Breaking news

প্রধানমন্ত্রী

ছবি : বাসস
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০২ জনকে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ দিল সরকার

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষা ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ১০২ জন শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ের বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে সরকার। সোমবার ৫ অক্টোবর রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মাননা হিসেবে প্রত্যেক গুণী শিক্ষককে নগদ দুই লাখ টাকা, একটি ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।   সম্মাননাপ্রাপ্তদের তালিকায় প্রাথমিক পর্যায়ের ১০ জন, মাধ্যমিকের ২০ জন এবং কলেজ পর্যায়ের ২৫ জন শিক্ষক স্থান পেয়েছেন। এ ছাড়া সাধারণ, মেডিকেল, কৃষি, প্রকৌশলসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ জন শিক্ষক এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত বিশেষ ৭ জন শিক্ষককে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।   জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা, পেশাগত সুরক্ষা এবং অধিকার সুরক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দেশজুড়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। শিক্ষক সমাজের মর্যাদা বৃদ্ধি ও মানসম্মত শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।  

অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর যানজট নিরসনে অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক (ইনার সার্কুলার রিং রোড) নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে সমন্বিতভাবে বর্তমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।   প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নের সব প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা, কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি আনা এবং একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের তাগিদ দেন তিনি।   ওই পর্যালোচনা সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীগণ এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার, ৮০ শতাংশই নারী : প্রধানমন্ত্রী

সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে এই কর্মীদের প্রায় ৮০ শতাংশ পদে নারীদের নিয়োগ দেয়া হবে। শনিবার ৩ অক্টোবর ঢাকায় সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেছেন।   প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এসব কর্মী তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যপরামর্শ ও রেফারেল কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হবে।   জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, নীতির ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সরকারের মূল অগ্রাধিকার। এখন সময় প্রতিশ্রুতি থেকে সরাসরি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়ার।   সামাজিক সুরক্ষা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সুবিধাবঞ্চিতদের অগ্রাধিকার দিতে কর্মসূচিগুলো ঢেলে সাজানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারের মায়েদের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে।  

অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫০ বেডে উন্নীত করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের সুবিধার পাশাপাশি দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফেনীর পরশুরামে ১,৫০০ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া সেচ প্রকল্প উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ বেড থেকে ১৫০ বেডে উন্নীত করার সুস্পষ্ট ঘোষণা দেন।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষকে যেন চিকিৎসার জন্য জেলা সদর কিংবা রাজধানীতে ছুটতে না হয়, সে জন্য তৃণমূল পর্যায়েই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড এবং মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই প্রান্তিক কৃষকদের হাতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার।   অত্র অঞ্চলের অতীত বন্যার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষিকাজে সুবিধার জন্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নদী ও খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। মানুষের মৌলিক কল্যাণ ও জীবনমানের উন্নয়নই বর্তমান সরকারের রাজনীতির মূল লক্ষ্য।   পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সমাবেশে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল চৌধুরী মিন্টু, স্থানীয় সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনুসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা ও দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  

অক্টোবর ১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।   বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রী তাঁর অবস্থানস্থল হোটেল হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে পৌঁছান। এ সময় সেখানে সমবেত দলীয় নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা নানা প্ল্যাকার্ড-ব্যানার হাতে স্লোগান দিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধিদলে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ সরকারের শীর্ষ নীতি-নির্ধারকেরা।   আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আইনের শাসন, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো উঠে আসবে। সফরসূচি অনুযায়ী, অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীসহ কোনো প্রতিনিধি যাচ্ছেন না : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। আজ বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গাবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের ফাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। পরে বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ কথা জানানো হয়।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে অনুকূল পরিবেশ হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর হবে কি না, সেটা নিয়ে কিছুদিন ধরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। আগামী শনিবার ও রোববার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আসর বসছে। এ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দিতে বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।   এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তাঁকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানায় ভারত। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির কয়েক দিন আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
পাঁচ বছরের মধ্যে সেচে সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্প দেবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সেচকাজে ডিজেলচালিত পাম্পের বদলে কৃষকদের সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানির পাম্প দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরুর পর প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ৩০ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ-সংক্রান্ত সরকারি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রণীত জাতীয় কৌশলপত্র অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে মোট উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫,৫০০ হাজার মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪,৫০০ হাজার মেগাওয়াট এবং বায়ু, বর্জ্য ও ভাসমান সোলার থেকে আরও প্রায় ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।   সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গতি আনতে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারিসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যে শুল্ক ও কর ছাড় দেয়া হয়েছে বলে জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যয়ের ওপর মুনাফা ও প্রমিয়াম ধরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রতি ইউনিট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। নেট মিটারিং নির্দেশিকা অনুসরণ করে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যাঁরা এ ব্যবস্থা গড়ে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেবেন, তাঁরা পরবর্তী তিন বছর এই বর্ধিত মূল্যে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন।   সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর অপর এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লেড ব্যাটারির ক্ষতিকর এসিড পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করায় সরকার আধুনিক লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। দেশে লিথিয়াম ব্যাটারি কারখানা প্রতিষ্ঠায় সার্বিক সহায়তা দেয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।  

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহার না করার নির্দেশ

সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও কোনো লিখিত সম্মানসূচক শব্দ প্রয়োগ না করার বিষয়ে জানানো হয়েছে। আজ বুধবার ৯ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়।   পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, নথিপত্র তৈরি, সারসংক্ষেপ উপস্থাপন কিংবা যেকোনো ধরনের দাপ্তরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এসব পদবির সঙ্গে আর কোনো প্রচলিত সম্মানজনক শব্দ লিখিতরূপে যুক্ত করা যাবে না।   এ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা সমমানের কোনো বিশেষণ ব্যবহার না করতে অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।  

সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। তথ্যসূত্র : বাসস   প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল সরকারি নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না, বরং ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও সবাইকে কাজ করতে হবে। নিজেদের এবং আগামী প্রজন্মের সুস্থতার স্বার্থেই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও দূষণমুক্ত নদী রেখে যাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।   বৈঠকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু, শীতলক্ষ্যা নদীসহ এর আশপাশের খাল-নর্দমার দূষণ রোধ এবং বর্জ্য অপসারণের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া এসব নদ-নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার নৌপথ উন্নয়নের সার্বিক পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।   নদী রক্ষায় এ পর্যন্ত যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করে একযোগে কাজ এগিয়ে নেয়ার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।   এই পর্যালোচনা সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঢাকা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার এবং ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এতে অংশ নেন।  

সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ 0
ছবি : বাসস
জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫টি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে : সংসদে প্রধামন্ত্রী

চলমান তীব্র জ্বালানি সংকট থেকে মুক্তি পেতে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সমন্বিত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলের অপর্যাপ্ত অনুসন্ধান ও আমদানিনির্ভর নীতি জ্বালানি খাতকে স্থবির করে রেখেছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন স্থানীয় গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি, থ্রিডি ও টুডি সিসমিক জরিপ চালানো, জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আধুনিক ও শক্তিশালীকরণ, পিএসসি মডেল হালনাগাদসহ নতুন বিডিং এবং এলএনজি অবকাঠামো প্রসারের কাজ শুরু হয়েছে।   ইতোমধ্যে নির্ধারিত ১৫০টি কূপ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়ে জাতীয় গ্রিডে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস সংযুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি বাপেক্সের কার্যক্ষমতা বাড়াতে দুটি নতুন রিগ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে নতুন গ্যাসক্ষেত্র খোঁজার জোর প্রস্তুতি চলছে।   সংকট দূর করতে বহিরাঙ্গনে নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে গ্যাস আমদানি সক্ষমতা আরও ৬০০ এমএমসিএফডি পর্যন্ত বাড়ানো হবে। এ ছাড়া ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে একটি ভাসমান টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনার পাশাপাশি মোংলা বা পায়রা বন্দরেও সম্ভাব্য নতুন টার্মিনাল বসানোর সমীক্ষা করা হচ্ছে।  

সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
শহিদ ও ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৭৪ জন সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেন, এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহিদ ও ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।   সীমিত সম্পদের মধ্যেও সরকার এসব পরিবারের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে তিনি দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যাদের মহান ত্যাগের বিনিময়ে আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে, তাদের আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারী ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এই সরকার বদ্ধপরিকর।”   সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে সরকারের কাজের মূল প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের এই ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণেই সরকার পূর্ণোদ্যমে কাজ করার সাহস পাচ্ছে।” দেশ ও জাতিকে নিয়ে আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধাদের যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণে তিনি শহিদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও উৎসাহ কামনা করেন। অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।  

আগস্ট ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মূল অধিবেশনের আগে সংসদে সরকারদলীয় এমপিদের সাথে বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরুর আগে সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। ২৭ আগস্ট বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এ বৈঠকের তথ্য প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং নিশ্চিত করেছে। এদিকে আজ বিকেল ৩টায় শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনের কার্যসূচিতে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোকপ্রস্তাব, প্রশ্নোত্তর পর্ব, জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়, আইন প্রণয়নসহ নানা বিষয় রয়েছে।   জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ৫ থেকে ১০ দিনের এই সংক্ষিপ্ত অধিবেশনের প্রয়োজনবোধে মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে এবং বিরোধী দলের সদস্যদের নাম পেলেই তা চূড়ান্ত করা হবে। এ ছাড়া অধিবেশনে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষাসহ প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে। বিশেষ করে, সম্পত্তি হস্তান্তর বিলে মা-বাবা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও আজীবন তাঁদের ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।   চিফ হুইপ আরও জানান, জুলাই সনদের অঙ্গীকার ও নির্বাচনী ইশতেহারের ওপর জনগণের আস্থার ভিত্তিতেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে বিদ্যমান আইনে পরিবর্তন আনা হবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে বিএনপি থেকে ৭ জন, জামায়াত থেকে ৫ জন এবং অন্যান্য দল থেকে সদস্য রাখার কথা রয়েছে।   গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবিধান সংশোধন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সরকারের জবাবদিহি ও সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়া প্রণীত হওয়ায় ২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল করেছে সরকার। ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে।   মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী তালিকা প্রণয়নের আগে উপদেষ্টা পরিষদের মতামত নেয়া বাধ্যতামূলক হলেও এবার তা মানা হয়নি। ফলে গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত তালিকাটির বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতে বর্তমানে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।   নতুন এই তালিকা বাতিল হলেও ১৯৯৪ সালের আদেশে প্রণীত ওষুধের তালিকা ও সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা আগের মতোই কার্যকর থাকবে। সরকার জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না ফেলে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখার লক্ষ্যে শিগগিরই ওষুধের তালিকা নতুন করে হালনাগাদ করা হবে।   পাশাপাশি গত ২৯ জুন গঠিত জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও এদিন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে।  

