Breaking news

বিশ্ব

ছবি : সংগৃহীত
ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের লংমার্চ শুরু আজ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের ইসলামাবাদ অভিমুখী লংমার্চের প্রথম ধাপ আজ রোববার ৪ অক্টোবর শুরু হচ্ছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বেলা ১টায় লাক্কি মারওয়াত থেকে এই কর্মসূচি যাত্রা করবে। কেন্দ্রীয় সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এ লংমার্চের ডাক দেয়া হলো।   ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিনে বিভিন্ন জেলা থেকে নেতা-কর্মীরা যুক্ত হয়ে রাতে কারাকে অবস্থান করবেন। এরপর ৫ অক্টোবর কোহাট এবং ৬ অক্টোবর হাঙ্গু ও কুররামের মিছিল নিয়ে পেশোয়ারের মাতানিতে রাত কাটাবেন তাঁরা। পরবর্তী সময়ে ৭ ও ৮ অক্টোবর পেশোয়ার ও চরসদ্দা হয়ে খাইরাবাদে জমায়েতের মাধ্যমে লংমার্চের পরবর্তী ধাপের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।   এদিকে পিটিআইয়ের এই লংমার্চ ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমনে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার নিরাপত্তা বাহিনীকে সহযোগিতার নিশ্চয়তা না দেয়ায় সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সমঝোতার জন্য পিটিআইকে অবশ্যই লংমার্চ প্রত্যাহার করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   মার্চকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রায় ৩ হাজার রেঞ্জার্স সদস্য মোতায়েনের মেয়াদ ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। নগরীর বিভিন্ন প্রবেশমুখে কনটেইনার বসিয়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। তবে পিটিআইয়ের দাবি, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং তারা শান্তিপূর্ণভাবেই তা পরিচালনা করবে।  

অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন

আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে যুগান্তকারী অবদান ও মহাজাগতিক উচ্চ শক্তির নিউট্রিনো শনাক্তের স্বীকৃতি হিসেবে পদার্থবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পেয়েছেন বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর নাম ঘোষণা করে। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, দক্ষিণ মেরুর বরফ কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র কণা নিউট্রিনোর গতিবিধি শনাক্তের ধারণাটি সফলভাবে তুলে ধরেন তিনি।   তাঁর নির্দেশনায় গড়ে ওঠা আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি মূলত অ্যান্টার্কটিকার এক ঘন কিলোমিটার গভীর বরফের নিচে স্থাপিত একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। আধুনিক আলোক সেন্সরে সজ্জিত এই মানমন্দির ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের সুদূর প্রান্ত থেকে ছুটে আসা অতি উচ্চশক্তির নিউট্রিনো পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হচ্ছেন।   ইতিহাসে ১৯০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞানে ১১৯ বার এই সম্মাননা দেয়া হয়েছে। এ শাখায় মাত্র ২৫ বছর বয়সে এক্স-রে দিয়ে স্ফটিকের গঠন বিশ্লেষণের জন্য সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে নোবেল পান অস্ট্রেলিয়ার উইলিয়াম লরেন্স ব্রাগ। অন্যদিকে ২০১৮ সালে ৯৬ বছর বয়সে সবচেয়ে প্রবীণ বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন মার্কিন বিজ্ঞানী আর্থার আশকিন।  

অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মিশন সমাপ্তি : চার দিনের সরকারি ছুটি

মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মিশন সমাপ্তি উদযাপন করতে ইরাকে চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ঘোষিত এ ছুটির দিনগুলোকে দেশটিতে ‘সার্বভৌমত্ব দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির কার্যালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে দিবসটি ঘিরে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের কথা জানায়।   দেশটির শেষ কয়েকটি ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে ৩০ সেপ্টেম্বর জোটের সামরিক মিশনের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটল। তবে এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের সামরিক সম্পর্কে পুরোপুরি ইতি টানছে না। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি নিশ্চিত করেছেন, জোট মিশন শেষ হলেও দুই দেশের মধ্যে সরাসরি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা যথারীতি অব্যাহত থাকবে।   ২০১৪ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) দমনে গঠিত এই বৈশ্বিক জোট মূলত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের কাজ করত। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের রূপরেখা অনুযায়ী ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে জোট কাঠামোর বদলে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বে রূপ নেয় তাদের সম্পর্ক। চূড়ান্ত প্রত্যাহারের পর এখন দুই দেশ নতুন কাঠামোর নিরাপত্তা সম্পর্কের পথে এগোচ্ছে।  

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

মস্তিষ্কের পৃথক স্নায়ুকোষের কার্যকলাপ আলো দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার যুগান্তকারী পদ্ধতির জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। সোমবার ৫ অক্টোবর নোবেল কমিটি বিজয়ী হিসেবে কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেম্যান ও জর্জ নাগেলের নাম ঘোষণা করে। আলোক-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকস নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এ সম্মাননা দেয়া হয়েছে।   বিজয়ীদের মধ্যে ৫৪ বছর বয়সী কার্ল ডেইসেরথ যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। অন্য দুই বিজ্ঞানী পিটার হেগেম্যান (৭১) ও জর্জ নাগেল (৭৩) জার্মানির যথাক্রমে হামবোল্ট ও ভুর্জবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা ও গবেষণায় যুক্ত।   নোবেল কমিটির মতে, তাঁদের উদ্ভাবিত এ পদ্ধতি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মস্তিষ্কের জটিল রহস্য উন্মোচনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কমিটি টেলিফোনে তিন বিজ্ঞানীর সঙ্গেই যোগাযোগের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানিয়েছে।   এ বছর পুরস্কারের মোট অর্থমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা বিজয়ীদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হবে। স্টকহোমে এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে সূচনা হলো চলতি বছরের নোবেল সপ্তাহ।  

অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
জাতিসংঘের আপত্তি উপেক্ষা করে দেড় হাজার অভিবাসীকে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে প্রায় দেড় হাজার নাগরিককে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। প্রথম দফায় ১,৪৭৯ জন অভিবাসীকে সামরিক ও চিকিৎসা জাহাজে করে ইয়াঙ্গুনে পাঠানো হয়। দেশটিতে আটক থাকা ১০ হাজারের বেশি মিয়ানমার নাগরিকের মধ্য থেকে ধাপে ধাপে অন্তত ৫ হাজার মানুষকে এভাবে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।   মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, আটক ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাচ্ছেন; তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মূলত বাধ্য হয়েই তাঁরা এ পথ বেছে নিয়েছেন। প্রত্যাবাসনটি সত্যিই স্বেচ্ছায় হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদেরও ওই অভিবাসীদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি।   দেশটিতে আশ্রয় নেয়া মানুষের একটি বড় অংশ রোহিঙ্গা হলেও ফেরত পাঠানো এই দলে তাঁদের সংখ্যা কত, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপের যুক্তি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ঘোষণার পর থেকেই শরণার্থীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়।   জাতিসংঘের শরণার্থী সনদে স্বাক্ষর না করায় মালয়েশিয়া তাঁদের অনিবন্ধিত অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে গৃহযুদ্ধকবলিত মিয়ানমারে ফিরে এসব মানুষ চরম নির্যাতন ও জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির মুখে পড়তে পারেন বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।  

অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
ছবি : বাসস
হাইব্রিড বীজের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সার্কের আঞ্চলিক উদ্যোগ

দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত হাইব্রিড বীজের সরবরাহ বাড়াতে এবং আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনতে ভুটানে তিন দিনব্যাপী সার্ক আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। সোমবার ৫ অক্টোবর দেশটির ইউসিপাংয়ে ন্যাশনাল সেন্টার ফর অর্গানিক এগ্রিকালচারে সবজির বীজ উৎপাদন সংক্রান্ত এ কর্মসূচি শুরু হয়। ভুটানের কৃষি বিভাগ ও ঢাকায় অবস্থিত সার্ক কৃষি কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভুটানের কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী লিয়নপো ইয়োনতেন ফুন্টশো। তিনি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ জলবায়ু পরিবর্তন ও রোগবালাই প্রতিরোধে উন্নত বীজ প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরেন। গবেষণার সুফল কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে উন্নত জাত এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।   অনুষ্ঠানে সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক তানভীর আহমদ তরফদার এবং ভুটানে নিযুক্ত বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রশিক্ষণটিতে স্বাগতিক ভুটানের প্রায় ৩০ জন গবেষক সরাসরি উপস্থিত রয়েছেন এবং বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার কৃষি বিশেষজ্ঞরা অনলাইনে যুক্ত হয়েছেন।   তিন দিনের এ আয়োজনে মূলত টমেটো ও মরিচের হাইব্রিড বীজ উৎপাদনের ব্যবহারিক ও কারিগরি দিক শেখানো হচ্ছে। পরাগায়ন, জিনগত বিশুদ্ধতা রক্ষা এবং মানসম্মত সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আয়োজকরা জানান, এ ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধি সদস্য দেশগুলোর আঞ্চলিক বীজ নিরাপত্তাকে আরও সুদৃঢ় করবে।  

অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
শিক্ষা খাতের সংকটে ফ্রান্সে তীব্র বিক্ষোভে গ্রেপ্তার ১৭৪৭

শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ ও জরাজীর্ণ ভবনের প্রতিবাদে ফ্রান্সে ব্যাপক বিক্ষোভে নেমেছেন শত শত হাইস্কুল শিক্ষার্থী। রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত মঁপেলিয়ে, নঁত, মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সহিংসতা দমনে শুক্রবার ১,৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ জানান, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন দাঙ্গা ও শহুরে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিনের মতে, দেশের ৩,৭০০টি স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি এই অস্থিরতার কবলে পড়েছে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, মূল শিক্ষার্থীদের বাইরে থাকা বহিরাগতরা আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করে তুলছে।   বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং এতে অন্তত ৬৫ জন কর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে এবং বেশ কিছু পেট্রোল বোমা, কুঠার ও শক্তিশালী আতশবাজি জব্দ করেছে। আন্দোলনকারীদের মতে, অতিরিক্ত স্কুলের সময়সীমা, ক্লাসরুমের প্রতিকূল পরিবেশ ও শিক্ষা বাজেট ছাঁটাইয়ের কারণেই তাদের এই ক্ষোভ।   আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে শুরু হওয়া এই সহিংস আন্দোলন ম্যাক্রোঁ সরকারের জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ওপর জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারমন্ত্রী। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সমাবেশের অধিকারের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে দেশটির একাধিক প্রভাবশালী ট্রেড ইউনিয়ন।  

অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নারীদের নিরাপত্তায় দিল্লিতে টহল দেবে ‘পিংক ফোর্স’

নারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাত্রিকালীন বিশেষ ‘পিংক ফোর্স’ টহল জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তারানজিত সিং সাধুর নির্দেশনায় গোয়া পুলিশের আদলে গঠিত এই ইউনিটে প্রশিক্ষিত নারী পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হচ্ছে। এর আওতায় রাজধানীজুড়ে ‘পিংক প্যাট্রল’ ও ‘পিংক স্কুটি’ ব্যবহারের মাধ্যমে বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, মেট্রোস্টেশন ও চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয় কড়া নজরদারি রাখা হবে।   সম্প্রতি দিল্লিতে মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে পৃথক চারটি ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে কালকাজি মন্দিরের কাছে এক কিশোরীকে ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং কিষানগঞ্জে এক শিশুর ওপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এসব অপরাধের প্রেক্ষাপটেই নারী সুরক্ষায় সমন্বিত কাঠামোর পাশাপাশি প্রকাশ্য স্থানে উত্ত্যক্তকরণ ঠেকাতে ‘অপারেশন শিষ্টাচার’ চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।   একই সঙ্গে নাগরিক অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে দিল্লি পুলিশের ‘জনশুনানি’ কর্মসূচির আবেদনগুলো এখন থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্র্যাক ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমাধান করা হবে। এ ছাড়া অপরাধপ্রবণ এলাকায় পদব্রজে ও মোটরসাইকেল টহল বাড়ানোসহ মাদকবিরোধী অভিযান, সাইবার অপরাধ দমন এবং সিসিটিভি নজরদারি আরও কঠোর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।   সূত্র : ইকোনমিক টাইমস  

অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স : চার শতাধিক আটক, আহত অর্ধশতাধিক

শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকটসহ বিভিন্ন দাবিতে ফ্রান্সে জেন-জির বিক্ষোভ তীব্র রূপ নিয়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এ আন্দোলনে অন্তত ৪০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার দিনভর চলা সংঘর্ষে পুলিশ, শিক্ষকসহ বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং চার শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।   প্যারিসের বিভিন্ন স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আন্দোলন রূপ নেয় সহিংসতায়। বিক্ষোভের সময় বেশ কিছু এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে; বিপরীতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালায়। এতে অন্তত ১০ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪৮ জন সদস্য আহত হন।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, আটক হওয়া ৪৪০ জনের মধ্যে অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা নাকচ করে দাবি করেছেন, পুলিশ যথেষ্ট সংযম প্রদর্শন করেছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি সমর্থন জানালেও সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।   শিক্ষার্থীদের এই অবরোধের পাশাপাশি বেতন বৃদ্ধি ও কর্মপরিবেশের উন্নতির দাবিতে দেশজুড়ে প্রায় দুই লাখ শিক্ষক, হাসপাতালকর্মী ও সরকারি চাকরিজীবী কর্মবিরতি পালন করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফরাসি প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয়ার পাশাপাশি সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ থেকে ৫০০ কিমি দূরে সরে গেছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ : ইরান

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত জলপথ থেকে পিছু হটেছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বহর। প্রণালির মুখ থেকে এসব যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে কমপক্ষে ৫০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে। বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, সংঘাত শুরুর পর হরমুজ ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত ৩০ থেকে ৪০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ টহল দিত। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ কিংবা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে তাদের কোনো যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নেই। আইআরজিসির মুখপাত্রের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই এবং তাদের বর্তমান হুমকিগুলো পরাজয় ঢাকার অপচেষ্টা মাত্র।   বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হওয়া ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে। এর আগে গত জুনে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে সাময়িক উত্তেজনা কমলেও জুলাইয়ে চুক্তি থেকে ইরানের সরে আসার পর হরমুজে ফের অবরোধ জারি করা হয়। ওয়াশিংটন প্রণালিতে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করলেও তেহরান তা নাকচ করে মার্কিন বহর পিছু হটার খবর জানাল।  

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিব্যান্ডের

গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ডকে বিশ্ব বিবেকের জন্য বড় এক কলঙ্ক বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে তিনি বলেন, নিরাপত্তার অজুহাত দিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান বর্বরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একই সাথে তিনি ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা নিয়ে বৈশ্বিক ক্ষোভের বিষয়টি তুলে ধরে এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের স্পষ্ট পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেন।   লেবার পার্টির অবস্থান তুলে ধরে মিলিব্যান্ড জানান, পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপন ও গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের মতো বিষয়গুলো তাঁরা জোরালোভাবে সামনে আনছেন। কেবল মৌখিক প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ না থেকে ইসরায়েলি অবৈধ বসতির পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট অর্থায়ন ও নির্মাণ সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দেন তিনি। তবে এ পদক্ষেপ কোনোভাবেই সাধারণ ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বলে তিনি সাফ জানান।   স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ রুদ্ধ করার চক্রান্ত প্রতিহত করার দৃঢ় প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার রক্ষা করা নৈতিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে বৈশ্বিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও জলবায়ুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ সুরক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক আরও গভীর ও সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেন তিনি।  

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : ডয়চেভেলে
অস্ট্রেলিয়ায় কৃষিশ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভিসার সুযোগ

অস্থায়ী অভিবাসী কৃষিশ্রমিকদের একটি অংশের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। সম্প্রতি অভিবাসন নীতি কঠোর করায় দেশটিতে দেখা দেয়া তীব্র শ্রমিক-সংকট মোকাবেলায় এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গম, বার্লি ও ক্যানোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসল তোলার মৌসুম আসন্ন হওয়ায় সরকারের এই উদ্যোগ সংকট কিছুটা লাঘব করবে বলে আশা করা হচ্ছে।   গ্রেইন প্রডিউসার্স অস্ট্রেলিয়া (জিপিএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বার্ষিক অভিবাসন সংখ্যা কমানোর ফলে তৈরি হওয়া সংকট কাটাতে কৃষি সংগঠনগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতেই সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভিসা দিতে সম্মত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশটির অনেক খামারই ফসল কাটা ও ঘরে তোলার জন্য মূলত এই অস্থায়ী অভিবাসী কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।   এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এটি বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জিপিএর চেয়ারম্যান ম্যাথু ম্যাডেন। তিনি জানান, ঠিক কতগুলো ভিসার দ্রুত অনুমোদন নিশ্চিত হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে সামনের দিনগুলোতে প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। তথ্যসূত্র : ডয়চেভেলে, রয়টার্স

