারিখের পর গেজেটভুক্তির আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। বুধবার প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্টদের অবগত করে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বীর মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আগামী ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সময়সীমা পার হয়ে গেলে নতুন কোনো আবেদন কোনোভাবেই বিবেচনায় নেওয়া হবে না। গেজেটভুক্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য, আবেদনের যাবতীয় নিয়মাবলী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জানতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আধুনিক মনোবিজ্ঞানে ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ বা আবেগিক বুদ্ধিমত্তা ধারণাটি তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক। ১৯৯০-এর দশকে মনোবিজ্ঞানী পিটার স্যালোভি ও জন মেয়ার এ তত্ত্বের গোড়াপত্তন করেন। পরবর্তী সময়ে ড্যানিয়েল গোলম্যানের গবেষণার মাধ্যমে তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। গোলম্যানের কাঠামো অনুযায়ী আবেগিক বুদ্ধিমত্তার পাঁচটি মূল স্তম্ভ চিহ্নিত করা হয় : আত্মসচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, অভ্যন্তরীণ প্রেষণা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দক্ষতা। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এ ধারণার মূল উপাদানগুলো মানবসভ্যতার ইতিহাসে বহু আগে থেকেই আদর্শ চরিত্র ও কার্যকর নেতৃত্বের অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। কেবল এত দিন তাত্ত্বিক কাঠামোয় নামকরণ হয়নি। মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাচরণে এই গুণাবলির এক সমন্বিত ও ব্যবহারিক রূপ বিদ্যমান, যা সমসাময়িক ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব ও মনোবিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত। সমসাময়িক মনোবিজ্ঞান ও নেতৃত্ববিষয়ক আলোচনায় আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক বুদ্ধিমত্তা, সহমর্মিতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সচেতনতা, সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ও ইতিবাচক চিন্তা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তবে এই পরিভাষাগুলো আধুনিক হলেও মহানবি (সা.)-এর জীবনাচরণে এগুলোর বাস্তব ও গভীর প্রয়োগ বহু শতাব্দী আগেই প্রতিফলিত হয়েছিল। আবেগিক বুদ্ধিমত্তার একটি কেন্দ্রীয় দিক হলো তীব্র মানসিক চাপের মুহূর্তে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে চিন্তাশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নবি করিম (সা.) তাঁর আবেগ নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শন করতেন। মক্কা বিজয়ের সময় সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ঘটনা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বহু বছরের নিপীড়ন, অবরোধ ও যুদ্ধের ইতিহাস সত্ত্বেও প্রতিহিংসার পরিবর্তে সংহতি ও সহাবস্থানের নীতি গ্রহণ করেছিলেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়ায় আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেয়ার একটি কৌশলগত দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, যা নেতৃত্বতত্ত্বের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। সাংগঠনিক আচরণবিজ্ঞানে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে প্রায়ই ‘ইমোশনাল রেগুলেশন ইন হাই-স্টেকস লিডারশিপ’ বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ নেতৃত্বে আবেগ নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়, যেখানে তাৎক্ষণিক আবেগীয় তাড়নার বদলে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলের কথা বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁর আত্মনিয়ন্ত্রণের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। সন্তান