আগস্ট ৩, ২০২৬ 0
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ অধ্যায়

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু মানুষ কেবল ব্যক্তি হিসেবে ইতিহাসে প্রবেশ করেন না, তাঁরা নিজেরাই হয়ে ওঠেন একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি। তাঁদের জীবনকে আলাদা করে দেখার সুযোগ থাকে না। কারণ, তাঁদের উত্থান-পতন, সংগ্রাম, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে রাষ্ট্রের গতিপথ। বেগম খালেদা জিয়া তেমনই এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধু বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি বাংলাদেশের বহুদলীয় রাজনীতি, গণতন্ত্রের আন্দোলন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাসের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের নাম।   ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের একটি পরিসমাপ্তি ঘটে। বাংলাদেশ সরকার তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু একজন রাজনৈতিক নেতার মৃত্যু তাঁর রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটায় না। বরং মৃত্যুর পরই শুরু হয় ইতিহাসের নির্মোহ মূল্যায়ন। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও প্রশ্নটি তাই কেবল ‘তিনি কে ছিলেন’ নয়; বরং ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি কী রেখে গেলেন?’ খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্থান ছিল বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের ধারার তুলনায় ব্যতিক্রমী। তিনি ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসেননি, কোনো দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের মধ্য দিয়ে জাতীয় নেতৃত্বে আসেননি। পারিবারিক জীবনের পরিণত বাস্তবতা তাঁকে রাজনীতির ময়দানে নিয়ে আসে। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে উঠে আসেন। ১৯৮০-এর দশকে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব ধীরে ধীরে তাঁকে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখে পরিণত করে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের পাশাপাশি বিএনপি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনও রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘ আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের পর ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতা ছাড়েন। ওই সময় থেকেই খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম প্রধান নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসন লাভ করে এবং একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর ধারাবাহিকতায় ২০ মার্চ ১৯৯১ খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এটি শুধু একজন নারীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা ছিল না। বাংলাদেশের মতো একটি সদ্য স্বাধীন, রাজনৈতিকভাবে অস্থির এবং সামরিক শাসনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দেশে একজন নারী রাজনৈতিক নেত্রীর হাতে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব যাওয়া ছিল সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাঁর প্রথম সরকারের সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটে। ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদে দ্বাদশ সংশোধনী বিল পাস হয়। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয়। খালেদা জিয়া এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক চালিকাশক্তি ছিলেন। ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ তিনি নতুন সংসদীয় ব্যবস্থার অধীনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনরায়  শপথ নেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের একটি। কারণ, রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামো পরিবর্তন কোনো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অর্জন নয়, এটি একটি দেশের শাসনব্যবস্থার চরিত্র নির্ধারণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদের কাছে সরকারের জবাবদিহির ধারণাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সংসদীয় ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন ছিল একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। আজকের বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের যে সাংবিধানিক কাঠামো, তার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে খালেদা জিয়ার নাম তাই অনিবার্যভাবেই উচ্চারিত হবে। খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের সময় শিক্ষা খাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি এবং ‘ফুড ফর এডুকেশন’ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এসব পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য ছিল শিক্ষার সুযোগকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করা এবং মেয়েদের বিদ্যালয়মুখী করা।   একটি সমাজে মেয়েদের শিক্ষার বিস্তার শুধু শিক্ষার হার বাড়ায় না; এটি পরিবার, অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোকেও পরিবর্তন করে। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের মূল্যায়নে তাই নারী শিক্ষার প্রসারে তাঁর সরকারের নেয়া উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাঁর প্রথম মেয়াদে যমুনা বহুমুখী সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এটি পরবর্তীকালে দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। যমুনা সেতু শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প ছিল না। এটি বাংলাদেশের ভৌগোলিক বিভাজন কমিয়ে অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগে পরিণত হয়। একই সময়ে বৃক্ষরোপণকে জাতীয় সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার উদ্যোগও নেয়া হয়েছিল। অর্থাৎ তাঁর সরকারের উন্নয়নচিন্তায় শিক্ষা, যোগাযোগ ও পরিবেশের মতো বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছিল। খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল আঞ্চলিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের সক্রিয়তা। ১৯৯৩ সালে ঢাকায় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন। খালেদা জিয়া সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখেন । এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে। রাজনীতির সৌন্দর্য হলো, রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি বিরোধী দলের ভূমিকাও গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর খালেদা জিয়া জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তিনি বিরোধী রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। অর্থাৎ তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় শুধু প্রধানমন্ত্রীতে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি সরকার পরিচালনা করেছেন, আবার বিরোধী দল থেকেও জাতীয় রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছেন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট বড় জয়লাভ করে। বিএনপি একাই ৩০০ আসনের মধ্যে ১৯৩টি আসন পায়। ১০ অক্টোবর ২০০১ খালেদা জিয়া তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এই নির্বাচনী বিজয় প্রমাণ করে, ১৯৯১ সালের পরও তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা শেষ হয়ে যায়নি। বরং এক দশক পর তিনি আবারও জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের তাঁর সরকারের সময়ে রপ্তানি আয়, প্রবাসী আয়, শিল্প ও টেলিযোগাযোগ খাতে প্রবৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো অর্থনৈতিক পরিবর্তন দেখা যায়। খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অর্জনগুলোর একটি হয়তো পরিসংখ্যান দিয়ে মাপা যাবে না। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যে, একজন নারী শুধু রাজনীতির অংশগ্রহণকারীই নন, তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী দায়িত্বও পালন করতে পারেন।   দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের ইতিহাসে তাঁর অবস্থান তাই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এমন এক সময়ে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যখন রাজনীতি ছিল পুরুষপ্রধান এবং ক্ষমতার কেন্দ্র ছিল কঠোর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবদ্ধ। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন পরবর্তী প্রজন্মের বহু নারীকে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পথ দেখিয়েছে। একজন মানুষ যখন কয়েক দশক ধরে একটি দেশের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকেন, তখন তিনি আর শুধু ব্যক্তি থাকেন না। তিনি হয়ে ওঠেন একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই।   ১৯৮০-এর দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে ১৯৯১ সালের সরকার গঠন, সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, শিক্ষা ও নারী উন্নয়নের উদ্যোগ, ১৯৯৬ সালে বিরোধীদলীয় নেতৃত্ব এবং ২০০১ সালে আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন, তাঁর রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দশককে ধারণ করে আছে। তিনি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান নেতা। সরকারি নথিতেও তাঁকে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। খালেদা জিয়াকে কেবল ‘প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী’ বললে তাঁর রাজনৈতিক ব্যাপ্তি ছোট হয়ে যায়। তাঁকে শুধু ‘বিএনপি চেয়ারপারসন’ বললেও তাঁর ইতিহাস সম্পূর্ণ হয় না। তাঁকে বুঝতে হলে দেখতে হবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উত্তরণ, সংসদীয় সরকারব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, নারী নেতৃত্বের বিকাশ, শিক্ষা বিস্তার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জাতীয় রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ধারার বিকাশের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা।   ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাঁর জীবনাবসান হয়েছে। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হয়নি। কারণ, ইতিহাসে কিছু মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁদের সিদ্ধান্ত, নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে যায় বহু বছর। খালেদা জিয়া সেই অর্থে শুধু একজন নারী নন। তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি দীর্ঘ অধ্যায়।   একটি অধ্যায়, যেখানে একজন গৃহবধূ জাতীয় নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন; একজন নারী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন; একজন রাজনৈতিক নেতা সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন; এবং কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনকে যে যেভাবেই মূল্যায়ন করুক, একটি সত্য অস্বীকার করার সুযোগ নেই: বাংলাদেশের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাস খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে লেখা সম্ভব নয়। কারণ, তিনি শুধু ইতিহাসের একজন চরিত্র ছিলেন না। তিনি নিজেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি দীর্ঘ অধ্যায়।  