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ 0
ছবি : বাসস
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবেলায় জাতিসংঘে সর্বসম্মত প্রস্তাব পাস

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবেলায় আরও জোরালো পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও হিমবাহ গলে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট এ সংকট নিচু দ্বীপদেশগুলোর অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কার্যকর উদ্যোগ না নিলে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রের পানির স্তর এক মিটার বা তারও বেশি বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।   জাতিসংঘের এই পদক্ষেপে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিতে জরুরি অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কোনো দেশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলেও তার সামুদ্রিক সীমানা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়ের সমাধান এসেছে এ ঘোষণায়।   সংকট তুলে ধরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা সামান্য মিলিমিটারে মাপা হলেও এর প্রকৃত ক্ষতি লাখ লাখ মানুষের জীবন ও জনপদ উচ্ছেদের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। কোটি কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেয়া যায় না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।   ছোট দ্বীপদেশগুলোর জোট ‘অ্যালায়েন্স অব স্মল আইল্যান্ড স্টেটস’-এর পক্ষ থেকে পালাউয়ের প্রেসিডেন্ট সুরাঙ্গেল হুইপস জুনিয়র এই ঘোষণাকে একটি ‘সত্যিকারের অর্জন’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৮৯ সালের ‘মালে ঘোষণা’র পর থেকেই ছোট দ্বীপদেশগুলো বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে আসছে। তথ্যসূত্র : বাসস    

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : ডয়চেভেলে
পর্তুগালে মুখ ঢাকায় নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নতুন ‘বোরকা আইন’ কার্যকর

পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখা প্রতিরোধসংক্রান্ত নতুন একটি আইন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই বিধিমালার আওতায় রাস্তাঘাট, পার্ক বা সরকারি দপ্তরের মতো যেকোনো পাবলিক প্লেসে মুখ আড়াল করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনটি অমান্য করলে অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় সর্বনিম্ন ১৫০ ইউরো থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হবে।   সংসদে আলোচনার সময় এটি ‘বোরকা আইন’ নামে পরিচিত পেলেও মূল বিধানে কোনো বিশেষ ধর্ম বা পোশাকের উল্লেখ নেই; বরং যেকোনো উপায়ে মুখ ঢেকে রাখাকেই অপরাধ ধরা হয়েছে। অসাবধানতাবশত নিয়ম ভাঙলে ১৫০ থেকে ৭৫০ ইউরো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আইন অমান্য করলে ৪০০ থেকে ৩ হাজার ইউরো জরিমানা হতে পারে। তবে পুলিশ শুধু ঘটনা নথিভুক্ত করবে এবং জরিমানার চূড়ান্ত অঙ্ক নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় পৌরসভা।   আইনে কিছু যৌক্তিক প্রয়োজনে ছাড় দেয়ার সুস্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব, অসুস্থতা, বৈরী আবহাওয়া কিংবা শিল্প-সংস্কৃতির প্রয়োজনে মুখ ঢাকলে কোনো শাস্তির আওতায় পড়তে হবে না। এ ছাড়া মসজিদ বা গির্জার মতো উপাসনালয়, উড়োজাহাজ এবং বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।   নতুন এই আইনে জোরপূর্বক কাউকে মুখ ঢাকতে বাধ্য করার বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার বা ভয়ভীতি দেখিয়ে কাউকে মুখ ঢাকতে বাধ্য করলে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ দুই বছরের জেল বা বড় অঙ্কের জরিমানা হবে। ভুক্তভোগী ব্যক্তি অপ্রাপ্তবয়স্ক বা ১৮ বছরের নিচে হলে এ শাস্তির পরিমাণ আরও এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পাবে।

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সৌদির অনুরোধে হুথিদের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিয়েও পিছু হটেছেন ট্রাম্প

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিশেষ অনুরোধে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হামলার প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত ধাপে, ঠিক তখনই অপ্রত্যাশিতভাবে অভিযানটি বাতিল করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ঠেকাতে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চাইছিল রিয়াদ। শুরুতে ট্রাম্প হামলার বিপক্ষে থাকলেও যুবরাজের সঙ্গে ফোনালাপের পর পেন্টাগনকে আঘাত হানার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতি এতটাই অগ্রসর হয়েছিল যে লক্ষ্যবস্তু চূড়ান্ত করে যুদ্ধবিমানে বোমা লোড করা সম্পন্ন হলেও রোববার দুপুরে হঠাৎ করেই পুরো প্রক্রিয়া থামিয়ে দেন ট্রাম্প।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সও সৌদি আরবের অনুরোধে ওয়াশিংটনের হামলা বিবেচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ও হোয়াইট হাউস। কেবল প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন সবসময় মিত্রদের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   প্রশাসনের ঘনিষ্ঠদের বড় অংশই সৌদি-হুথি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিপক্ষে ছিলেন। দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের ফলে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মাঝে মার্কিন বাহিনীর ওপর বাড়তি সামরিক চাপ পড়ার আশঙ্কা ছিল তাদের। একই সঙ্গে মে মাসে কৌশলগত কারণে রিয়াদ আকাশসীমা ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের নজির থাকায়, পুরো আঞ্চলিক ভূরাজনীতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে ওয়াশিংটন।  

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
জাপানে শক্তিশালী টাইফুনের আশঙ্কা লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানোর নির্দেশ

জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের দিকে ধেঁয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘দুজুয়ান’। এর ভয়াবহ প্রভাব মোকাবেলায় ইতোমধ্যে দেশটির ১৬ লাখেরও বেশি মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই জরুরি সতর্কবার্তা নিশ্চিত করেছে।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইবারাকি, চিবা, টোকিও, কানাগাওয়া এবং শিযুওকা অঞ্চলের ৬ লক্ষাধিক বাসিন্দাকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষ করে চিবা প্রিফেকচারের সোদেগাউরা শহরে প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে ভূমিধস ও বিপদের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের ঢালু এলাকা এড়িয়ে ভবনের দ্বিতীয় তলার ওপরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।   টাইফুনের কারণে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় দেশটিতে শত শত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগ প্রতিরোধ সংস্থা সাধারণ মানুষকে যেকোনো বেসমেন্ট বা ভূগর্ভস্থ স্থানে অবস্থান না করার কড়া নির্দেশনা জারি করেছে।   ইতোমধ্যে টাইফুনের তাণ্ডবে সোদেগাউরা শহরে ভূমিধসে আটকা পড়া এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। অন্যদিকে টোকিও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার তথ্যমতে, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের প্রভাবে দেশটির ৫০ হাজার ৮৯০টিরও বেশি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।  

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সৌদির রাজধানী রিয়াদে হুথিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও লোহিত সাগর উপকূলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। রোববার ২০ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য নিশ্চিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে এবং এতে নতুন কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।   হামলার জেরে সৌদি রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছের একটি জ্বালানি ট্যাংক থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায় এবং সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শনিবার প্রথমবারের মতো রিয়াদে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রিয়াদ ছাড়াও বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবু শহরে বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো একাধিক আক্রমণ তারা প্রতিহত করেছে।   হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল-সারিয়া দাবি করেন, ইয়ানবুতে আরামকোর তেল স্থাপনাসহ একাধিক স্থানে বিপুল পরিমাণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। সানায় সৌদি জোটের আগ্রাসন এবং গত এক সপ্তাহে ইয়েমেনজুড়ে ৩০০টি হামলার জবাবেই এই পাল্টা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সৌদি-সমর্থিত সরকারের সঙ্গে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথিদের এই সংঘাত চলছে।   এদিকে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ফ্লাইট বাতিল কিংবা ভ্রমণ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে অঞ্চলটিতে মার্কিন নাগরিকদের যাতায়াতের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন।  

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ শর্ত দিল ইরান, না মানলে চূড়ান্ত যুদ্ধের হুঁশিয়ারি

চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত পাঠিয়েছে ইরান। তবে ওয়াশিংটন এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করলে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধ’ শুরু করারও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, কাতারি প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পাঠানো এসব শর্তের বিষয়ে এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।   সামাজিক মাধ্যম ও সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই জানান, আলোচনার পথ উন্মুক্ত করতে ওয়াশিংটনের সামনে তাঁদের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি উল্লেখ করেন, অবিলম্বে সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, অবরুদ্ধ ইরানি অর্থ ছাড় দেয়া এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা তেহরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে।   রেজাই সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্পের হুমকিতে কোনো ফল আসবে না এবং নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য ইরান শতভাগ প্রস্তুত। ওয়াশিংটন যদি নিজেদের তৈরি সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, তবে ইরানের ন্যায্য শর্তগুলো মেনে নেয়া ছাড়া তাদের সামনে কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতা ফিরিয়ে আনতে কাতার ও পাকিস্তান জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।   সামরিক প্রস্তুতি তুলে ধরে ইরানি নিরাপত্তাপ্রধান জানান, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও আরব সাগরে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং রণতরীগুলোকে কেন্দ্র করে তাঁদের নতুন কৌশল সাজানো হয়েছে। পুনরায় মার্কিন আগ্রাসন চালানো হলে শুধু সামরিক ঘাঁটিতেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ওয়াশিংটনের বাণিজ্যিক স্বার্থ ও মার্কিন কোম্পানিগুলোতেও সরাসরি বিধ্বংসী আঘাত হানা হবে।   পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান এখনো পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে আসেনি। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ফতোয়া বা নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী পদক্ষেপ তেহরানকে নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।  

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির মার্কিন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক ও উদ্বেগ

সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫০টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্বের শীর্ষ স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন এই বিমান পেতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালালেও ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব রক্ষায় এতদিন এতে বাধা ছিল। তবে ২৪ বিলিয়ন ডলারের এই অস্ত্র চুক্তি কার্যকর ঠেকাতে বা যাচাই-বাছাই করতে মার্কিন কংগ্রেসের হাতে এখন ৩০ দিন সময় রয়েছে।   প্রস্তাবিত এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রাজা কৃষ্ণমূর্তিসহ একাধিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সৌদি-চীন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এ প্রযুক্তির গোপন তথ্য বেইজিংয়ের হাতে পৌঁছানোর ঝুঁকি রয়েছে। ২০১৮ সালে জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি আরবের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও মার্কিন কংগ্রেসে এমন অস্ত্র চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।   বিরোধিতা সত্ত্বেও মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট দাবি করেছে, এই চুক্তি উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ওয়াশিংটনের জাতীয় নিরাপত্তাকে সুদৃঢ় করবে। তাদের মতে, মিত্র সৌদি আরবকে এই সহায়তা দেয়া হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সামরিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ থাকবে। বর্তমানে ইসরায়েলের হাতে ৫০টি এফ-৩৫ বিমান রয়েছে, যা তারা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে; ফলে সৌদি আরবের ৪৮টি বিমান পাওয়ার চুক্তি ইসরায়েলের সাথে তাদের সক্ষমতার ব্যবধান অনেকটা কমিয়ে আনবে।   ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সাথে সৌদি আরবের সংঘাত চলাকালেই এই যুদ্ধবিমান বিক্রির উদ্যোগ চূড়ান্ত রূপ পেল। সম্প্রতি হুথিরা লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখলে নেয়ায় রিয়াদের নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এ বিষয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নিতে ট্রাম্পকে চাপ দিলেও, ওয়াশিংটন সরাসরি মার্কিন বাহিনীকে এতে জড়ানো থেকে বিরত রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানে জুমার নামাজের সময় মসজিদের কাছে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ১৯

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কোহাট জেলায় জুমার নামাজ চলাকালে একটি মসজিদের কাছে শক্তিশালী আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এ হামলায় ৫ জন পুলিশ সদস্যসহ ১১ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। আহতদের বেশির ভাগই জুমার নামাজ আদায় করতে আসা সাধারণ মুসল্লি।   প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ার থেকে ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে পুরোনো পুলিশ লাইনসের কাছে ওই মসজিদে নামাজ চলাকালে এ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। কোহাট জেলা সদর হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনার পরপরই হাসপাতালে ১৫ জনের মরদেহ ও অর্ধশতাধিক আহত ব্যক্তিকে স্থানান্তর করা হয়।   খাইবার পাখতুনখাওয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) জুলফিকার হামিদ জানান, বিস্ফোরকবাহী একটি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলাকারী প্রথমে ভবনের ফটকে সজোরে আঘাত হেনে বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর বন্দুকধারীরা কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কয়েকজন হামলাকারী নিষ্ক্রিয় হয়।   হামলার খবর পেয়ে রেসকিউ ১১২২-এর উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে। তবে নৃশংস এই হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন স্বীকার করেনি।  

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : আনন্দবাজার পত্রিকা
বদলে গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নাম ও প্রতীক

ভারতের নির্বাচন কমিশন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের বিবাদমান দুটি পক্ষকে নতুন রাজনৈতিক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করেছে। আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও মূল প্রতীক নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে নির্বাচন কমিশন এই অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে এক আদেশে দলটির মূল নাম ও ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়া ফুলৎ প্রতীক ব্যবহারের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।   নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশের নাম দেয়া হয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। অন্যদিকে রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী অংশের নাম হয়েছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’, যার নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে ‘খাম’। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ত্রিপুরা ও মেঘালয় রাজ্যে দল দুটি নিবন্ধিত হিসেবে বিবেচিত হবে।   আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা এবং আসামের নগাঁও লোকসভা আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে উভয় পক্ষকে নতুন নাম ও প্রতীকের তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ফলে দল দুটির প্রার্থীরা এখন নতুন পরিচয় ও ভিন্ন প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে লড়াই করবেন।  

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলকে ট্রাম্প প্রশাসন দিচ্ছে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ

গাজায় চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন দিতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবিত এই চালানে আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ৪০ হাজারের বেশি বোমাসহ নানা ধরনের আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং প্রোগ্রামের অধীনে এই চুক্তির সিংহভাগ ব্যয় বহন করা হবে।   নতুন এই সামরিক সহায়তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ২০ হাজার এমকে-৮৪ এবং বিএলইউ-১১৭ সাধারণ বোমা। দুই হাজার পাউন্ড ওজনের এই শক্তিশালী বোমাগুলো ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ বা ভূপৃষ্ঠের বিস্তীর্ণ এলাকা নিমেষেই গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম।   ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির আশঙ্কায় ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন এই ধরনের ভারী বোমার চালান স্থগিত রেখেছিল। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরপরই সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেন।   গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে বিপুল বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় তীব্র বৈশ্বিক সমালোচনা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও দুটি বড় অস্ত্র চুক্তি অনুমোদন করেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা এই হামলায় ইতোমধ্যেই ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের এই অব্যাহত সামরিক সহায়তা বিশ্বজুড়ে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।  

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ডাকযোগে ভোটে ট্রাম্পের কড়াকড়ি আটকে দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোট সীমিত করার উদ্যোগে বড় ধাক্কা খেলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত পরিকল্পনা স্থগিত রাখার নির্দেশ বহাল রেখে তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালতের ৯ সদস্যের বেঞ্চে থাকা ৬ রক্ষণশীল বিচারপতির মধ্যে মাত্র দুজন এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মত দেন।   সংখ্যাগরিষ্ঠদের পক্ষে বিচারপতি ব্রেট কাভানা উল্লেখ করেন, নীতিটি ভবিষ্যতে আইনসম্মত হতে পারলেও নির্বাচনের আগে তা কার্যকরের মতো সময় কর্মকর্তাদের হাতে নেই। ইতোমধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের কাছে ডাকভোটের ব্যালট পাঠানোও শুরু হয়েছে।   এর আগে গত মার্চে কোনো প্রমাণ ছাড়াই ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ডাকভোট সীমিত করতে নির্বাহী আদেশ দেন ট্রাম্প। বিতর্কিত এই আদেশ জারির পরপরই এর বিরুদ্ধে একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জ আসে।   ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের পূর্ণ কর্তৃত্ব কেবল অঙ্গরাজ্যগুলোরই রয়েছে, ফেডারেল সরকারের এতে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।  

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বাব এল-মান্দেব সংকট নিরসনে বৈঠকে বসছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ

জ্বালানি পরিবহনের কৌশলগত জলপথ বাব এল-মান্দেব নিয়ে আলোচনার জন্য জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা প্রণালিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্কে এ বৈঠক ডাকা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের চলতি মাসের সভাপতি ফ্রান্সের অনুরোধে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।   লোহিত সাগরের মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপকে যুক্ত করা জলপথটির নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তীব্র অস্থিরতা শুরু হয়েছে। মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহারও ১৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।   ইয়েমেন উপকূলের এই রুট সুয়েজ খালের প্রবেশদ্বার হওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এ সংকট মোকাবেলায় মঙ্গলবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে।   এদিকে জলপথটির নিয়ন্ত্রণ হারানোয় সৌদি আরব চরম সংকটে পড়েছে এবং রিয়াদ নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জানা গেছে, হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে সহায়তার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন সৌদি যুবরাজ, তবে মার্কিন প্রশাসন তা প্রত্যাখ্যান করেছে।  