হারানোর শোক, নিকটাত্মীয় বিয়োগ কিংবা অনুসারীদের ভুল-ত্রুটির মুখোমুখি হয়েও তিনি ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতেন বলে হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ পাওয়া যায়। আবেগ প্রকাশে সংযম, অথচ আবেগকে সম্পূর্ণ দমন না করা, এই দ্বৈত ভারসাম্য আধুনিক মনোবিজ্ঞানে ‘ইমোশনাল রেগুলেশন’ এবং ‘ইমোশনাল সাপ্রেশন’-এর মধ্যকার পার্থক্য বোঝার ক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্ত হতে পারে। সামাজিক বুদ্ধিমত্তার একটি মূল উপাদান হলো ভিন্ন সামাজিক অবস্থান ও প্রেক্ষাপটের মানুষের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক স্থাপনের দক্ষতা। নবি করিম (সা.) দাস, শিশু, নারী, বয়োজ্যেষ্ঠ ও ভিন্নধর্মাবলম্বী সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে তাদের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সংবেদনশীলভাবে আচরণ করতেন। প্রতিবেশীর অধিকার, অতিথি আপ্যায়ন এবং পারস্পরিক পরামর্শ বা ‘শূরা’র নীতির ওপর তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপ এই সামাজিক সংবেদনশীলতারই প্রতিফলন বলে গবেষকরা মনে করেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পরামর্শের ভূমিকা। বদরের যুদ্ধের অবস্থান নির্বাচন থেকে শুরু করে উহুদের যুদ্ধকৌশল পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি অনুসারীদের মতামত গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি ব্যক্তিগত মত ভিন্ন হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সাংগঠনিক নেতৃত্বতত্ত্বে এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়াকে ‘পার্টিসিপেটিভ লিডারশিপ’ বলা হয়। যেখানে নেতা তাঁর কর্তৃত্ব বজায় রেখেও অধস্তনদের মতামতকে মূল্য দেন; এবং এর মাধ্যমে সংগঠনের মধ্যে আস্থা ও সংশ্লিষ্টতার অনুভূতি তৈরি করেন। মদিনা সনদ, ইতিহাসে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন লিখিত সংবিধান হিসেবে স্বীকৃত, ছিল এই সামাজিক দক্ষতারই একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহাবস্থানের একটি কাঠামো তৈরি করে তিনি বহুত্ববাদী সমাজ পরিচালনায় সংলাপ ও সমঝোতার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন, যা সমকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সংঘাত-নিরসন তত্ত্বের দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। এই সনদে বিভিন্ন পক্ষের অধিকার ও দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার মাধ্যমে একটি বহু-সাংস্কৃতিক নগর-রাষ্ট্র পরিচালনার যে কাঠামো তৈরি হয়েছিল, তা আধুনিক ‘কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন’ বা সংঘাত-নিরসন তত্ত্বের অনেক মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। সহমর্মিতার আরেকটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় তাঁর দৈনন্দিন আচরণে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি তাঁর মনোযোগ, রোগীর সেবা এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা শোনার আগ্রহের মধ্যে। এই আচরণ কেবল ব্যক্তিগত সদাচরণের প্রকাশ নয়, বরং একধরনের সক্রিয় শ্রবণ বা ‘অ্যাক্টিভ লিসেনিং’-এর দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে, যা আধুনিক যোগাযোগ তত্ত্বে সম্পর্ক নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে স্বীকৃত। তায়েফের ঘটনা মহানবি (সা.)