Breaking news

ঈশ্বরদী

ঈশ্বরদীতে ব্যবসায়ীকে আটকে ৭ লাখ টাকা আদায়, গ্রেপ্তার ৩

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক মুদি ব্যবসায়ীকে ভাড়া বাসায় আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই ব্যবসায়ী ও তাঁর স্বজনদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৭ লাখ টাকা আদায় করে চক্রটি। থানায় লিখিত অভিযোগের পর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চণ্ডীপুর এলাকার সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চল (৪৭), নাটোরের লালপুর উপজেলার বৃষ্টি খাতুন (৩৫) এবং ঈশ্বরদীর পিয়ারাখালী জামতলা এলাকার মুক্তি খাতুন (২৫)। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।   মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী জামিরুল ইসলাম (৩৫) বাঘা উপজেলার চণ্ডীপুর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী। অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর পূর্বপরিচয় ছিল। তাঁদের কাছে দোকানের বকেয়া টাকাও পাওনা ছিল জামিরুলের। এর মধ্যে মুক্তি খাতুনের সঙ্গে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ও কথাবার্তা হতো।   এজাহারে বলা হয়েছে, মুক্তি খাতুনের কথায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঈশ্বরদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পিয়ারাখালী জামতলার ‘মমতাজ ভিলা’ ভবনের তৃতীয় তলার একটি ভাড়া বাসায় যান জামিরুল। সেখানে বৃষ্টি খাতুন ও মুক্তি তাঁকে বসিয়ে নাশতা দেন। কিছুক্ষণ পর সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চলসহ আরও ৩-৪ জন ওই বাসায় আসেন।   পরে জামিরুলের সঙ্গে মুক্তি খাতুনের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে তাঁর কাছে থাকা ছবি ও ভিডিও স্ত্রীকে দেখানোর ভয় দেখানো হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।   এ সময় প্রাণনাশের ভয় দেখানো হলে জামিরুল তাঁর স্ত্রী আসমা খাতুনকে ফোন করে টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। পরে তাঁর স্ত্রী ও দুই বন্ধু চণ্ডীপুর থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়ে ঈশ্বরদীর ওই বাসায় আসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই টাকা সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চলের হাতে তুলে দেয়া হয়। টাকা পাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে জামিরুলকে ছেড়ে দেয়া হয়।   এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, জামিরুলকে ছেড়ে দেয়ার সময় বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। পরে স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেন।   ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি আরও তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।  

অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে স্কুলশিক্ষককে মারধরের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পাবনার ঈশ্বরদীতে আনিছুর রহমান নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর সকাল ১০টায় উপজেলার নতুন রূপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশ নেন।   বিক্ষোভে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৪ অক্টোবর রাতে চর রূপপুর বিবিসি বাজারের চেরু মার্কেটের সামনে শিক্ষক আনিছুর রহমানকে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে যাওয়া এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেয়ারও অভিযোগ করেন তাঁরা।   বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষক জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একজন শিক্ষকের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাঁরা হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।   এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘শিক্ষকের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করো, করতে হবে’, ‘হামলাকারীদের বিচার চাই, বিচার চাই’, ‘শিক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করো’, ‘অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।   বিক্ষোভ থেকে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।   নতুন রূপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, “শিক্ষক আনিছুর রহমানের ওপর যে হামলা হয়েছে, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই। একজন শিক্ষক জাতির নির্মাতা। একজন শিক্ষকের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে হামলা ও লাঞ্ছিত করার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এ ন্যক্কারজনক হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে পরবর্তী সময়ে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে।”   বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. আফরোজা বুলবুল বলেন, “আমার বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনিসুর রহমানের ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। যতটুকু দেখেছি, মনে হয়েছে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা করা হয়েছে। ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো আসামি বা হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। কারণ, আনিসুর রহমান যেভাবে ক্লাস নিতেন, অন্য কোনো শিক্ষক সেভাবে ক্লাস নিতে পারছেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী মিলে আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছি। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আমরা পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব।”   এদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার বলেন, “শিক্ষককে কখন ও কোথায় মারধর করা হয়েছে, তা আমার জানা ছিল না। আমি আজকেই বিষয়টি জানতে পেরেছি। গতকাল রাতে বিদ্যালয়ের সভাপতি আমাকে ফোন করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে মানববন্ধনের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানববন্ধন করার অনুমতি অফিস দিতে পারবে না। বিশেষ করে, ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করার অনুমতি আমি দিতে পারি না। কোনো শিক্ষক নিজ দায়িত্বে ও নিজের ইচ্ছায় বিক্ষোভ করতে চাইলে সেটি তাঁর বিষয়। তবে স্কুল চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অন্য কোনো কাজে যুক্ত হতে পারেন না।”   তিনি আরও বলেন, “ওই শিক্ষককে কখন, কেন মারধর করা হয়েছে, তাঁকে স্কুল চলাকালীন সময়ে বা স্কুল প্রাঙ্গণে মারধর করা হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। আমি শুনেছি তাঁকে রাতে মারধর করা হয়েছে। যদি পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁর ব্যক্তিগত কারণে রাতে তাঁকে মারধর করা হয়ে থাকে, তাহলে এ বিষয়ে শিক্ষা অফিসের করার মতো কিছু থাকে না।”   এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে জেলিযুক্ত চিংড়ি বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