আগস্ট ১, ২০২৬ 0
Popular post
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শে আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক সংবেদনশীলতা, ইতিবাচক চিন্তার শিক্ষা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা

আধুনিক মনোবিজ্ঞানে ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ বা আবেগিক বুদ্ধিমত্তা ধারণাটি তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক। ১৯৯০-এর দশকে মনোবিজ্ঞানী পিটার স্যালোভি ও জন মেয়ার এ তত্ত্বের গোড়াপত্তন করেন। পরবর্তী সময়ে ড্যানিয়েল গোলম্যানের গবেষণার মাধ্যমে তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। গোলম্যানের কাঠামো অনুযায়ী আবেগিক বুদ্ধিমত্তার পাঁচটি মূল স্তম্ভ চিহ্নিত করা হয় : আত্মসচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, অভ্যন্তরীণ প্রেষণা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দক্ষতা। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এ ধারণার মূল উপাদানগুলো মানবসভ্যতার ইতিহাসে বহু আগে থেকেই আদর্শ চরিত্র ও কার্যকর নেতৃত্বের অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। কেবল এত দিন তাত্ত্বিক কাঠামোয় নামকরণ হয়নি।   মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাচরণে এই গুণাবলির এক সমন্বিত ও ব্যবহারিক রূপ বিদ্যমান, যা সমসাময়িক ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব ও মনোবিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত। সমসাময়িক মনোবিজ্ঞান ও নেতৃত্ববিষয়ক আলোচনায় আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক বুদ্ধিমত্তা, সহমর্মিতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সচেতনতা, সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ও ইতিবাচক চিন্তা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তবে এই পরিভাষাগুলো আধুনিক হলেও মহানবি (সা.)-এর জীবনাচরণে এগুলোর বাস্তব ও গভীর প্রয়োগ বহু শতাব্দী আগেই প্রতিফলিত হয়েছিল।   আবেগিক বুদ্ধিমত্তার একটি কেন্দ্রীয় দিক হলো তীব্র মানসিক চাপের মুহূর্তে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে চিন্তাশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নবি করিম (সা.) তাঁর আবেগ নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শন করতেন। মক্কা বিজয়ের সময় সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ঘটনা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বহু বছরের নিপীড়ন, অবরোধ ও যুদ্ধের ইতিহাস সত্ত্বেও প্রতিহিংসার পরিবর্তে সংহতি ও সহাবস্থানের নীতি গ্রহণ করেছিলেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়ায় আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেয়ার একটি কৌশলগত দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, যা নেতৃত্বতত্ত্বের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।   সাংগঠনিক আচরণবিজ্ঞানে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে প্রায়ই ‘ইমোশনাল রেগুলেশন ইন হাই-স্টেকস লিডারশিপ’ বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ নেতৃত্বে আবেগ নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়, যেখানে তাৎক্ষণিক আবেগীয় তাড়নার বদলে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলের কথা বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁর আত্মনিয়ন্ত্রণের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। সন্তান হারানোর শোক, নিকটাত্মীয় বিয়োগ কিংবা অনুসারীদের ভুল-ত্রুটির মুখোমুখি হয়েও তিনি ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতেন বলে হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ পাওয়া যায়। আবেগ প্রকাশে সংযম, অথচ আবেগকে সম্পূর্ণ দমন না করা, এই দ্বৈত ভারসাম্য আধুনিক মনোবিজ্ঞানে ‘ইমোশনাল রেগুলেশন’ এবং ‘ইমোশনাল সাপ্রেশন’-এর মধ্যকার পার্থক্য বোঝার ক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্ত হতে পারে।   সামাজিক বুদ্ধিমত্তার একটি মূল উপাদান হলো ভিন্ন সামাজিক অবস্থান ও প্রেক্ষাপটের মানুষের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক স্থাপনের দক্ষতা। নবি করিম (সা.) দাস, শিশু, নারী, বয়োজ্যেষ্ঠ ও ভিন্নধর্মাবলম্বী সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে তাদের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সংবেদনশীলভাবে আচরণ করতেন। প্রতিবেশীর অধিকার, অতিথি আপ্যায়ন এবং পারস্পরিক পরামর্শ বা ‘শূরা’র নীতির ওপর তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপ এই সামাজিক সংবেদনশীলতারই প্রতিফলন বলে গবেষকরা মনে করেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পরামর্শের ভূমিকা। বদরের যুদ্ধের অবস্থান নির্বাচন থেকে শুরু করে উহুদের যুদ্ধকৌশল পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি অনুসারীদের মতামত গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি ব্যক্তিগত মত ভিন্ন হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।   