-এর আবেগিক নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমাশীলতা ও ভবিষ্যৎমুখী ইতিবাচক চিন্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তায়েফে তিনি প্রত্যাখ্যাত, অপমানিত ও নির্যাতিত হন। শারীরিক নির্যাতন ও অপমানের শিকার হয়েও প্রতিশোধের পরিবর্তে তিনি ধৈর্য ও ক্ষমার পথ বেছে নেন। সহিহ আল-বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, পাহাড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা তাঁকে তাঁর নির্যাতনকারীদের ওপর দুই পাহাড় চাপিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন। প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। আশা করেন যে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্য থেকে এমন মানুষ জন্ম নেবে, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে। এখানে ক্ষমার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। এ ঘটনা কেবল ধর্মীয় সহনশীলতার উদাহরণ নয়, বরং তীব্র মানসিক চাপের মুহূর্তে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার একটি বাস্তব নজির, যাকে আধুনিক পরিভাষায় ‘স্ট্রেস রেগুলেশন’ বা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ বলা যেতে পারে। এক বেদুঈন মসজিদের ভেতর প্রস্রাব করতে শুরু করলে সাহাবিরা তাঁকে থামাতে উদ্যত হন। কিন্তু মহানবি (সা.) তাঁদের বিরত করেন এবং পরবর্তী সময়ে জায়গাটি পানি দিয়ে পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। তিনি ভুলটিকে সমর্থন করেননি; বরং ভুলকারী ব্যক্তির অজ্ঞতা ও সামাজিক অবস্থাকে বিবেচনায় নিয়েছিলেন। মূল শিক্ষা হলো : অজ্ঞতার চিকিৎসা অপমান নয়, শিক্ষা। আধুনিক সমাজে মানুষ প্রায়ই ভুল এবং ভুলকারীকে একইভাবে বিচার করে। একটি ভুলের ভিত্তিতে পুরো ব্যক্তিত্বকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। নববি পদ্ধতি ছিল ভিন্ন। ভুল সংশোধন করতে হবে, কিন্তু এমনভাবে, যাতে মানুষের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে এবং তার ফিরে আসার পথ বন্ধ না হয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নীতি প্রয়োগ করা হলে বহু অপ্রয়োজনীয় সংঘাত ও সম্পর্কভাঙন এড়ানো সম্ভব। উহুদের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতেও মহানবি (সা.)-এর নেতৃত্বে আবেগিক ও সামাজিক প্রজ্ঞার উজ্জ্বল উদাহরণ দেখা যায়। কিছু সাহাবির সিদ্ধান্তের কারণে গুরুতর বিপর্যয় ঘটেছিল। মহানবি (সা.) নিজেও আহত হয়েছিলেন। কিন্তু সুরা আলে ইমরান ৩:১৫৯-এ তাঁকে তাঁদের প্রতি কোমল থাকতে, ক্ষমা করতে, তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ অব্যাহত রাখতে বলা হয়। এখানে নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রকাশিত হয়েছে। একজন অনুসারী ভুল করলেই তার মর্যাদা ও অংশগ্রহণের অধিকার চিরতরে নষ্ট হয়ে যায় না। বরং কার্যকর নেতৃত্ব মানুষের ভুল সংশোধন করে তাকে পুনরায় দায়িত্বশীল অংশগ্রহণে ফিরিয়ে আনে। মহানবি (সা.)-এর নেতৃত্ব তাই শুধু শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তা মানুষের পুনর্গঠন, আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রকৃত গভীরতা সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝা যায় কাছের মানুষের সাক্ষ্যে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) প্রায় দশ বছর মহানবি (সা.)-এর সেবায় ছিলেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময়ে মহানবি (সা.) তাঁকে কোনো কাজ করা বা না করার জন্য অপমানজনক ভঙ্গিতে প্রশ্ন করেননি। এই সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জনসমক্ষে ভদ্র থাকা তুলনামূলকভাবে সহজ, কিন্তু যারা নিকটবর্তী, অধীনস্থ বা প্রতিদিনের সম্পর্কের অংশ, তাদের সঙ্গে আচরণই ব্যক্তির প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করে। আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনাতেও পাওয়া যায় যে মহানবি (সা.) ব্যক্তিগত কারণে প্রতিশোধ নিতেন না এবং কোনো নারী বা খাদেমকে হাতে আঘাত করেননি। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোমলতা বজায় রাখা তাঁর নৈতিক ও আবেগিক পরিপক্বতার একটি উল্লেখযোগ্য দিক। শিশুদের প্রতি তাঁর আচরণ সামাজিক সংবেদনশীলতার আরেকটি মানবিক উদাহরণ। আনাস (রা.)