পাবনার ঈশ্বরদীতে জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ বিক্রির দায়ে এক মাছ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে বিক্রির জন্য রাখা ১০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ জব্দ করে জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর সকালে ঈশ্বরদী মাছ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার। অভিযানে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মি শিরিনসহ মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।   অভিযান সূত্রে জানা যায়, মাছের ভেতরে ক্ষতিকর জেলি ঢুকিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ঈশ্বরদী মাছ বাজারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি দোকানে বিক্রির জন্য রাখা জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে সেখান থেকে ১০ কেজি চিংড়ি মাছ জব্দ করা হয়।   জেলিযুক্ত চিংড়ি বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় মৎস্য ও মৎস্য পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পরে জব্দ করা চিংড়ি মাছ মাটিতে পুঁতে জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়।   এদিকে মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাজারের বিভিন্ন মাছের দোকানেও তল্লাশি চালানো হয়। তবে অভিযানে কোনো মা ইলিশ বা ইলিশ মাছ পাওয়া যায়নি।   উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এই অভিযানে ইলিশ মাছ না পাওয়া গেলেও জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ পাওয়া গেছে। ভোক্তাদের নিরাপদ ও মানসম্মত মাছ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।  

অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী : ৭ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১৫

পাবনার ঈশ্বরদীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। গত ১ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র সাত দিনে সরকারি হাসপাতালেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।   উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এই সাত দিনে ভর্তি হওয়া ১৫ জন রোগীর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনজন ডেঙ্গু রোগী।   খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেবল সরকারি হাসপাতালেই নয়, উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।   উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন পাল জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ঈশ্বরদীতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেশ কয়েকজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।   তিনি আরও বলেন, ১ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে তিনজন ভর্তি আছেন এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।   রোগীদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ডা. শোভন পাল জানান, কোনো রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন কোনো ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়নি এবং ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।   এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও পৌর এলাকায় মশা নিধনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। পৌরবাসীর অভিযোগ, মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করলেও নিয়মিত ও ফলপ্রসূ মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। অবিলম্বে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।  

অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক’ সম্মাননা পেলেন ঈশ্বরদীর মিনারুল ইসলাম

পাবনার ঈশ্বরদী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মিনারুল ইসলাম জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক’ সম্মাননা পেয়েছেন। পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মাননা দেয়া হয়েছে।   বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সোমবার ৫ অক্টোবর রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে মিনারুল ইসলামের হাতে সম্মাননা পদক, সনদপত্র ও চেক তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন এলাকার মোট ১০২ জন গুণী শিক্ষককে সম্মানিত করা হয়েছে।   ঈশ্বরদীর কোনো শিক্ষক জাতীয় পর্যায়ে এমন স্বীকৃতি পাওয়ায় স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তার এ অর্জনে ঈশ্বরদী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অভিনন্দন জানিয়েছেন।   দীর্ঘদিন ধরে ঈশ্বরদী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় সহকারী মৌলভী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মিনারুল ইসলাম। আরবি ভাষা ও ইসলামি শিক্ষাকে শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ, সাবলীল ও সৃজনশীলভাবে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।   সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তাঁর শিক্ষকতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—শিক্ষাকে শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা একাডেমিক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখা। শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেও তিনি গুরুত্ব দেন।   পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করেন তিনি। কঠিন বিষয় সহজভাবে বোঝানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তোলারও চেষ্টা করেন।   মিনারুল ইসলামের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। ১৯৯১ সালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম তাঁর। ১০ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সপ্তম।তাঁর বাবা প্রয়াত ডাক্তার আব্দুল ওয়াহাব এবং মা ছামিরন নেছা। মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবাকে হারান মিনারুল। এরপর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি।   দারুস সুন্নাহ মদিনাতুল উলুম কওমিয়া মাদ্রাসা, বহরপুর এবং চাটমোহরের দারুল উলুম মুহাম্মদপুর কওমিয়া মাদ্রাসায় কিতাব বিভাগে পড়াশোনা করেন। পরে পাবনা পুষ্পপাড়া কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল সম্পন্ন করেন।   এর পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্মান ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন তিনি। বর্তমানে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অ্যাওয়ার্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন মিনারুল ইসলাম।   জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে মিনারুল ইসলাম বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এমন স্বীকৃতি পাওয়া আনন্দ ও গর্বের। তবে এই সম্মাননা আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেয়াই আমার লক্ষ্য নয়। তাদের আদর্শ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যেতে চাই।”   নিজের এ অর্জনের পেছনে সহধর্মিণী, বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং সহকর্মীদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করে মিনারুল ইসলাম বলেন, “আজকের এই আনন্দের দিনে আমার আব্বাজান বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। আমি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।”   পাবনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “পাবনা জেলা থেকে তিনজন গুণী শিক্ষক জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা পাওয়ায় আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। এটি শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পুরো জেলার জন্যই অত্যন্ত সম্মানের। তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগে শিক্ষক সমাজে উৎসাহ বাড়বে। শিক্ষার মানোন্নয়নেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।   ঈশ্বরদী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সোবহান (সাবান) বলেন, “মিনারুল ইসলামের জাতীয় পর্যায়ের এই অর্জন আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গর্বের। তাঁর এই স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাগত ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।   একই অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক’ সম্মাননা পেয়েছেন পাবনার আরও দুই শিক্ষক। তাঁরা হলেন পাবনা পুষ্পপাড়া কামিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হুসাইন এবং মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী জীববিজ্ঞান শিক্ষক মো. ইকরামুল হক।   একই জেলার তিন শিক্ষকের জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ায় পাবনার শিক্ষা অঙ্গনে তৈরি হয়েছে আনন্দের আবহ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের স্বীকৃতি শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।  

অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে মা-বাবার ওপর অভিমান করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