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
স্ত্রীকে অচেতন করে ২০ বছর ধরে ধর্ষণসহ আদালতে ৬০টি অপরাধ স্বীকার করেছেন স্বামী

যুক্তরাজ্যে স্ত্রীকে টানা ২০ বছর ধরে অচেতন করে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তি আদালতে নিজের ৬০টি অপরাধ স্বীকার করেছেন। বিবিসির খবরে প্রকাশ, ম্যানচেস্টারের মিনশাল স্ট্রিট ক্রাউন কোর্টে এ স্বীকারোক্তি দিলেও ভুক্তভোগীর পরিচয় সুরক্ষায় স্বামীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। এর আগেও ওই ব্যক্তি একই আদালতে ধর্ষণসহ বেশ কয়েকটি অপরাধের দায় স্বীকার করেছিলেন।   ৬০ বছর বয়সী ওই আসামি আদালতে অভিযোগের বিবরণ শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অচেতন করার উপাদান প্রয়োগ, ধর্ষণ ও অনুপ্রবেশের মতো গুরুতর অভিযোগগুলোর মুখে তিনি বারবার নিজেকে ‘দোষী’ বলে জানান। পরিস্থিতি দেখে একপর্যায়ে বিচারক তাঁকে কাঠগড়ায় বসে পড়ার পরামর্শ দেন।   ভুক্তভোগী নারীর ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনায় আরও ১২ জন ব্যক্তি বর্তমানে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন, যদিও তাঁরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ছাড়া ১৩তম আরেকজন ব্যক্তি আগেই নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। পুরো মামলার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অভিযুক্ত স্বামীর চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করবে আদালত।   তদন্ত অনুযায়ী, স্বামীর অপরাধের শুরু ২০০৪ সাল থেকে এবং তা বহু বছর ধরে চলেছিল। অন্যদিকে অন্য আসামিদের অপরাধের সময়কাল ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত। কয়েক সপ্তাহব্যাপী এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।  

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য, ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ নিন্দা

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্যে পৌঁছেছে সদস্য দেশগুলো। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রকাশিতব্য ‘ব্রিকস নয়াদিল্লি ঘোষণা’য় কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করে সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা জানানো হবে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই অবস্থানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।   ঘোষণায় সংঘাত নিরসনে ‘সংলাপ ও কূটনীতিই একমাত্র পথ’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এর আগে মে মাসে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে পশ্চিম এশিয়া সংকট নিয়ে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতবিরোধের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে এবার সব সদস্যকে একমত করতে পারাকে ভারতের কূটনীতি এবং ব্রিকসের শেরপাদের বড় কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।   দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অংশ নিতে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে সমবেত হয়েছেন ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা। সাত বছর পর ভারত সফরে আসা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে। এর আগে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক সারেন মোদি।   ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। ভারত দীর্ঘস্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে সংলাপের ওপর জোর দেয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের তাগিদ দেয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেজেশকিয়ানের এই প্রথম ভারত সফরকে মোদি ‘বিশেষ’ বলে আখ্যায়িত করেন।   ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে আঞ্চলিক সংকট নিরসন এবং সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও সুসংহত করার বার্তা প্রাধান্য পাচ্ছে। সব মতপার্থক্য কাটিয়ে যৌথ ঘোষণায় পৌঁছানো বৈশ্বিক অঙ্গনে ব্রিকস জোটের ঐক্য ধরে রাখার একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে।  

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সিরিয়ার শারমাদা শহরে অস্ত্রাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ১৪

সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের সারমাদা শহরের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি অস্থায়ী সংরক্ষণাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার ৯ সেপ্টেম্বর দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।   দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধের অবশিষ্টাংশ ও অস্ত্র অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার আগে সাময়িকভাবে সেখানে জড়ো করে রাখা হয়েছিল। আকস্মিক বিস্ফোরণে তাদের বেশ কয়েকজন কর্মীও আহত হন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিস দল পাঠানো হলেও একের পর এক বিস্ফোরণের ফলে দীর্ঘক্ষণ উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়।   কর্তৃপক্ষ এখনো এই প্রাথমিক বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করতে পারেনি। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর ইদলিবের বিন্নিশ এলাকায় আরেকটি গোলাবারুদবাহী গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটেছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, সেই ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু ও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ। মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর এক ভার্চুয়াল অধিবেশনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে আঘাত হানা ঘটনাটি মার্কিন সামরিক সক্ষমতার চরম ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেন তিনি।   নিকজাদের দাবি, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ৩০০ মিটার পথ বিচ্যুত হয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে আঘাত করা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা বাদ দিয়ে নিজেদের এই লজ্জাজনক পরাজয় কীভাবে সামাল দেয়া যায়, সেদিকে নজর দেয়া।   ইরান সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে যুদ্ধ পরিচালনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, তেহরান এখনো তার পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করেনি। অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও কমান্ড পোস্টে হামলার ঘটনা ইরানের নিয়মিত হালনাগাদ করা সামরিক শক্তির একটি ছোট্ট ঝলক মাত্র।   বাকি সম্মানটুকু হারানোর আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চল ছাড়ার পরামর্শ দেন নিকজাদ। মেহের নিউজের বরাত দিয়ে তিনি আরও দাবি করেন, কমান্ড সেন্টারে হামলার পর মার্কিন কমান্ডাররা হোটেলে পালাতে বাধ্য হয়েছেন এবং হতাশ মার্কিন সেনারা থাইল্যান্ডের উপকূলে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন।  

সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষিকার শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ

যুক্তরাজ্যে ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। নিজের বাড়িতে উইম্বলডন খেলা দেখার সময় ওই ছাত্রের সঙ্গে তিনি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ান বলে জানা গেছে। নিউইয়র্ক পোস্ট এ তথ্য প্রকাশ করেছে।   অভিযুক্ত ব্রনওয়েন জেমস সাউদাম্পটনের একটি স্কুলে শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক। প্রসিকিউশন জানায়, স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে ওই কিশোরের সঙ্গে তাঁর আলাপ শুরু হয়, যা পরে ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়।আদালতে জানানো হয়, তাঁরা প্রথমে বাইরে দেখা করে গাড়িতে অন্তরঙ্গ হন। পরে শিক্ষিকার বাড়িতে একসঙ্গে খেলা দেখার সময় তাঁরা চূড়ান্ত শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন।   প্রসিকিউশনের দাবি, জেমস ওই কিশোরকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমনকি একান্ত মুহূর্তে ওই শিক্ষার্থীকে তিনি ‘মিস’ বলে ডাকতে বাধ্য করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।   ভুক্তভোগী কিশোর জানিয়েছে, শুরুতে সম্পর্কটি তার কাছে ভালো মনে হলেও পরে সে আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পারে। সে উপলব্ধি করে, শিক্ষিকা ধীরে ধীরে তাকে সম্পূর্ণ নিজের প্রভাবের মধ্যে নিয়ে গিয়েছিলেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্রনওয়েন জেমস অবশ্য আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা এসব গুরুতর অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।  

সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
কাতারে হামলার কথা গর্বের সাথে স্মরণ করলেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সদর্পে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি কাতারে বোমা হামলা চালিয়েছিলেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা স্বীকার করেন।   গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার মাঝেই ইসরায়েল ওই হামলা চালিয়েছিল। এতে হামাসের পাঁচ সদস্যের পাশাপাশি কাতারের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাও প্রাণ হারান।   সাক্ষাৎকারে কাতারকে একটি ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, গাজা যুদ্ধে তারা ইসরায়েলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। অন্যদিকে ওই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও ‘কাপুরুষোচিত আক্রমণ’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল দোহা।   পরবর্তী সময়ে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফোন করে এই হামলার জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তা সত্ত্বেও নতুন এই সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দারাই গাজায় কাতারের মানবিক সহায়তার কোটি কোটি ডলার পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল।   সমালোচকদের অভিযোগ, কাতারের দেয়া ওই অর্থ ব্যবহার করেই হামাস ৭ অক্টোবরের হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল। হামাসকে অর্থায়নের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে কাতার জানিয়েছে, তাদের সহায়তার অর্থ কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়।  

সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ 0
Popular post
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শে আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক সংবেদনশীলতা, ইতিবাচক চিন্তার শিক্ষা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা

আধুনিক মনোবিজ্ঞানে ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ বা আবেগিক বুদ্ধিমত্তা ধারণাটি তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক। ১৯৯০-এর দশকে মনোবিজ্ঞানী পিটার স্যালোভি ও জন মেয়ার এ তত্ত্বের গোড়াপত্তন করেন। পরবর্তী সময়ে ড্যানিয়েল গোলম্যানের গবেষণার মাধ্যমে তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। গোলম্যানের কাঠামো অনুযায়ী আবেগিক বুদ্ধিমত্তার পাঁচটি মূল স্তম্ভ চিহ্নিত করা হয় : আত্মসচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, অভ্যন্তরীণ প্রেষণা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দক্ষতা। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এ ধারণার মূল উপাদানগুলো মানবসভ্যতার ইতিহাসে বহু আগে থেকেই আদর্শ চরিত্র ও কার্যকর নেতৃত্বের অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। কেবল এত দিন তাত্ত্বিক কাঠামোয় নামকরণ হয়নি।   মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাচরণে এই গুণাবলির এক সমন্বিত ও ব্যবহারিক রূপ বিদ্যমান, যা সমসাময়িক ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব ও মনোবিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত। সমসাময়িক মনোবিজ্ঞান ও নেতৃত্ববিষয়ক আলোচনায় আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক বুদ্ধিমত্তা, সহমর্মিতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সচেতনতা, সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ও ইতিবাচক চিন্তা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তবে এই পরিভাষাগুলো আধুনিক হলেও মহানবি (সা.)-এর জীবনাচরণে এগুলোর বাস্তব ও গভীর প্রয়োগ বহু শতাব্দী আগেই প্রতিফলিত হয়েছিল।   আবেগিক বুদ্ধিমত্তার একটি কেন্দ্রীয় দিক হলো তীব্র মানসিক চাপের মুহূর্তে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে চিন্তাশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নবি করিম (সা.) তাঁর আবেগ নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শন করতেন। মক্কা বিজয়ের সময় সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ঘটনা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বহু বছরের নিপীড়ন, অবরোধ ও যুদ্ধের ইতিহাস সত্ত্বেও প্রতিহিংসার পরিবর্তে সংহতি ও সহাবস্থানের নীতি গ্রহণ করেছিলেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়ায় আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেয়ার একটি কৌশলগত দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, যা নেতৃত্বতত্ত্বের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।   সাংগঠনিক আচরণবিজ্ঞানে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে প্রায়ই ‘ইমোশনাল রেগুলেশন ইন হাই-স্টেকস লিডারশিপ’ বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ নেতৃত্বে আবেগ নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়, যেখানে তাৎক্ষণিক আবেগীয় তাড়নার বদলে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলের কথা বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁর আত্মনিয়ন্ত্রণের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। সন্তান হারানোর শোক, নিকটাত্মীয় বিয়োগ কিংবা অনুসারীদের ভুল-ত্রুটির মুখোমুখি হয়েও তিনি ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতেন বলে হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ পাওয়া যায়। আবেগ প্রকাশে সংযম, অথচ আবেগকে সম্পূর্ণ দমন না করা, এই দ্বৈত ভারসাম্য আধুনিক মনোবিজ্ঞানে ‘ইমোশনাল রেগুলেশন’ এবং ‘ইমোশনাল সাপ্রেশন’-এর মধ্যকার পার্থক্য বোঝার ক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্ত হতে পারে।   সামাজিক বুদ্ধিমত্তার একটি মূল উপাদান হলো ভিন্ন সামাজিক অবস্থান ও প্রেক্ষাপটের মানুষের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক স্থাপনের দক্ষতা। নবি করিম (সা.) দাস, শিশু, নারী, বয়োজ্যেষ্ঠ ও ভিন্নধর্মাবলম্বী সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে তাদের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সংবেদনশীলভাবে আচরণ করতেন। প্রতিবেশীর অধিকার, অতিথি আপ্যায়ন এবং পারস্পরিক পরামর্শ বা ‘শূরা’র নীতির ওপর তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপ এই সামাজিক সংবেদনশীলতারই প্রতিফলন বলে গবেষকরা মনে করেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পরামর্শের ভূমিকা। বদরের যুদ্ধের অবস্থান নির্বাচন থেকে শুরু করে উহুদের যুদ্ধকৌশল পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি অনুসারীদের মতামত গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি ব্যক্তিগত মত ভিন্ন হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।   সাংগঠনিক নেতৃত্বতত্ত্বে এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়াকে ‘পার্টিসিপেটিভ লিডারশিপ’ বলা হয়। যেখানে নেতা তাঁর কর্তৃত্ব বজায় রেখেও অধস্তনদের মতামতকে মূল্য দেন; এবং এর মাধ্যমে সংগঠনের মধ্যে আস্থা ও সংশ্লিষ্টতার অনুভূতি তৈরি করেন। মদিনা সনদ, ইতিহাসে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন লিখিত সংবিধান হিসেবে স্বীকৃত, ছিল এই সামাজিক দক্ষতারই একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহাবস্থানের একটি কাঠামো তৈরি করে তিনি বহুত্ববাদী সমাজ পরিচালনায় সংলাপ ও সমঝোতার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন, যা সমকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সংঘাত-নিরসন তত্ত্বের দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। এই সনদে বিভিন্ন পক্ষের অধিকার ও দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার মাধ্যমে একটি বহু-সাংস্কৃতিক নগর-রাষ্ট্র পরিচালনার যে কাঠামো তৈরি হয়েছিল, তা আধুনিক ‘কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন’ বা সংঘাত-নিরসন তত্ত্বের অনেক মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।   সহমর্মিতার আরেকটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় তাঁর দৈনন্দিন আচরণে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি তাঁর মনোযোগ, রোগীর সেবা এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা শোনার আগ্রহের মধ্যে। এই আচরণ কেবল ব্যক্তিগত সদাচরণের প্রকাশ নয়, বরং একধরনের সক্রিয় শ্রবণ বা ‘অ্যাক্টিভ লিসেনিং’-এর দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে, যা আধুনিক যোগাযোগ তত্ত্বে সম্পর্ক নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে স্বীকৃত।   তায়েফের ঘটনা মহানবি (সা.)-এর আবেগিক নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমাশীলতা ও ভবিষ্যৎমুখী ইতিবাচক চিন্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তায়েফে তিনি প্রত্যাখ্যাত, অপমানিত ও নির্যাতিত হন। শারীরিক নির্যাতন ও অপমানের শিকার হয়েও প্রতিশোধের পরিবর্তে তিনি ধৈর্য ও ক্ষমার পথ বেছে নেন। সহিহ আল-বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, পাহাড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা তাঁকে তাঁর নির্যাতনকারীদের ওপর দুই পাহাড় চাপিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন। প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। আশা করেন যে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্য থেকে এমন মানুষ জন্ম নেবে, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে। এখানে ক্ষমার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। এ ঘটনা কেবল ধর্মীয় সহনশীলতার উদাহরণ নয়, বরং তীব্র মানসিক চাপের মুহূর্তে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার একটি বাস্তব নজির, যাকে আধুনিক পরিভাষায় ‘স্ট্রেস রেগুলেশন’ বা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ বলা যেতে পারে।   এক বেদুঈন মসজিদের ভেতর প্রস্রাব করতে শুরু করলে সাহাবিরা তাঁকে থামাতে উদ্যত হন। কিন্তু মহানবি (সা.) তাঁদের বিরত করেন এবং পরবর্তী সময়ে জায়গাটি পানি দিয়ে পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। তিনি ভুলটিকে সমর্থন করেননি; বরং ভুলকারী ব্যক্তির অজ্ঞতা ও সামাজিক অবস্থাকে বিবেচনায় নিয়েছিলেন। মূল শিক্ষা হলো : অজ্ঞতার চিকিৎসা অপমান নয়, শিক্ষা।   আধুনিক সমাজে মানুষ প্রায়ই ভুল এবং ভুলকারীকে একইভাবে বিচার করে। একটি ভুলের ভিত্তিতে পুরো ব্যক্তিত্বকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। নববি পদ্ধতি ছিল ভিন্ন। ভুল সংশোধন করতে হবে, কিন্তু এমনভাবে, যাতে মানুষের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে এবং তার ফিরে আসার পথ বন্ধ না হয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নীতি প্রয়োগ করা হলে বহু অপ্রয়োজনীয় সংঘাত ও সম্পর্কভাঙন এড়ানো সম্ভব। উহুদের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতেও মহানবি (সা.)-এর নেতৃত্বে আবেগিক ও সামাজিক প্রজ্ঞার উজ্জ্বল উদাহরণ দেখা যায়। কিছু সাহাবির সিদ্ধান্তের কারণে গুরুতর বিপর্যয় ঘটেছিল। মহানবি (সা.) নিজেও আহত হয়েছিলেন। কিন্তু সুরা আলে ইমরান ৩:১৫৯-এ তাঁকে তাঁদের প্রতি কোমল থাকতে, ক্ষমা করতে, তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ অব্যাহত রাখতে বলা হয়। এখানে নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রকাশিত হয়েছে।   একজন অনুসারী ভুল করলেই তার মর্যাদা ও অংশগ্রহণের অধিকার চিরতরে নষ্ট হয়ে যায় না। বরং কার্যকর নেতৃত্ব মানুষের ভুল সংশোধন করে তাকে পুনরায় দায়িত্বশীল অংশগ্রহণে ফিরিয়ে আনে। মহানবি (সা.)-এর নেতৃত্ব তাই শুধু শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তা মানুষের পুনর্গঠন, আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।   তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রকৃত গভীরতা সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝা যায় কাছের মানুষের সাক্ষ্যে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) প্রায় দশ বছর মহানবি (সা.)