-এর ছোট ভাই আবু উমাইরের একটি পাখি ছিল এবং মহানবি (সা.) তাঁর সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন ও পাখিটির খবর নিতেন। রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, ধর্মীয় ও বিচারিক অসংখ্য দায়িত্বের মধ্যেও একটি শিশুর ক্ষুদ্র আনন্দ ও দুঃখ তাঁর কাছে গুরুত্ব হারায়নি। মহানবি (সা.)-এর সামাজিক বুদ্ধিমত্তা ধর্মীয় ভিন্নতার ক্ষেত্রেও মানবিক মর্যাদার প্রতি গভীর সম্মান প্রকাশ করে। একজন ইহুদি ব্যক্তির জানাজা অতিক্রম করার সময় তিনি উঠে দাঁড়ান। তাঁকে জানানো হলো যে মৃত ব্যক্তি ইহুদি। তিনি প্রশ্ন করেন, “সে কি একটি প্রাণ নয়?” এই সংক্ষিপ্ত ঘটনায় একটি সর্বজনীন মানবিক নীতি নিহিত রয়েছে। ধর্মীয়, সামাজিক বা রাজনৈতিক মতপার্থক্য মানুষের মৌলিক মর্যাদা অস্বীকারের কারণ হতে পারে না। বর্তমান বিভক্ত বিশ্বে এই শিক্ষা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামাজিক মেরুকরণ প্রায়ই মানুষকে এমন অবস্থায় নিয়ে যায়, যেখানে নিজের দলের মানুষের কষ্টকে গুরুত্ব দেয়া হয়, কিন্তু ভিন্ন পরিচয়ের মানুষের কষ্টকে উপেক্ষা করা হয়। এ কারণেই মানুষ মহানবি (সা.)-এর পাশে নিজেদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ মনে করত। ভুল করলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে, কষ্ট পেলে তিনি শুনবেন, দুর্বল হলে অপমান করবেন না, শিশু হলে অবহেলা করবেন না, অধীনস্থ হলে মর্যাদা কমবে না এবং ভিন্ন বিশ্বাসের হলেও মানবিক অস্তিত্ব অস্বীকার করা হবে না। এই নিরাপত্তাবোধ তাঁর নেতৃত্বের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য ছিল। কোরআনের ভাষায়, তিনি যদি রূঢ় ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, মানুষ তাঁর চারপাশ থেকে সরে যেত। ফলে নববি নেতৃত্বের অন্যতম শিক্ষা হলো : মানুষ শুধু শক্তিশালী নেতার অনুসারী হয় না, তারা সেই নেতার প্রতি আস্থাশীল হয়, যার কাছে তাদের মর্যাদা নিরাপদ। কোরআন মহানবি (সা.)-এর এই মানবিক ও আবেগিক চরিত্রকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে তুলে ধরে। সুরা আত-তাওবা ৯:১২৮-এ বলা হয়েছে যে, মানুষের কষ্ট তাঁর কাছে অত্যন্ত কষ্টকর ছিল, তিনি মানুষের কল্যাণকামী এবং মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল ও দয়ালু ছিলেন। এ বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, তাঁর সহমর্মিতা ছিল শুধু নৈতিক বক্তব্য নয়; বরং তা তাঁর নেতৃত্ব ও সামাজিক সম্পর্কের মৌলিক ভিত্তি ছিল। অন্যের দুর্দশা, ব্যথা ও দুর্বলতার প্রতি সংবেদনশীলতা তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। মহানবি (সা.)-এর আবেগিক বুদ্ধিমত্তার আরেকটি কেন্দ্রীয় দিক ছিল আত্মসংযম। তিনি শক্তির প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেন। সহিহ আল-বুখারির হাদিসে তিনি বলেন, প্রকৃত শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং সে, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই বক্তব্য মানবিক আত্মনিয়ন্ত্রণের গভীর তাৎপর্য প্রকাশ করে। নববী দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রকৃত শক্তি হলো আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। মক্কিজীবনের প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিক বয়কট, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতির মুখেও নবুয়তি দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকা এবং অনুসারীদের মধ্যে আশাবাদ সঞ্চার করার প্রবণতা আধুনিক মনোবিজ্ঞানের ‘রেজিলিয়েন্স’ বা প্রতিরোধ-সক্ষমতা ধারণার সঙ্গে তুলনীয়। বদর ও উহুদের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনায়ও তিনি হতাশার পরিবর্তে ভবিষ্যৎমুখী পুনর্গঠনের নীতি অনুসরণ করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক বিবরণ থেকে জানা যায়। হিজরতের সময়কার একটি বহুল-উদ্ধৃত ঘটনাও এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ। সাওর গুহায় আশ্রয় নেয়ার সময় শত্রুপক্ষের নিকটবর্তী উপস্থিতি সত্ত্বেও তিনি তাঁর সহচরকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। এ ঘটনা