পাবনার ঈশ্বরদীতে শোভন আহম্মেদ (২৯) নামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করার অনুরোধ করায় মা-বাবার ওপর অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।   রোববার ৪ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চররূপপুর নলগাড়ী এলাকায় তাঁর নানার বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শোভন আহম্মেদ ঈশ্বরদী পৌরসভার ভেলুপাড়া মধ্য অরণকোলা এলাকার মো. রঞ্জুর ছেলে। তিনি রাজধানী ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।   নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে নানার বাড়ির একটি ঘরের আড়ার সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় শোভনকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।   এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি মেয়ের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে ওই সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য বলা হয়। এ বিষয় নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে অভিমান করেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   তিনি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ না থাকায় এবং তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।  

অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কৃষকের ঘর পুড়ে ছাই

পাবনার ঈশ্বরদীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কৃষক মো. শামীম হোসেনের তিনটি ঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরে থাকা নগদ প্রায় এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব মালামাল পুড়ে নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।   বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের খারজানী গ্রামে শামীম হোসেনের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।   স্থানীয়রা জানান, রাতে প্রথমে শামীম হোসেনের গোয়ালঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের আরও দুটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনটি ঘরই আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। এ সময় গোয়ালঘরে থাকা গরুগুলো দড়ি ছিঁড়ে বাইরে বেরিয়ে আসায় গবাদিপশুগুলো রক্ষা পায়।   ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শামীম হোসেন জানান, আসন্ন সবজি চাষসহ কৃষিকাজের খরচ মেটানোর জন্য তিনি প্রায় এক লাখ টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন। আগুনে সেই পুরো টাকাই পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, পোশাক ও অন্য মালামালও পুড়ে নষ্ট হয়েছে। আগুন নেভানোর পর স্বর্ণালংকারেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে তাঁর প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।   স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে রূপপুর মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তবে বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় কর্মীদের হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়। ততক্ষণে স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলেন বলে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে গোয়ালঘরে থাকা কয়েল থেকেও আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ও সঞ্চিত অর্থ হারিয়ে শামীম হোসেনের পরিবার এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও স্থানীয়দেরও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।  

অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

পাবনার ঈশ্বরদীতে এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ায় নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সংবর্ধনা পেয়েছে মেধাবী শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর সকালে বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ সংবর্ধনার আয়োজন করে ঈশ্বরদীর স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্বটেংরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।   অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান পলাশের  সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাক।   প্রধান শিক্ষক মো. জোমসেদ আলীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম নয়ন।   এ সময় আরও বক্তব্য দেন অত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক রাইদুল ইসলাম, শিক্ষক নূর বক্স শাহ্, মো, আব্দুল মজিদ, সুলতানা লায়লা, কৃতী শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস সূচি প্রমুখ।   অনুষ্ঠানে এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানানো হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।   বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফল শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে উৎসাহ ও সহযোগিতা করা হলে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।   শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এ ধরনের সংবর্ধনা তাদের আগামী দিনের পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ভালো ফল করার আগ্রহ তৈরি হবে।  

অক্টোবর ১, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টের আয়োজনে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে। ঈশ্বরদীর স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টের আয়োজনে রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর এসব কর্মসূচি পালিত হয়।   বেলা ১১টার সময় স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্ট  চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। পরে রিসোর্টের পদ্মা কমিউনিটি সেন্টারে আলোচনা সভা ও কেক কাটা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।   খায়রুল গ্রুপের স্বত্বাধিকারী আলহাজ খায়রুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খায়রুল গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ সাইদুল ইসলাম মান্না সরদার। এ সময় আরও বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান, স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টের সিইও মুনেম তাজ‌ওয়ার অহিন, দৈনিক সমকালের ঈশ্বরদী প্রতিনিধি সেলিম সরদার, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।   সভাপতির বক্তব্যে খায়রুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে পর্যটন খাতেও ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার পর্যটন শিল্পকে আরও আধুনিক, সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। প্রযুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যটন সম্ভাবনাগুলো ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।   এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক পদ্মার খবর পত্রিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম রিংকু, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি সেলিম আহমেদ, ঈশ্বরদী অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তাহিক হ্যালো ঈশ্বরদীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজাউল করিম ফেরদৌস, দৈনিক আগামীর সময়ের প্রতিনিধি শিশির মাহমুদ, গ্রীন টিভির প্রতিনিধি তুহিন হোসেন, এস টিভির প্রতিনিধি সবুজ দেওয়ান, সাংবাদিক খায়রুল বাশার মিঠু, সিয়ামসহ অন্যরা।   অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রিসোর্টের সিনিয়র ম্যানেজার (অপারেশন) রোহান খান। কর্মসূচিতে স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।  

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে বাড়ি থেকে বের হয়ে এক কিশোর নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি

পাবনার ঈশ্বরদীতে বাড়ি থেকে বের হয়ে মো. হোসাইন প্রামানিক (১৩) নামের এক কিশোর নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার কিশোরের বাবা মো. রিয়াজ প্রাং বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১৫৫৫) করেছেন।   নিখোঁজ কিশোর হোসাইন প্রামানিক উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বাবুলচারা এলাকার বাসিন্দা এবং সাহাপুর মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার মক্তোব বিভাগের ছাত্র।   পুলিশ এবং ওই কিশোরের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার বিকেলের দিকে হোসাইন মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরে পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে থানায় জিডি করেন।    ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুর রহমান জানান, নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে এবং তার সন্ধানে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে কোনো তথ্য পেলে থানায় যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।  

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে পিস্তল, ৪০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ২

পাবনার ঈশ্বরদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি পিস্তল, ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে উপজেলার পাকশী বাজারপাড়া এলাকায় ঈশ্বরদী থানা ও পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়।   আটক ব্যক্তিরা হলেন পাকশী বাবুপাড়া এলাকার নাজমুল ইসলামের ছেলে মো. তানজিরুল ইসলাম (৩০) এবং পাকশী স্কুলপাড়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মো. সজীব (২৮)।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে পাকশী বাজারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানজিরুল ইসলাম ও সজীবকে আটক করা হয়। পরে রাত ৩টার দিকে পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তানজিরুল ইসলামের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একটি পিস্তল ও ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।অভিযানে এসআই শরীফুল ইসলাম, এএসআই মো. হাফিজুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।   ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুর রহমান বলেন, আটক দুজনের কাছ থেকে একটি পিস্তল ও ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে ডাকাত আতঙ্কে রাত জেগে পাহারায় এলাকাবাসী