সাংগঠনিক নেতৃত্বতত্ত্বে এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়াকে ‘পার্টিসিপেটিভ লিডারশিপ’ বলা হয়। যেখানে নেতা তাঁর কর্তৃত্ব বজায় রেখেও অধস্তনদের মতামতকে মূল্য দেন; এবং এর মাধ্যমে সংগঠনের মধ্যে আস্থা ও সংশ্লিষ্টতার অনুভূতি তৈরি করেন। মদিনা সনদ, ইতিহাসে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন লিখিত সংবিধান হিসেবে স্বীকৃত, ছিল এই সামাজিক দক্ষতারই একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহাবস্থানের একটি কাঠামো তৈরি করে তিনি বহুত্ববাদী সমাজ পরিচালনায় সংলাপ ও সমঝোতার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন, যা সমকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সংঘাত-নিরসন তত্ত্বের দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। এই সনদে বিভিন্ন পক্ষের অধিকার ও দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার মাধ্যমে একটি বহু-সাংস্কৃতিক নগর-রাষ্ট্র পরিচালনার যে কাঠামো তৈরি হয়েছিল, তা আধুনিক ‘কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন’ বা সংঘাত-নিরসন তত্ত্বের অনেক মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।   সহমর্মিতার আরেকটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় তাঁর দৈনন্দিন আচরণে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি তাঁর মনোযোগ, রোগীর সেবা এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা শোনার আগ্রহের মধ্যে। এই আচরণ কেবল ব্যক্তিগত সদাচরণের প্রকাশ নয়, বরং একধরনের সক্রিয় শ্রবণ বা ‘অ্যাক্টিভ লিসেনিং’-এর দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে, যা আধুনিক যোগাযোগ তত্ত্বে সম্পর্ক নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে স্বীকৃত।   তায়েফের ঘটনা মহানবি (সা.)-এর আবেগিক নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমাশীলতা ও ভবিষ্যৎমুখী ইতিবাচক চিন্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তায়েফে তিনি প্রত্যাখ্যাত, অপমানিত ও নির্যাতিত হন। শারীরিক নির্যাতন ও অপমানের শিকার হয়েও প্রতিশোধের পরিবর্তে তিনি ধৈর্য ও ক্ষমার পথ বেছে নেন। সহিহ আল-বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, পাহাড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা তাঁকে তাঁর নির্যাতনকারীদের ওপর দুই পাহাড় চাপিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন। প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। আশা করেন যে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্য থেকে এমন মানুষ জন্ম নেবে, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে। এখানে ক্ষমার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। এ ঘটনা কেবল ধর্মীয় সহনশীলতার উদাহরণ নয়, বরং তীব্র মানসিক চাপের মুহূর্তে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার একটি বাস্তব নজির, যাকে আধুনিক পরিভাষায় ‘স্ট্রেস রেগুলেশন’ বা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ বলা যেতে পারে।   এক বেদুঈন মসজিদের ভেতর প্রস্রাব করতে শুরু করলে সাহাবিরা তাঁকে থামাতে উদ্যত হন। কিন্তু মহানবি (সা.) তাঁদের বিরত করেন এবং পরবর্তী সময়ে জায়গাটি পানি দিয়ে পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। তিনি ভুলটিকে সমর্থন করেননি; বরং ভুলকারী ব্যক্তির অজ্ঞতা ও সামাজিক অবস্থাকে বিবেচনায় নিয়েছিলেন। মূল শিক্ষা হলো : অজ্ঞতার চিকিৎসা অপমান নয়, শিক্ষা।   আধুনিক সমাজে মানুষ প্রায়ই ভুল এবং ভুলকারীকে একইভাবে বিচার করে। একটি ভুলের ভিত্তিতে পুরো ব্যক্তিত্বকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। নববি পদ্ধতি ছিল ভিন্ন। ভুল সংশোধন করতে হবে, কিন্তু এমনভাবে, যাতে মানুষের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে এবং তার ফিরে আসার পথ বন্ধ না হয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নীতি প্রয়োগ করা হলে বহু অপ্রয়োজনীয় সংঘাত ও সম্পর্কভাঙন এড়ানো সম্ভব। উহুদের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতেও মহানবি (সা.)-এর নেতৃত্বে আবেগিক ও সামাজিক প্রজ্ঞার উজ্জ্বল উদাহরণ দেখা যায়। কিছু সাহাবির সিদ্ধান্তের কারণে গুরুতর বিপর্যয় ঘটেছিল। মহানবি (সা.) নিজেও আহত হয়েছিলেন। কিন্তু সুরা আলে ইমরান ৩:১৫৯-এ তাঁকে তাঁদের প্রতি কোমল থাকতে, ক্ষমা করতে, তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ অব্যাহত রাখতে বলা হয়। এখানে নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রকাশিত হয়েছে।   একজন অনুসারী ভুল করলেই তার মর্যাদা ও অংশগ্রহণের অধিকার চিরতরে নষ্ট হয়ে যায় না। বরং কার্যকর নেতৃত্ব মানুষের ভুল সংশোধন করে তাকে পুনরায় দায়িত্বশীল অংশগ্রহণে ফিরিয়ে আনে। মহানবি (সা.)-এর নেতৃত্ব তাই শুধু শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তা মানুষের পুনর্গঠন, আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।   তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রকৃত গভীরতা সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝা যায় কাছের মানুষের সাক্ষ্যে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) প্রায় দশ বছর মহানবি (সা.)