চরম অনিশ্চয়তার মুহূর্তেও স্থিতধী মনোভাব বজায় রাখার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। ইতিবাচক মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘কগনিটিভ রিফ্রেমিং’ বলা যেতে পারে। অর্থাৎ একই পরিস্থিতিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করে মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই ইতিবাচক মনোভাব কোনো নিষ্ক্রিয় আশাবাদ নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। শত্রুরা তাঁদের খুঁজছিল এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। আবু বকর (রা.) উদ্বিগ্ন হলে মহানবি (সা.) বলেন, “চিন্তিত হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।” ( সুরা আত-তাওবা ৯:৪০) এখানে তিনি বাস্তব বিপদকে অস্বীকার করেননি, বরং বিপদের মাঝেও আল্লাহর সাহায্যের প্রতি আস্থা বজায় রেখেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি শেখায় যে জীবনের কোনো একটি সংকটকে সমগ্র ভবিষ্যতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খননের কৌশল গ্রহণ কিংবা মদিনায় অভিবাসনের পর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ। এসব দৃষ্টান্ত থেকে বোঝা যায়, তাঁর আশাবাদ বাস্তবতাবিবর্জিত ছিল না, বরং কার্যকর পরিকল্পনার সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এই সমন্বয়কে আধুনিক ব্যবস্থাপনা-তত্ত্বে ‘রিয়েলিস্টিক অপটিমিজম’ বা বাস্তবতাভিত্তিক আশাবাদ বলা হয়, যেখানে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবতা-বিচ্ছিন্ন না হয়ে কার্যকর পদক্ষেপের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই আবেগিক ও সামাজিক প্রজ্ঞার সঙ্গে মহানবি (সা.)-এর ইতিবাচক চিন্তা গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাঁর জীবন পিতৃহীনতা, মাতৃহীনতা, প্রিয়জন হারানো, সামাজিক বর্জন, উপহাস, নির্যাতন, যুদ্ধ ও বিরোধিতায় পরিপূর্ণ ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি তিক্ত, প্রতিহিংসাপরায়ণ বা হতাশ হয়ে যাননি। মানুষের পরিবর্তনের সম্ভাবনায় বিশ্বাস রেখেছেন। চাকরি হারানো, পরীক্ষায় ব্যর্থতা বা আর্থিক সংকট এসব জীবনের কঠিন অধ্যায় হতে পারে। কিন্তু পুরো জীবন নয়। মহানবি (সা.) আশাব্যঞ্জক কথাও পছন্দ করতেন। সহিহ হাদিসে তাঁর ভালো, সুন্দর ও আশাজাগানিয়া কথা পছন্দ করার কথা এসেছে। এর তাৎপর্য হলো, ভাষা মানুষের মনোবল ও আচরণে প্রভাব ফেলে। ‘তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না’ এবং ‘ভুল হয়েছে, কিন্তু চেষ্টা করলে উন্নতি সম্ভব’ এ দুই ধরনের বক্তব্য একই বাস্তবতার প্রতি সম্পূর্ণ ভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। নববি ইতিবাচকতা এমন ভাষার ব্যবহার করে, যা মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি ও পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে অক্ষুণ্ন রাখে। একই সঙ্গে এই ইতিবাচকতা কোনো কৃত্রিম আবেগ-দমন ছিল না। মহানবি (সা.) কেঁদেছেন। শোক প্রকাশ করেছেন। মানুষের আচরণে কষ্ট পেয়েছেন এবং উম্মতের জন্য উদ্বিগ্ন হয়েছেন। ফলে দুঃখ অনুভব করা বা কান্না করা ইমানের দুর্বলতার প্রমাণ নয়। একজন মানুষ একই সঙ্গে কষ্ট অনুভব করতে পারে এবং আল্লাহর ওপর আস্থাও রাখতে পারে। সামগ্রিকভাবে মহানবি (সা.)-এর আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক প্রজ্ঞা এবং ইতিবাচক চিন্তা একটি সমন্বিত মানবিক দর্শন নির্মাণ করে। এ দৃষ্টিভঙ্গির সারকথা হলো : মানুষের হৃদয় জয় করতে তাকে পরাজিত করার প্রয়োজন নেই। তাকে বোঝা প্রয়োজন। মানুষের ভুলের মধ্যেও সম্ভাবনা দেখতে হবে। কষ্টের মধ্যেও আশা রাখতে হবে। ভয়ের মধ্যেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। অশ্রুর মধ্যেও পথচলা অব্যাহত রাখতে হবে। এই শিক্ষা শেষ পর্যন্ত কোরআনের সেই গভীর ঘোষণার সঙ্গে সংযুক্ত হয় : মহানবি (সা.) বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর শক্তির গভীরে ছিল দয়া। তাঁর