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের গোকুলনগর এলাকায় সম্প্রতি অপরাধমূলক তৎপরতা ও ডাকাত আতঙ্ক বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা জোরদারে নিজ উদ্যোগে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভায় এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।   স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন ধরে রাতের আঁধারে মুখ ও চোখ বাঁধা এবং ভারী অস্ত্রসজ্জিত একটি সংঘবদ্ধ দলের সন্দেহজনক চলাচল লক্ষ করা গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।   পরিস্থিতি মোকাবেলায় এলাকার প্রবেশপথ ও অলিগলিতে যুবকদের সমন্বয়ে নিয়মিত পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে দিতে বিশেষ যোগাযোগব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরিচিত ব্যক্তির গতিবিধি নজরে এলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।   মতবিনিময় সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি আক্কেল মালিথা, শেখ মজনু, সোলেমান মন্ডল, আব্দুর রহমান, আব্দুল কুদ্দুস সানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ সময় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।   এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় পাহারার পাশাপাশি স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন।   ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান বলেন, গোকুলনগর এলাকায় ডাকাত চক্রের উপস্থিতির খবর পাওয়ার পর এলাকাবাসীর পাশাপাশি পুলিশের টহলও জোরদার করা হচ্ছে। ডাকাতি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ 0
নানামুখী সংকটে ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী বেনারসি পল্লি

ঐতিহ্যবাহী ঈশ্বরদী বেনারসি শিল্প এখন নানা সংকটে টিকে থাকার লড়াই করছে। দক্ষ কারিগরের অভাব, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজারসংকটের কারণে এ খাতের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাজারও মানুষের জীবিকার উৎস শিল্পটি একসময় হারিয়ে যেতে পারে।   একসময় তাঁতের খটখট শব্দে মুখর থাকত পুরো এলাকা। কারিগরদের নিপুণ হাতে তৈরি বেনারসি ও কাতান শাড়ির কদর ছিল দেশজুড়ে। সময়ের পরিক্রমায় সেই রূপ এখন ম্লান। সরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়নের দুই দশক পার হলেও পূর্ণতা পায়নি পাবনার ঈশ্বরদীর বেনারসি পল্লি। বরাদ্দ পাওয়া অধিকাংশ প্লটে গড়ে ওঠেনি কারখানা, পড়ে থাকা জমি ঢেকে গেছে ঝোপঝাড়ে। কমেছে তাঁত ও কারিগরের সংখ্যাও।   ঈশ্বরদী পৌর শহরের ফতেহ মোহাম্মদপুর এলাকায় গড়ে ওঠা এই বেনারসি পল্লির সঙ্গে জড়িয়ে আছে শত বছরের ঐতিহ্য। ব্রিটিশ আমলে ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে আসা বেনারসি কারিগরদের মাধ্যমে এই অঞ্চলে অভিজাত শাড়ি তৈরির প্রসার ঘটে। কালক্রমে শিল্পটি বিস্তার লাভ করলেও নানা প্রতিকূলতায় এখন টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।   বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ২০০৪ সালে প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে পাঁচ একর জমির ওপর বেনারসি পল্লি স্থাপন করে। লক্ষ্য ছিল ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেয়া এবং তাঁতিদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। কিস্তিতে প্লট দেয়ার মাধ্যমে সেখানে কারখানা বানানোর সুযোগ পান ৯০ জন তাঁতি। তবে দুই দশকেও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। বরাদ্দ পাওয়া ৯০টি প্লটের মধ্যে কারখানা গড়ে উঠেছে মাত্র সাতটিতে, যার মধ্যে চালু আছে তিনটি। অনেক প্লটে নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোথাও দেয়াল উঠলেও ছাদ হয়নি, আবার কোথাও কারখানার কোনো চিহ্নই নেই। দীর্ঘদিনের অযত্নে পল্লির বড় একটি অংশ এখন ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়েছে।   তাঁতিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অবকাঠামোগত জটিলতার পাশাপাশি বাজারসংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক দফায় বেড়েছে সুতা, চুমকিসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম। একই সময়ে কম দামি ভারতীয় শাড়ির দাপটে দেশীয় বেনারসি ও কাতানের বাজার সংকুচিত হয়েছে।   উৎপাদন খরচ বাড়লেও শাড়ির দাম সেই অনুপাতে বাড়াতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় ফতেহ মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় শত শত বেনারসি কারখানা ছিল, যেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন হাজারও মানুষ। এখন অনেক কারিগর পেশা বদলেছেন। আর যাঁরা আঁকড়ে আছেন, তাঁরাও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।   পল্লির চালু থাকা কারখানাগুলোতে মান ও নকশাভেদে হাতে তৈরি শাড়ি ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে শাড়ি তৈরিতে শ্রমিকের মজুরিই পড়ে যায় কয়েক হাজার টাকা। ফলে বাজারে কম দামি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁতিরা।   কাঁচামালের দাম বাড়লেও বাজারে শাড়ির দর না বাড়ায় লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় নতুন করে কারখানা করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন প্লটমালিকেরা। পাশাপাশি পল্লিটিতে সুতা প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় বাইরে থেকে কাজটি করাতে হচ্ছে, যা খরচ ও সময় দুটোই বাড়াচ্ছে।   সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কেবল প্লট বরাদ্দ দিয়ে এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাঁতিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক প্রযুক্তি, কাঁচামাল সহায়তা ও দক্ষ কারিগর ধরে রাখার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের রুচি অনুযায়ী নকশায় বৈচিত্র্য এনে দেশীয় বেনারসি-কাতানের বাজার সম্প্রসারণ জরুরি।   ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান জিলানী বলেন, একসময়ের সমৃদ্ধ এ শিল্প নানা কারণে এখন সংকটে। সরকারি সহায়তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে পল্লিটি আবারও সচল করা সম্ভব। তবে জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কর্মী না থাকায় তাঁকে একাই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আটঘরিয়া উপজেলার তাঁতিদের ঋণসংক্রান্ত কাজ সামলাতে হচ্ছে।  