-এর সেবায় ছিলেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময়ে মহানবি (সা.) তাঁকে কোনো কাজ করা বা না করার জন্য অপমানজনক ভঙ্গিতে প্রশ্ন করেননি। এই সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জনসমক্ষে ভদ্র থাকা তুলনামূলকভাবে সহজ, কিন্তু যারা নিকটবর্তী, অধীনস্থ বা প্রতিদিনের সম্পর্কের অংশ, তাদের সঙ্গে আচরণই ব্যক্তির প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করে।   আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনাতেও পাওয়া যায় যে মহানবি (সা.) ব্যক্তিগত কারণে প্রতিশোধ নিতেন না এবং কোনো নারী বা খাদেমকে হাতে আঘাত করেননি। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোমলতা বজায় রাখা তাঁর নৈতিক ও আবেগিক পরিপক্বতার একটি উল্লেখযোগ্য দিক। শিশুদের প্রতি তাঁর আচরণ সামাজিক সংবেদনশীলতার আরেকটি মানবিক উদাহরণ। আনাস (রা.)-এর ছোট ভাই আবু উমাইরের একটি পাখি ছিল এবং মহানবি (সা.) তাঁর সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন ও পাখিটির খবর নিতেন। রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, ধর্মীয় ও বিচারিক অসংখ্য দায়িত্বের মধ্যেও একটি শিশুর ক্ষুদ্র আনন্দ ও দুঃখ তাঁর কাছে গুরুত্ব হারায়নি।   মহানবি (সা.)-এর সামাজিক বুদ্ধিমত্তা ধর্মীয় ভিন্নতার ক্ষেত্রেও মানবিক মর্যাদার প্রতি গভীর সম্মান প্রকাশ করে। একজন ইহুদি ব্যক্তির জানাজা অতিক্রম করার সময় তিনি উঠে দাঁড়ান। তাঁকে জানানো হলো যে মৃত ব্যক্তি ইহুদি। তিনি প্রশ্ন করেন, “সে কি একটি প্রাণ নয়?” এই সংক্ষিপ্ত ঘটনায় একটি সর্বজনীন মানবিক নীতি নিহিত রয়েছে। ধর্মীয়, সামাজিক বা রাজনৈতিক মতপার্থক্য মানুষের মৌলিক মর্যাদা অস্বীকারের কারণ হতে পারে না।   বর্তমান বিভক্ত বিশ্বে এই শিক্ষা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামাজিক মেরুকরণ প্রায়ই মানুষকে এমন অবস্থায় নিয়ে যায়, যেখানে নিজের দলের মানুষের কষ্টকে গুরুত্ব দেয়া হয়, কিন্তু ভিন্ন পরিচয়ের মানুষের কষ্টকে উপেক্ষা করা হয়। এ কারণেই মানুষ মহানবি (সা.)-এর পাশে নিজেদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ মনে করত। ভুল করলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে, কষ্ট পেলে তিনি শুনবেন, দুর্বল হলে অপমান করবেন না, শিশু হলে অবহেলা করবেন না, অধীনস্থ হলে মর্যাদা কমবে না এবং ভিন্ন বিশ্বাসের হলেও মানবিক অস্তিত্ব অস্বীকার করা হবে না। এই নিরাপত্তাবোধ তাঁর নেতৃত্বের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য ছিল। কোরআনের ভাষায়, তিনি যদি রূঢ় ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, মানুষ তাঁর চারপাশ থেকে সরে যেত। ফলে নববি নেতৃত্বের অন্যতম শিক্ষা হলো : মানুষ শুধু শক্তিশালী নেতার অনুসারী হয় না, তারা সেই নেতার প্রতি আস্থাশীল হয়, যার কাছে তাদের মর্যাদা নিরাপদ।   কোরআন মহানবি (সা.)-এর এই মানবিক ও আবেগিক চরিত্রকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে তুলে ধরে। সুরা আত-তাওবা ৯:১২৮-এ বলা হয়েছে যে, মানুষের কষ্ট তাঁর কাছে অত্যন্ত কষ্টকর ছিল, তিনি মানুষের কল্যাণকামী এবং মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল ও দয়ালু ছিলেন। এ বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, তাঁর সহমর্মিতা ছিল শুধু নৈতিক বক্তব্য নয়; বরং তা তাঁর নেতৃত্ব ও সামাজিক সম্পর্কের মৌলিক ভিত্তি ছিল। অন্যের দুর্দশা, ব্যথা ও দুর্বলতার প্রতি সংবেদনশীলতা তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। মহানবি (সা.)-এর আবেগিক বুদ্ধিমত্তার আরেকটি কেন্দ্রীয় দিক ছিল আত্মসংযম। তিনি শক্তির প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেন। সহিহ আল-বুখারির হাদিসে তিনি বলেন, প্রকৃত শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং সে, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই বক্তব্য মানবিক আত্মনিয়ন্ত্রণের গভীর তাৎপর্য প্রকাশ করে।   নববী দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রকৃত শক্তি হলো আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। মক্কিজীবনের প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিক বয়কট, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতির মুখেও নবুয়তি দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকা এবং অনুসারীদের মধ্যে আশাবাদ সঞ্চার করার প্রবণতা আধুনিক মনোবিজ্ঞানের ‘রেজিলিয়েন্স’ বা প্রতিরোধ-সক্ষমতা ধারণার সঙ্গে তুলনীয়। বদর ও উহুদের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনায়ও তিনি হতাশার পরিবর্তে ভবিষ্যৎমুখী পুনর্গঠনের নীতি অনুসরণ করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক বিবরণ থেকে জানা যায়।   হিজরতের সময়কার একটি বহুল-উদ্ধৃত ঘটনাও এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ। সাওর গুহায় আশ্রয় নেয়ার সময় শত্রুপক্ষের নিকটবর্তী উপস্থিতি সত্ত্বেও তিনি তাঁর সহচরকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। এ ঘটনা চরম অনিশ্চয়তার মুহূর্তেও স্থিতধী মনোভাব বজায় রাখার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। ইতিবাচক মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘কগনিটিভ রিফ্রেমিং’ বলা যেতে পারে। অর্থাৎ একই পরিস্থিতিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করে মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই ইতিবাচক মনোভাব কোনো নিষ্ক্রিয় আশাবাদ নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। শত্রুরা তাঁদের খুঁজছিল এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।   