নেতৃত্বের কেন্দ্রে ছিল মানুষের হৃদয়। তাঁর ইতিবাচকতার কেন্দ্রে ছিল আল্লাহর ওপর আস্থা। আধুনিক সমাজে যেখানে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও সহমর্মিতার ঘাটতি রয়েছে, সেখানে তাঁর জীবন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রকৃত প্রজ্ঞা হলো ক্ষমতার মধ্যেও কোমল থাকা। কষ্টের মধ্যেও ন্যায়বান থাকা। ক্রোধের মধ্যেও আত্মসংযমী থাকা। মানুষের ভুলের মধ্যেও তার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎকে দেখতে শেখা। বর্তমান কর্মক্ষেত্র ও সমাজে নেতৃত্বের সংকট, মানসিক চাপ ও আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্কের জটিলতা ক্রমবর্ধমান একটি আলোচ্য বিষয়। বিশ্বজুড়ে ব্যবস্থাপনা-শিক্ষায় ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘রেজিলিয়েন্স’ এখন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এবং বহু প্রতিষ্ঠান নেতৃত্ব-উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই দক্ষতাগুলোকে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমান বা তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে। বাংলাদেশসহ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পারিবারিক পরিমণ্ডল ও কর্মক্ষেত্রে নৈতিক নেতৃত্বের আদর্শ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঐতিহাসিক-বিশ্লেষণাত্মক পাঠ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
বয়সটা নিতান্তই বাল্যকাল। শখের প্রিয় টেপা পুতুলঘোড়ার খেলনাগুলো এক পাশে রেখে যখন থার্মোমিটার, রক্তচাপ মান যন্ত্রাংশের স্পর্শতা পেয়েছিল, ঢের বুঝেছিলাম একদিন সু-বিশালতার আদর্শ সেবিকা হব। হঠাৎ অগোচরে বাবার শরীর কাঁপুনিতে জ্বরের আগমনী বার্তা। মনের উদ্দীপ্ত একাগ্রতা চিত্তের আকুলতায় সেবিকা আদর্শে স্পর্শ ছোঁয়ায় অনবদ্য মাধুর্যতা। স্নিগ্ধতায় মস্তকে হাত বুলিয়ে বাবার পরশমণির মৃদু হাসির আড়ালে এক উচ্চারিত প্রতিধ্বনি, “অনেক বড় হও মা। সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনার আলোয় আলোকিত করো প্রতিটি জীবের শুদ্ধতার পবিত্র অন্তর।” এই উচ্চারিত প্রতিধ্বনি কেবল এক নিচ্ছুক শব্দ নয়, জীবনবৃত্তান্তে বেড়ে ওঠা স্বপ্ন পূরণের বহিঃপ্রকাশ। বাংলার সবুজ দিগন্তে প্রকৃতির নিবিড়য়তায় স্বপ্নগুলো আমার একান্তই সঙ্গী। সন্ধ্যা আঁধারে ঝিঁঝি পোকার আলোই বয়ে চলা নিঃসঙ্গতা নদীপথ। নিদ্রা যাপনে কল্পনার জগৎ ভাবে ভাবান্তর অতুলনীয় স্বপ্ননীল সুন্দর। কালবেলার দ্বিখণ্ডিত পর্বে শতাব্দীর অবসান। কত শত জীবন্ত মরুভূমি প্রান্তরে অলীক চিন্তার মোড়কে স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার। স্বপ্নসিঁড়ির যাত্রাপথে শহরতলির অভিশপ্ত নগরী আমার আবাসস্থল। ইট-পাথরের শহর গলিপথে অসহায়ত্বের শান্তিনিকেতনে আমার দিবালয় মিশনারি হাসপাতাল। সমুদ্রের কিনারে সূর্যাস্তে ঢলে পড়া ক্লান্ত সন্ধ্যায় মুঠোফোনের ওপাশ থেকে এক শুভেচ্ছা বার্তা। এই তো এখানে জায়গা আছে। হৃদয়ের সুপ্ত গভীরতায় যে স্বপ্ন বুনেছিলাম, তার প্রতিটি অপেক্ষা পূরণের ব্যাকুলতায় সীমাহীন আনন্দ অভিমান। পাখিডাকা ভোরের উষ্ণ শীতলতায় ওয়ান জিরো ফোর অপারেশন থিয়েটার। হাসপাতালের প্রতিটি ইট, ধূলিকণা যেন এক নির্বাক বাঁচার আকুতি। কিছু মুহূর্তে হারিয়ে গিয়েছিলাম বিষাদ সিন্ধুর একাকিত্বে। হঠাৎ দরজায় কড়া নেড়ে রুক্ষ মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে এক জীবন্ত সেবিকা। বিষণ্ন বাতাসে মৃদু হেসে বলিয়া উঠিল, “তোমার ডিউটি ওয়ান জিরো ফোর অপারেশন থিয়েটার রুম।” বেস্ট রঙের যুগলবন্দী পোশাকের ঘ্রাণের মাধুর্যতা আমার শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় বহমান। মুহূর্তেই এক দুঃখবিলাসী জীবনের কাতরতায় অভাগীর অনুপ্রবেশ। বাঁচার আকুতি এবং সেবা গ্রহণের প্রতীক্ষায়। আগ্রহ বাড়িয়ে হৃদয়স্পর্শী সেবা দানে সমাপ্ত হইল তাহার নিকট আমার প্রথম সেবার আত্মনিবেদন।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।