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ 0
প্রখ্যাত সাংবাদিক মহসীন রিয়াজীর প্রয়াণ দিবসে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

ঈশ্বরদীর প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রয়াত মহসীন রিয়াজীর প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ এ স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করে।   পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরদী সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের সহ-সভাপতি মো. জাহিদুল আলম সনু।   স্মরণ সভায় সাংবাদিক মহসীন রিয়াজীর জীবনী নিয়ে স্মৃতিচারণা করে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী সম্মিলিত নাগরিক জোটের সদস্য সচিব আশিকুর রহমান লুলু, সাংবাদিক খন্দকার মাহবুবুল হক দুদু, সেলিম সরদার, কলাম লেখক নূরুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ।   ঈশ্বরদী সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহেদুজ্জামান টিপুর সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস আলমগীর, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমদাদুল হক আমান, শিক্ষক মাসুদ রানা, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মহিলা কাউন্সিলর মোছা. রহিমা খাতুন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আদু বালা শীল, ইঞ্জিনিয়ার আলমগীরুল নিউটন, সাংবাদিক রেজাউল করিম ফেরদৌস, যুগান্তর স্বজন সমাবেশের সভাপতি আফছার আলী, সংগীতশিল্পী আব্দুস ছাত্তার, রেজাউল করিম রেজা, সহকারী শিক্ষক আরিফুর রহমান, একরামুল হক রনিসহ অনেকেই।   স্মরণ সভা শেষে মহসীন রিয়াজীর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ঈশ্বরদী সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের সহ-সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী ওহিদুর রহমান ঝন্টু।   স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, ঈশ্বরদীতে আশির দশকে শিল্প-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মহসীন রিয়াজীর অবদান অপরিসীম। সচ্ছ সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি এ পেশাকে নিয়ে গিয়েছিলেন এক অনন্য উচ্চতায়। তাঁর কাছে এটা ছিল না নিছক পেশা, ছিল এক গভীর নেশা। তাঁর জ্ঞান ও উচ্চ মননশীল চিন্তাধারা ঈশ্বরদীকে দিয়েছিল এক ভিন্ন পরিচিতি।   তাঁরা আরও বলেন, মহসিন রিয়াজীর সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চা ছড়িয়ে পড়েছিল সমগ্র দেশব্যাপী। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ঈশ্বরদী ললিতকলা একাডেমি। যেখান থেকে জন্ম নিয়েছে অনেক দেশবরেণ্য শিল্পী। ললিতকলা একাডেমির আলো আজও ছড়িয়ে আছে দেশ-বিদেশের মঞ্চে।  

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে পদ্মার পানি কমলেও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত এবং ভাঙন আতঙ্ক

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মার পানি কমতে শুরু করলেও পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা ও ফসলের জমিতে পানি প্রবেশ করায় কৃষক ও গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙন দেখা দেয়ায় তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের রাত কাটছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়।   ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাকশী ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে প্রায় ৫ হেক্টর করে মুলা ও গাজরের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া আওতাপাড়া গ্রামের পেঁপে, কলাবাগানসহ প্রায় ৭৫ হেক্টর জমির ফসলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।   এদিকে উপজেলার সাঁড়া ও পাকশী এলাকায় পদ্মার বাঁধ উপচে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সাঁড়া ও সাহাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।   সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী ইসলামপাড়া, সাঁড়া ঘাটসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় উঁচু সড়ক অতিক্রম করে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন তীরবর্তী বাসিন্দারা। কোথাও কোথাও বসতবাড়ির আঙিনাও ভাঙনের কবলে পড়েছে। স্থানীয় লোকজন বাঁশের খুঁটি ও বেড়া দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।   সাঁড়ার আরামবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বলেন, পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় আরামবাড়িয়া, কোমরপুর, বাদলীর মোড়, মাজদিয়া ও ইসলামপাড়ার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। নদী কখন বাড়িঘর গ্রাস করে নেয়—এমন আশঙ্কায় অনেকেই নদীর পাড়ে অবস্থান করছেন।   সাহাপুর গ্রামের কৃষক আমিরুল সরদার বলেন, বন্যার পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বর্তমানে পদ্মার পানি কিছুটা কমতে দেখা গেলেও ফসলের ক্ষতি নিয়ে কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।   স্থানীয় সূত্র ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত এবং পদ্মার প্রবল স্রোতের কারণে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। গত রোববার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ১৩ দশমিক ০৫ মিটার উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমার মাত্রা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।   পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ জানান, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে গত বৃহস্পতিবার পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৮৮ মিটার। শুক্রবার তা বেড়ে ১৩ দশমিক ০২ মিটার, শনিবার ১৩ দশমিক ০৬ মিটার এবং রোববার ১৩ দশমিক ০৫ মিটারে পৌঁছায়।   ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মমিন বলেন, সাহাপুর, পাকশী, সাঁড়া ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন ফসলি জমিতে ইতোমধ্যে বন্যার পানি ঢুকেছে। পানি আরও বাড়লে শীতকালীন সবজি, আগাম জাতের শাকসবজি ও বিভিন্ন ফলের আবাদে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।   উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেহাব উদ্দিন জানান, ঈশ্বরদীর নিচু এলাকাগুলো ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিটি ইউনিয়নের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি হালনাগাদ করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যায়।   ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসাম মোহাম্মদ সোয়াইব বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আগাম প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে প্রস্তাবিত ১০০ মেগাওয়াট সৌর প্রকল্প পরিদর্শনে বিনিয়োগকারীরা