-এর সেবায় ছিলেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময়ে মহানবি (সা.) তাঁকে কোনো কাজ করা বা না করার জন্য অপমানজনক ভঙ্গিতে প্রশ্ন করেননি। এই সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জনসমক্ষে ভদ্র থাকা তুলনামূলকভাবে সহজ, কিন্তু যারা নিকটবর্তী, অধীনস্থ বা প্রতিদিনের সম্পর্কের অংশ, তাদের সঙ্গে আচরণই ব্যক্তির প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করে।   আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনাতেও পাওয়া যায় যে মহানবি (সা.) ব্যক্তিগত কারণে প্রতিশোধ নিতেন না এবং কোনো নারী বা খাদেমকে হাতে আঘাত করেননি। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোমলতা বজায় রাখা তাঁর নৈতিক ও আবেগিক পরিপক্বতার একটি উল্লেখযোগ্য দিক। শিশুদের প্রতি তাঁর আচরণ সামাজিক সংবেদনশীলতার আরেকটি মানবিক উদাহরণ। আনাস (রা.)-এর ছোট ভাই আবু উমাইরের একটি পাখি ছিল এবং মহানবি (সা.) তাঁর সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন ও পাখিটির খবর নিতেন। রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, ধর্মীয় ও বিচারিক অসংখ্য দায়িত্বের মধ্যেও একটি শিশুর ক্ষুদ্র আনন্দ ও দুঃখ তাঁর কাছে গুরুত্ব হারায়নি।   মহানবি (সা.)-এর সামাজিক বুদ্ধিমত্তা ধর্মীয় ভিন্নতার ক্ষেত্রেও মানবিক মর্যাদার প্রতি গভীর সম্মান প্রকাশ করে। একজন ইহুদি ব্যক্তির জানাজা অতিক্রম করার সময় তিনি উঠে দাঁড়ান। তাঁকে জানানো হলো যে মৃত ব্যক্তি ইহুদি। তিনি প্রশ্ন করেন, “সে কি একটি প্রাণ নয়?” এই সংক্ষিপ্ত ঘটনায় একটি সর্বজনীন মানবিক নীতি নিহিত রয়েছে। ধর্মীয়, সামাজিক বা রাজনৈতিক মতপার্থক্য মানুষের মৌলিক মর্যাদা অস্বীকারের কারণ হতে পারে না।   বর্তমান বিভক্ত বিশ্বে এই শিক্ষা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামাজিক মেরুকরণ প্রায়ই মানুষকে এমন অবস্থায় নিয়ে যায়, যেখানে নিজের দলের মানুষের কষ্টকে গুরুত্ব দেয়া হয়, কিন্তু ভিন্ন পরিচয়ের মানুষের কষ্টকে উপেক্ষা করা হয়। এ কারণেই মানুষ মহানবি (সা.)-এর পাশে নিজেদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ মনে করত। ভুল করলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে, কষ্ট পেলে তিনি শুনবেন, দুর্বল হলে অপমান করবেন না, শিশু হলে অবহেলা করবেন না, অধীনস্থ হলে মর্যাদা কমবে না এবং ভিন্ন বিশ্বাসের হলেও মানবিক অস্তিত্ব অস্বীকার করা হবে না। এই নিরাপত্তাবোধ তাঁর নেতৃত্বের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য ছিল। কোরআনের ভাষায়, তিনি যদি রূঢ় ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, মানুষ তাঁর চারপাশ থেকে সরে যেত। ফলে নববি নেতৃত্বের অন্যতম শিক্ষা হলো : মানুষ শুধু শক্তিশালী নেতার অনুসারী হয় না, তারা সেই নেতার প্রতি আস্থাশীল হয়, যার কাছে তাদের মর্যাদা নিরাপদ।   কোরআন মহানবি (সা.)-এর এই মানবিক ও আবেগিক চরিত্রকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে তুলে ধরে। সুরা আত-তাওবা ৯:১২৮-এ বলা হয়েছে যে, মানুষের কষ্ট তাঁর কাছে অত্যন্ত কষ্টকর ছিল, তিনি মানুষের কল্যাণকামী এবং মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল ও দয়ালু ছিলেন। এ বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, তাঁর সহমর্মিতা ছিল শুধু নৈতিক বক্তব্য নয়; বরং তা তাঁর নেতৃত্ব ও সামাজিক সম্পর্কের মৌলিক ভিত্তি ছিল। অন্যের দুর্দশা, ব্যথা ও দুর্বলতার প্রতি সংবেদনশীলতা তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। মহানবি (সা.)-এর আবেগিক বুদ্ধিমত্তার আরেকটি কেন্দ্রীয় দিক ছিল আত্মসংযম। তিনি শক্তির প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেন। সহিহ আল-বুখারির হাদিসে তিনি বলেন, প্রকৃত শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং সে, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই বক্তব্য মানবিক আত্মনিয়ন্ত্রণের গভীর তাৎপর্য প্রকাশ করে।   নববী দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রকৃত শক্তি হলো আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। মক্কিজীবনের প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিক বয়কট, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতির মুখেও নবুয়তি দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকা এবং অনুসারীদের মধ্যে আশাবাদ সঞ্চার করার প্রবণতা আধুনিক মনোবিজ্ঞানের ‘রেজিলিয়েন্স’ বা প্রতিরোধ-সক্ষমতা ধারণার সঙ্গে তুলনীয়। বদর ও উহুদের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনায়ও তিনি হতাশার পরিবর্তে ভবিষ্যৎমুখী পুনর্গঠনের নীতি অনুসরণ করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক বিবরণ থেকে জানা যায়।   হিজরতের সময়কার একটি বহুল-উদ্ধৃত ঘটনাও এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ। সাওর গুহায় আশ্রয় নেয়ার সময় শত্রুপক্ষের নিকটবর্তী উপস্থিতি সত্ত্বেও তিনি তাঁর সহচরকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। এ ঘটনা চরম অনিশ্চয়তার মুহূর্তেও স্থিতধী মনোভাব বজায় রাখার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। ইতিবাচক মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘কগনিটিভ রিফ্রেমিং’ বলা যেতে পারে। অর্থাৎ একই পরিস্থিতিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করে মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই ইতিবাচক মনোভাব কোনো নিষ্ক্রিয় আশাবাদ নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। শত্রুরা তাঁদের খুঁজছিল এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।   আবু বকর (রা.) উদ্বিগ্ন হলে মহানবি (সা.) বলেন, “চিন্তিত হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।” ( সুরা আত-তাওবা ৯:৪০) এখানে তিনি বাস্তব বিপদকে অস্বীকার করেননি, বরং বিপদের মাঝেও আল্লাহর সাহায্যের প্রতি আস্থা বজায় রেখেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি শেখায় যে জীবনের কোনো একটি সংকটকে সমগ্র ভবিষ্যতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খননের কৌশল গ্রহণ কিংবা মদিনায় অভিবাসনের পর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ।   এসব দৃষ্টান্ত থেকে বোঝা যায়, তাঁর আশাবাদ বাস্তবতাবিবর্জিত ছিল না, বরং কার্যকর পরিকল্পনার সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এই সমন্বয়কে আধুনিক ব্যবস্থাপনা-তত্ত্বে ‘রিয়েলিস্টিক অপটিমিজম’ বা বাস্তবতাভিত্তিক আশাবাদ বলা হয়, যেখানে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবতা-বিচ্ছিন্ন না হয়ে কার্যকর পদক্ষেপের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই আবেগিক ও সামাজিক প্রজ্ঞার সঙ্গে মহানবি (সা.)-এর ইতিবাচক চিন্তা গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাঁর জীবন পিতৃহীনতা, মাতৃহীনতা, প্রিয়জন হারানো, সামাজিক বর্জন, উপহাস, নির্যাতন, যুদ্ধ ও বিরোধিতায় পরিপূর্ণ ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি তিক্ত, প্রতিহিংসাপরায়ণ বা হতাশ হয়ে যাননি। মানুষের পরিবর্তনের সম্ভাবনায় বিশ্বাস রেখেছেন। চাকরি হারানো, পরীক্ষায় ব্যর্থতা বা আর্থিক সংকট এসব জীবনের কঠিন অধ্যায় হতে পারে। কিন্তু পুরো জীবন নয়।   মহানবি (সা.) আশাব্যঞ্জক কথাও পছন্দ করতেন। সহিহ হাদিসে তাঁর ভালো, সুন্দর ও আশাজাগানিয়া কথা পছন্দ করার কথা এসেছে। এর তাৎপর্য হলো, ভাষা মানুষের মনোবল ও আচরণে প্রভাব ফেলে। ‘তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না’ এবং ‘ভুল হয়েছে, কিন্তু চেষ্টা করলে উন্নতি সম্ভব’ এ দুই ধরনের বক্তব্য একই বাস্তবতার প্রতি সম্পূর্ণ ভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। নববি ইতিবাচকতা এমন ভাষার ব্যবহার করে, যা মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি ও পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে অক্ষুণ্ন রাখে। একই সঙ্গে এই ইতিবাচকতা কোনো কৃত্রিম আবেগ-দমন ছিল না।   মহানবি (সা.) কেঁদেছেন। শোক প্রকাশ করেছেন। মানুষের আচরণে কষ্ট পেয়েছেন এবং উম্মতের জন্য উদ্বিগ্ন হয়েছেন। ফলে দুঃখ অনুভব করা বা কান্না করা ইমানের দুর্বলতার প্রমাণ নয়। একজন মানুষ একই সঙ্গে কষ্ট অনুভব করতে পারে এবং আল্লাহর ওপর আস্থাও রাখতে পারে। সামগ্রিকভাবে মহানবি (সা.)-এর আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক প্রজ্ঞা এবং ইতিবাচক চিন্তা একটি সমন্বিত মানবিক দর্শন নির্মাণ করে। এ দৃষ্টিভঙ্গির সারকথা হলো : মানুষের হৃদয় জয় করতে তাকে পরাজিত করার প্রয়োজন নেই। তাকে বোঝা প্রয়োজন। মানুষের ভুলের মধ্যেও সম্ভাবনা দেখতে হবে। কষ্টের মধ্যেও আশা রাখতে হবে। ভয়ের মধ্যেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। অশ্রুর মধ্যেও পথচলা অব্যাহত রাখতে হবে। এই শিক্ষা শেষ পর্যন্ত কোরআনের সেই গভীর ঘোষণার সঙ্গে সংযুক্ত হয় : মহানবি (সা.) বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর শক্তির গভীরে ছিল দয়া। তাঁর নেতৃত্বের কেন্দ্রে ছিল মানুষের হৃদয়। তাঁর ইতিবাচকতার কেন্দ্রে ছিল আল্লাহর ওপর আস্থা।   আধুনিক সমাজে যেখানে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও সহমর্মিতার ঘাটতি রয়েছে, সেখানে তাঁর জীবন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রকৃত প্রজ্ঞা হলো ক্ষমতার মধ্যেও কোমল থাকা। কষ্টের মধ্যেও ন্যায়বান থাকা। ক্রোধের মধ্যেও আত্মসংযমী থাকা। মানুষের ভুলের মধ্যেও তার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎকে দেখতে শেখা। বর্তমান কর্মক্ষেত্র ও সমাজে নেতৃত্বের সংকট, মানসিক চাপ ও আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্কের জটিলতা ক্রমবর্ধমান একটি আলোচ্য বিষয়। বিশ্বজুড়ে ব্যবস্থাপনা-শিক্ষায় ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘রেজিলিয়েন্স’ এখন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এবং বহু প্রতিষ্ঠান নেতৃত্ব-উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই দক্ষতাগুলোকে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমান বা তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে। বাংলাদেশসহ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পারিবারিক পরিমণ্ডল ও কর্মক্ষেত্রে নৈতিক নেতৃত্বের আদর্শ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঐতিহাসিক-বিশ্লেষণাত্মক পাঠ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।  

চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

সেবিকা

বয়সটা নিতান্তই বাল্যকাল। শখের প্রিয় টেপা পুতুলঘোড়ার খেলনাগুলো এক পাশে রেখে যখন থার্মোমিটার, রক্তচাপ মান যন্ত্রাংশের স্পর্শতা পেয়েছিল, ঢের বুঝেছিলাম একদিন সু-বিশালতার আদর্শ সেবিকা হব।   হঠাৎ অগোচরে বাবার শরীর কাঁপুনিতে জ্বরের আগমনী বার্তা। মনের উদ্দীপ্ত একাগ্রতা চিত্তের আকুলতায় সেবিকা আদর্শে স্পর্শ ছোঁয়ায় অনবদ্য মাধুর্যতা। স্নিগ্ধতায় মস্তকে হাত বুলিয়ে বাবার পরশমণির মৃদু হাসির আড়ালে এক উচ্চারিত প্রতিধ্বনি, “অনেক বড় হও মা। সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনার আলোয় আলোকিত করো প্রতিটি জীবের শুদ্ধতার পবিত্র অন্তর।” এই উচ্চারিত প্রতিধ্বনি কেবল এক নিচ্ছুক শব্দ নয়, জীবনবৃত্তান্তে বেড়ে ওঠা স্বপ্ন পূরণের বহিঃপ্রকাশ।   বাংলার সবুজ দিগন্তে প্রকৃতির নিবিড়য়তায় স্বপ্নগুলো আমার একান্তই সঙ্গী। সন্ধ্যা আঁধারে ঝিঁঝি পোকার আলোই বয়ে চলা নিঃসঙ্গতা নদীপথ। নিদ্রা যাপনে কল্পনার জগৎ ভাবে ভাবান্তর অতুলনীয় স্বপ্ননীল সুন্দর।   কালবেলার দ্বিখণ্ডিত পর্বে শতাব্দীর অবসান। কত শত জীবন্ত মরুভূমি প্রান্তরে অলীক চিন্তার মোড়কে স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার। স্বপ্নসিঁড়ির যাত্রাপথে শহরতলির অভিশপ্ত নগরী আমার আবাসস্থল। ইট-পাথরের শহর গলিপথে অসহায়ত্বের শান্তিনিকেতনে আমার দিবালয় মিশনারি হাসপাতাল।    সমুদ্রের কিনারে সূর্যাস্তে ঢলে পড়া ক্লান্ত সন্ধ্যায় মুঠোফোনের ওপাশ থেকে এক শুভেচ্ছা বার্তা। এই তো এখানে জায়গা আছে। হৃদয়ের সুপ্ত গভীরতায় যে স্বপ্ন বুনেছিলাম, তার প্রতিটি অপেক্ষা পূরণের ব্যাকুলতায় সীমাহীন আনন্দ অভিমান।    পাখিডাকা ভোরের উষ্ণ শীতলতায় ওয়ান জিরো ফোর অপারেশন থিয়েটার। হাসপাতালের প্রতিটি ইট, ধূলিকণা যেন এক নির্বাক বাঁচার আকুতি। কিছু মুহূর্তে হারিয়ে গিয়েছিলাম বিষাদ সিন্ধুর একাকিত্বে। হঠাৎ দরজায় কড়া নেড়ে রুক্ষ মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে এক জীবন্ত সেবিকা। বিষণ্ন বাতাসে মৃদু হেসে বলিয়া উঠিল, “তোমার ডিউটি ওয়ান জিরো ফোর অপারেশন থিয়েটার রুম।”   বেস্ট রঙের যুগলবন্দী পোশাকের ঘ্রাণের মাধুর্যতা আমার শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় বহমান। মুহূর্তেই এক দুঃখবিলাসী জীবনের কাতরতায় অভাগীর অনুপ্রবেশ।   বাঁচার আকুতি এবং সেবা গ্রহণের প্রতীক্ষায়। আগ্রহ বাড়িয়ে হৃদয়স্পর্শী সেবা দানে সমাপ্ত হইল তাহার নিকট আমার প্রথম সেবার আত্মনিবেদন।    

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

Top week

সাহিত্য

শরৎ

অক্টোবর ২, ২০২৬ 0