আবু বকর (রা.) উদ্বিগ্ন হলে মহানবি (সা.) বলেন, “চিন্তিত হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।” ( সুরা আত-তাওবা ৯:৪০) এখানে তিনি বাস্তব বিপদকে অস্বীকার করেননি, বরং বিপদের মাঝেও আল্লাহর সাহায্যের প্রতি আস্থা বজায় রেখেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি শেখায় যে জীবনের কোনো একটি সংকটকে সমগ্র ভবিষ্যতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খননের কৌশল গ্রহণ কিংবা মদিনায় অভিবাসনের পর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ।   এসব দৃষ্টান্ত থেকে বোঝা যায়, তাঁর আশাবাদ বাস্তবতাবিবর্জিত ছিল না, বরং কার্যকর পরিকল্পনার সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এই সমন্বয়কে আধুনিক ব্যবস্থাপনা-তত্ত্বে ‘রিয়েলিস্টিক অপটিমিজম’ বা বাস্তবতাভিত্তিক আশাবাদ বলা হয়, যেখানে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবতা-বিচ্ছিন্ন না হয়ে কার্যকর পদক্ষেপের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই আবেগিক ও সামাজিক প্রজ্ঞার সঙ্গে মহানবি (সা.)-এর ইতিবাচক চিন্তা গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাঁর জীবন পিতৃহীনতা, মাতৃহীনতা, প্রিয়জন হারানো, সামাজিক বর্জন, উপহাস, নির্যাতন, যুদ্ধ ও বিরোধিতায় পরিপূর্ণ ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি তিক্ত, প্রতিহিংসাপরায়ণ বা হতাশ হয়ে যাননি। মানুষের পরিবর্তনের সম্ভাবনায় বিশ্বাস রেখেছেন। চাকরি হারানো, পরীক্ষায় ব্যর্থতা বা আর্থিক সংকট এসব জীবনের কঠিন অধ্যায় হতে পারে। কিন্তু পুরো জীবন নয়।   মহানবি (সা.) আশাব্যঞ্জক কথাও পছন্দ করতেন। সহিহ হাদিসে তাঁর ভালো, সুন্দর ও আশাজাগানিয়া কথা পছন্দ করার কথা এসেছে। এর তাৎপর্য হলো, ভাষা মানুষের মনোবল ও আচরণে প্রভাব ফেলে। ‘তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না’ এবং ‘ভুল হয়েছে, কিন্তু চেষ্টা করলে উন্নতি সম্ভব’ এ দুই ধরনের বক্তব্য একই বাস্তবতার প্রতি সম্পূর্ণ ভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। নববি ইতিবাচকতা এমন ভাষার ব্যবহার করে, যা মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি ও পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে অক্ষুণ্ন রাখে। একই সঙ্গে এই ইতিবাচকতা কোনো কৃত্রিম আবেগ-দমন ছিল না।   মহানবি (সা.) কেঁদেছেন। শোক প্রকাশ করেছেন। মানুষের আচরণে কষ্ট পেয়েছেন এবং উম্মতের জন্য উদ্বিগ্ন হয়েছেন। ফলে দুঃখ অনুভব করা বা কান্না করা ইমানের দুর্বলতার প্রমাণ নয়। একজন মানুষ একই সঙ্গে কষ্ট অনুভব করতে পারে এবং আল্লাহর ওপর আস্থাও রাখতে পারে। সামগ্রিকভাবে মহানবি (সা.)-এর আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক প্রজ্ঞা এবং ইতিবাচক চিন্তা একটি সমন্বিত মানবিক দর্শন নির্মাণ করে। এ দৃষ্টিভঙ্গির সারকথা হলো : মানুষের হৃদয় জয় করতে তাকে পরাজিত করার প্রয়োজন নেই। তাকে বোঝা প্রয়োজন। মানুষের ভুলের মধ্যেও সম্ভাবনা দেখতে হবে। কষ্টের মধ্যেও আশা রাখতে হবে। ভয়ের মধ্যেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। অশ্রুর মধ্যেও পথচলা অব্যাহত রাখতে হবে। এই শিক্ষা শেষ পর্যন্ত কোরআনের সেই গভীর ঘোষণার সঙ্গে সংযুক্ত হয় : মহানবি (সা.) বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর শক্তির গভীরে ছিল দয়া। তাঁর নেতৃত্বের কেন্দ্রে ছিল মানুষের হৃদয়। তাঁর ইতিবাচকতার কেন্দ্রে ছিল আল্লাহর ওপর আস্থা।   আধুনিক সমাজে যেখানে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও সহমর্মিতার ঘাটতি রয়েছে, সেখানে তাঁর জীবন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রকৃত প্রজ্ঞা হলো ক্ষমতার মধ্যেও কোমল থাকা। কষ্টের মধ্যেও ন্যায়বান থাকা। ক্রোধের মধ্যেও আত্মসংযমী থাকা। মানুষের ভুলের মধ্যেও তার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎকে দেখতে শেখা। বর্তমান কর্মক্ষেত্র ও সমাজে নেতৃত্বের সংকট, মানসিক চাপ ও আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্কের জটিলতা ক্রমবর্ধমান একটি আলোচ্য বিষয়। বিশ্বজুড়ে ব্যবস্থাপনা-শিক্ষায় ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘রেজিলিয়েন্স’ এখন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এবং বহু প্রতিষ্ঠান নেতৃত্ব-উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই দক্ষতাগুলোকে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমান বা তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে। বাংলাদেশসহ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পারিবারিক পরিমণ্ডল ও কর্মক্ষেত্রে নৈতিক নেতৃত্বের আদর্শ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঐতিহাসিক-বিশ্লেষণাত্মক পাঠ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।  

চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

সেবিকা

বয়সটা নিতান্তই বাল্যকাল। শখের প্রিয় টেপা পুতুলঘোড়ার খেলনাগুলো এক পাশে রেখে যখন থার্মোমিটার, রক্তচাপ মান যন্ত্রাংশের স্পর্শতা পেয়েছিল, ঢের বুঝেছিলাম একদিন সু-বিশালতার আদর্শ সেবিকা হব।   হঠাৎ অগোচরে বাবার শরীর কাঁপুনিতে জ্বরের আগমনী বার্তা। মনের উদ্দীপ্ত একাগ্রতা চিত্তের আকুলতায় সেবিকা আদর্শে স্পর্শ ছোঁয়ায় অনবদ্য মাধুর্যতা। স্নিগ্ধতায় মস্তকে হাত বুলিয়ে বাবার পরশমণির মৃদু হাসির আড়ালে এক উচ্চারিত প্রতিধ্বনি, “অনেক বড় হও মা। সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনার আলোয় আলোকিত করো প্রতিটি জীবের শুদ্ধতার পবিত্র অন্তর।” এই উচ্চারিত প্রতিধ্বনি কেবল এক নিচ্ছুক শব্দ নয়, জীবনবৃত্তান্তে বেড়ে ওঠা স্বপ্ন পূরণের বহিঃপ্রকাশ।   বাংলার সবুজ দিগন্তে প্রকৃতির নিবিড়য়তায় স্বপ্নগুলো আমার একান্তই সঙ্গী। সন্ধ্যা আঁধারে ঝিঁঝি পোকার আলোই বয়ে চলা নিঃসঙ্গতা নদীপথ। নিদ্রা যাপনে কল্পনার জগৎ ভাবে ভাবান্তর অতুলনীয় স্বপ্ননীল সুন্দর।   কালবেলার দ্বিখণ্ডিত পর্বে শতাব্দীর অবসান। কত শত জীবন্ত মরুভূমি প্রান্তরে অলীক চিন্তার মোড়কে স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার। স্বপ্নসিঁড়ির যাত্রাপথে শহরতলির অভিশপ্ত নগরী আমার আবাসস্থল। ইট-পাথরের শহর গলিপথে অসহায়ত্বের শান্তিনিকেতনে আমার দিবালয় মিশনারি হাসপাতাল।    সমুদ্রের কিনারে সূর্যাস্তে ঢলে পড়া ক্লান্ত সন্ধ্যায় মুঠোফোনের ওপাশ থেকে এক শুভেচ্ছা বার্তা। এই তো এখানে জায়গা আছে। হৃদয়ের সুপ্ত গভীরতায় যে স্বপ্ন বুনেছিলাম, তার প্রতিটি অপেক্ষা পূরণের ব্যাকুলতায় সীমাহীন আনন্দ অভিমান।    পাখিডাকা ভোরের উষ্ণ শীতলতায় ওয়ান জিরো ফোর অপারেশন থিয়েটার। হাসপাতালের প্রতিটি ইট, ধূলিকণা যেন এক নির্বাক বাঁচার আকুতি। কিছু মুহূর্তে হারিয়ে গিয়েছিলাম বিষাদ সিন্ধুর একাকিত্বে। হঠাৎ দরজায় কড়া নেড়ে রুক্ষ মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে এক জীবন্ত সেবিকা। বিষণ্ন বাতাসে মৃদু হেসে বলিয়া উঠিল, “তোমার ডিউটি ওয়ান জিরো ফোর অপারেশন থিয়েটার রুম।”   বেস্ট রঙের যুগলবন্দী পোশাকের ঘ্রাণের মাধুর্যতা আমার শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় বহমান। মুহূর্তেই এক দুঃখবিলাসী জীবনের কাতরতায় অভাগীর অনুপ্রবেশ।   বাঁচার আকুতি এবং সেবা গ্রহণের প্রতীক্ষায়। আগ্রহ বাড়িয়ে হৃদয়স্পর্শী সেবা দানে সমাপ্ত হইল তাহার নিকট আমার প্রথম সেবার আত্মনিবেদন।    

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

Top week

সাহিত্য

শরৎ

অক্টোবর ২, ২০২৬ 0