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আরামবাড়ীয়া পদ্মার চরে  ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে  প্রকল্প এলাকা হেলিকপ্টারযোগে পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেয়া, স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রকল্প এলাকা পর্যবেক্ষণ এবং বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে এই বিশেষ পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে।   পাবনা ১০০ মেগাওয়াট সোলার লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ইয়াসির আরসাদ রাজনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ পরিদর্শনে অংশগ্রহণ করেন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সোলার গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক মোহাম্মদ রুশিদি এবং প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার ও সুইস নাগরিক ইভ ফিলিপ আমাদেউস লেইস। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পাবনা ১০০ মেগাওয়াট সোলার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আনোয়ার হোসেন, প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মোহাম্মদ আশিক হাসান এবং ম্যানেজার (অ্যাডমিন) মোঃ নাসির উদ্দিন। পরিদর্শন কার্যক্রমের স্থানীয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন  মোঃ আব্দুর রশিদ।   দেশে চলমান বিদ্যুৎ-ঘাটতি মোকাবেলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাবনা ১০০ মেগাওয়াট সোলার লিমিটেড, প্রাইম রিনিউএবল হোল্ডিংস লিমিটেড এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সোলার গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার বর্তমান অবস্থা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্য বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করা হয়।   সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করা সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ-ঘাটতি পূরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জাতীয় বিদ্যুৎব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হেলিকপ্টার যোগে ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আসনা ফুটবল মাঠে অবতরণ করলে হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে প্যানেল চেয়ারম্যানকে ছুরিকাঘাত

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে। বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর পাঠশালা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছুরিকাঘাতের পর গুলিও ছোঁড়া হয় বলে দাবি করেন আহত মহির মণ্ডল।   তিনি সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা এবং ভাড়ইমারী এলাকার মৃত নায়েব আলী মণ্ডলের ছেলে। অভিযুক্ত যুবক মো. রিপন সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়ার সাহাপুর এলাকার বাসিন্দা।   মহির মণ্ডল বলেন, আজ সকালে ইউপি সদস্য আক্তারুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা চাল পরিদর্শনে পাঠশালা মোড় এলাকায় যান তিনি। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা রিপন তাঁর ওপর হামলা করেন।   তিনি আরও জানান, রিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে আহত করেন। পরে হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি দৌড়ে পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।   হামলার সময় রিপন তাঁকে এবং সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য স্বপন হোসেনকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন মহির মণ্ডল।   ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, “সলিমপুরের প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম গেছে। বিস্তারিত জেনে হামলার সঠিক কারণ জানাতে পারব। তবে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ আমাদের হাতে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”   এর আগে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদে একটি গ্রাম্য সালিশ চলাকালে মহির মণ্ডলসহ এক গ্রাম পুলিশের ওপর কয়েকজন যুবক হামলা করেছিলেন। সে সময় রিপনও হামলায় জড়িত ছিলেন।  

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে আধুনিক পদ্ধতিতে শীতকালীন সবজি চাষের ব্যাপক প্রস্তুতি

দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদনকারী অঞ্চলখ্যাত ঈশ্বরদীর মাঠে মাঠে চলছে শীতকালীন সবজি চাষের জোর প্রস্তুতি। বীজতলার পরিচর্যার পাশাপাশি জমি প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকেরা। তাঁরা আশায় বুক বেঁধেছেন, যেভাবে প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে, তাতে কোনো বিপর্যয় দেখা না দিলে স্বপ্ন পূরণের হাতছানি রয়েছে।   সরেজমিনে ঈশ্বরদীর সবজিপ্রধান এলাকা সলিমপুর, দাশুড়িয়া, সাহাপুর, লক্ষ্মীকুণ্ডা ও মুলাডুলি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজি চাষের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বীজতলায় উৎপাদন করছেন রোপণ উপযোগী চারা। অনিষ্টকারী রোগ পোকা-মাকড় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হওয়ায় চাষিরা বেগুন, মুলা, ফুলকপি, ওলকপি, বাঁধাকপি ও টমেটোর কাঙিক্ষত চারা উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকায় সবজি চাষেও সরবরাহ জোগাচ্ছে।    অন্যদিকে আগাম জাতের কিছু কিছু সবজি ইতোমধ্যেই মাঠ সবুজ করে তুলেছে। মুলা, লাল শাক, গাজর, বেগুনসহ আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি ইতোমধ্যেই বাজারজাত করতে শুরু করেছেন চাষিরা। আগাম এ সবজি চাষের খরচ বেশি হওয়ায় বাজারে এখন বেশ চড়া দামে এসব সবজি বিক্রি হচ্ছে। তবে চাষিরা আশা প্রকাশ করছেন, ভরা উৎপাদন মৌসুমে সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।    সলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারী উত্তর পাড়া গ্রামের কৃষক আলহাজ নজরুল ইসলাম বলেন, “এবার ৩০ বিঘা জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতোমধ্যেই বাড়ির আঙিনায় ওলকপি, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও টমেটোর চারা উৎপাদন করা হয়েছে। আগামী ২-৪ দিনের মধ্যেই এসব চারা জমিতে রোপণ করা হবে।” বেশ কিছু জমিতে মুলা, লাল শাক ও বেগুন রোপণ করা হয়েছিল, যা এখন বিক্রির উপযোগী বলেও জানান তিনি।   বক্তারপুর গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বিশ্বাস জানান, শীতকালীন সবজি চাষ ঘিরে আগামী ছয় মাস চলবে তাঁদের ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। তিনি আরও জানান, পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর বিরাট অংশ বন্যাপ্লাবিত হওয়ায় সেখানকার চাষিরা চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজি চাষে পিছিয়ে পড়েছেন, যার ফলে ঈশ্বরদীর চাষিরা এ মৌসুমে অধিক মূল্যে সবজি বিক্রির সুযোগ পাবেন।   চরমিরকামারী গ্রামের কৃষক আলম সরদার জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিদের প্রস্তুতিতে কোনো বেগ পেতে হচ্ছে না, যা উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।    কৃষিশ্রমিক শামসুল আলম, রহমত আলী ও সাইদুল প্রামানিক জানান, শীতকালীন সবজি চাষ ঘিরে তাঁদের ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুণে। প্রতিদিন সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চলছে তাঁদের জমি প্রস্তুতির কাজ। বীজতলা পরিচর্যা এবং আগাম মৌসুমের সবজির জমিতে তাঁদের আগাছা নিধনের কাজ চলছে। মৌসুমজুড়েই তাঁদের এই ব্যস্ততা থাকবে।    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ  ইমরান খান সাগর জানান, ঈশ্বরদীতে সবজি চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও ঈশ্বরদীতে ব্যাপক হারে শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চাষিরা কাঙিক্ষত সবজি উৎপাদনে সক্ষম হবেন বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এ লক্ষ্যে আমরা নিয়মিতভাবে মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের উন্নত চাষ পদ্ধতির ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিয়ে চলেছি।”   ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন জানান, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে প্রায় ৬ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে মাঠে মাঠে জোর প্রস্তুতি চলছে। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে চলেছেন। তিনি আরও বলেন, এবার প্রতি হেক্টর জমিতে ১০ মেট্রিক টনের অধিক সবজি উৎপাদিত হবে। এখন পর্যন্ত বীজতলা এবং সবজি খেতে পোকা মাকড় ও রোগবালাইয়ের উপদ্রব লক্ষ করা যায়নি। কৃষি অফিস এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।  

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে ঈশ্বরদীর চরাঞ্চল ও ফসলি জমিতে হাহাকার, নদীভাঙনের আতঙ্ক

ঈশ্বরদীতে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ছে। পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা ও ফসলের জমিতে পানি প্রবেশ করায় কৃষক ও গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙন দেখা দেয়ায় তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের রাত কাটছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়।   ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাকশী ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে প্রায় ৫ হেক্টর করে মুলা ও গাজরের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া আওতাপাড়া গ্রামের পেঁপে, কলাবাগানসহ প্রায় ৭৫ হেক্টর জমির ফসলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।   এদিকে উপজেলার সাঁড়া ও পাকশী এলাকায় পদ্মার বাঁধ উপচে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সাঁড়া ও সাহাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।   সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী ইসলামপাড়া, সাঁড়া ঘাটসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় উঁচু সড়ক অতিক্রম করে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন তীরবর্তী বাসিন্দারা। কোথাও কোথাও বসতবাড়ির আঙিনাও ভাঙনের কবলে পড়েছে। স্থানীয়রা বাঁশের খুঁটি ও বেড়া দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।   সাঁড়ার আরামবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বলেন, পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় আরামবাড়িয়া, কোমরপুর, বাদলীর মোড়, মাজদিয়া ও ইসলামপাড়ার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। নদী কখন বাড়িঘর গ্রাস করে নেয়—এমন আশঙ্কায় অনেকেই নদীর পাড়ে অবস্থান করছেন।   সাহাপুর গ্রামের কৃষক আমিরুল সরদার বলেন, বন্যার পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফসলের ক্ষতি নিয়েও কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।   স্থানীয় সূত্র ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত এবং পদ্মার প্রবল স্রোতের কারণে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। গত কয়েক দিনে পানি কখনো বাড়ছে, আবার কিছুটা কমছে। গত রোববার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ১৩ দশমিক ০৫ মিটার উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।   পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ জানান, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে গত বৃহস্পতিবার পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৮৮ মিটার। শুক্রবার তা বেড়ে ১৩ দশমিক ০২ মিটার, শনিবার ১৩ দশমিক ০৬ মিটার এবং রোববার ১৩ দশমিক ০৫ মিটারে পৌঁছায়।   ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মমিন বলেন, সাহাপুর, পাকশী, সাঁড়া ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন ফসলি জমিতে ইতোমধ্যে বন্যার পানি ঢুকেছে। পানি আরও বাড়লে শীতকালীন সবজি, আগাম জাতের শাকসবজি ও বিভিন্ন ফলের আবাদে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।   উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেহাব উদ্দিন জানান, ঈশ্বরদীর নিচু এলাকাগুলো ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিটি ইউনিয়নের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি হালনাগাদ করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যায়।   ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসাম মোহাম্মদ সোয়াইব বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আগাম প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
পদ্মা নদীতে নিখোঁজ হওয়া সেই ছাত্রদল নেতার মরদেহ ভেসে উঠল ৩৮ ঘণ্টা পর

 পিকনিকের নৌকা হার্ডিং ব্রিজের পিলারের সাথে ধাক্কা লেগে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন রাকিবুজ্জামান রকি নামে এক ছাত্রদল নেতা। দীর্ঘ ৩৮ ঘণ্টা পর পদ্মা নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় ঈশ্বরদী উপজেলার চরকুড়লিয়া আকাতের ঘাট এলাকায় মরদেহটি পাওয়া যায়।   চরকুড়লিয়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক সেলিম রেজা জানান, রবিবার সকাল ৯টার দিকে চরকুড়লিয়া গ্রামের আকাতের ঘাট এলাকায় পদ্মার নদীতে একজনের মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে নৌ-পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।   এর আগে শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা ১৫ মিনিটে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারের সঙ্গে ১২৩ জন যাত্রী বহনকারী পিকনিকের নৌকা (ট্রলার) ব্রিজের গার্ডারে ধাক্কা লেগে প্রথমে ৩ জন নিখোঁজ হন; পরে দুজনকে উদ্ধার করা হলেও রকি নিখোঁজ ছিল। নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা রকি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব।   পিকনিকে নৌকায় থাকা যাত্রীরা জানান, শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার কাতলাগাড়ী গড়াই নদ থেকে পদ্মা নদীতে নৌকাযোগে পিকনিকে বের হয় প্রায় শতাধিক ভ্রমণকারী। ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে রাতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ৫ নম্বর পিলারের সঙ্গে ট্রলারটির ধাক্কা লাগে। এ সময় ছাত্রদল নেতা রকিসহ তিনজন নদীতে ছিটকে পড়েন। কিছুক্ষণ পরই নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানে মো. লিটন (৩৮) ও মো. ওয়াহাব (৪৫) নামে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ রয়ে যায় ছাত্রদল নেতা রকি।   লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার ট্রলার থেকে পড়ে তিনজন নিখোঁজ হন। নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। একজন নিখোঁজ ছিল, আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার সময় চরকুড়লিয়া গ্রামের আকাতের ঘাট এলাকায় পদ্মার শাখা নদী থেকে রকির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ের বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুরাতন মোটরস্ট্যান্ডে পথসভায় মিলিত হয়।   উপজেলা মহিলা দল সভানেত্রী রোকেয়া হাশেমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব।    বক্তারা বলেন, ১৯৭৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মহিলা দলকে নিজ হাতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এ দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। জিয়াউর রহমান অল্প কিছুদিন রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করলেও সে সময় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি যদি আরও বেশি সময় এ দেশের দায়িত্ব পালন করতে পারতেন, তাহলে এই দেশকে সোনার দেশে পরিণত করতেন।   বক্তারা আরও বলেন, “ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। এ দেশে গুম-খুনের রাজত্ব কায়েম করেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরে শান্তিপূর্ণভাবে দেশের কোথাও মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে দেয়া হয়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণে ৩৬ জুলাইয়ের পর দেশ দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীন হয়েছে। আমরা ফিরে পেয়েছি নতুন করে স্বাধীনতা। সে কারণেই আজকে আনন্দের সাথে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে পারছি।”   এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউল হক সন্টু সরদার, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, সদস্য সচিব ইমরুল কায়েস সুমন, উপজেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি হীরা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক চামেলী খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক আইভি খাতুন, পৌর মহিলা দল সভানেত্রী রোকেয়া সুলতানা, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহিনা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক আফরোজা খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসমিন আক্তার নিপা, মহিলা দল নেত্রী শামীম আরা বেগম সাথী, মুলাডুলি ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী হোসনেয়ারা বেগম, দাশুড়িয়ার সভানেত্রী নুরজাহান বেগম, সাহাপুর ইউনিয়ন সভানেত্রী শাহনাজ পারভীন সোমা, সাঁড়া ইউনিয়ন সভানেত্রী আনোয়ারা বেগম, সলিমপুর ইউনিয়ন সভানেত্রী চুমকি খাতুনসহ মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা।  

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
Popular post
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শে আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক সংবেদনশীলতা, ইতিবাচক চিন্তার শিক্ষা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা

আধুনিক মনোবিজ্ঞানে ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ বা আবেগিক বুদ্ধিমত্তা ধারণাটি তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক। ১৯৯০-এর দশকে মনোবিজ্ঞানী পিটার স্যালোভি ও জন মেয়ার এ তত্ত্বের গোড়াপত্তন করেন। পরবর্তী সময়ে ড্যানিয়েল গোলম্যানের গবেষণার মাধ্যমে তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। গোলম্যানের কাঠামো অনুযায়ী আবেগিক বুদ্ধিমত্তার পাঁচটি মূল স্তম্ভ চিহ্নিত করা হয় : আত্মসচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, অভ্যন্তরীণ প্রেষণা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দক্ষতা। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এ ধারণার মূল উপাদানগুলো মানবসভ্যতার ইতিহাসে বহু আগে থেকেই আদর্শ চরিত্র ও কার্যকর নেতৃত্বের অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। কেবল এত দিন তাত্ত্বিক কাঠামোয় নামকরণ হয়নি।   মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাচরণে এই গুণাবলির এক সমন্বিত ও ব্যবহারিক রূপ বিদ্যমান, যা সমসাময়িক ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব ও মনোবিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত। সমসাময়িক মনোবিজ্ঞান ও নেতৃত্ববিষয়ক আলোচনায় আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক বুদ্ধিমত্তা, সহমর্মিতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সচেতনতা, সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ও ইতিবাচক চিন্তা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তবে এই পরিভাষাগুলো আধুনিক হলেও মহানবি (সা.)-এর জীবনাচরণে এগুলোর বাস্তব ও গভীর প্রয়োগ বহু শতাব্দী আগেই প্রতিফলিত হয়েছিল।   আবেগিক বুদ্ধিমত্তার একটি কেন্দ্রীয় দিক হলো তীব্র মানসিক চাপের মুহূর্তে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে চিন্তাশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নবি করিম (সা.) তাঁর আবেগ নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শন করতেন। মক্কা বিজয়ের সময় সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ঘটনা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বহু বছরের নিপীড়ন, অবরোধ ও যুদ্ধের ইতিহাস সত্ত্বেও প্রতিহিংসার পরিবর্তে সংহতি ও সহাবস্থানের নীতি গ্রহণ করেছিলেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়ায় আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেয়ার একটি কৌশলগত দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, যা নেতৃত্বতত্ত্বের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।   সাংগঠনিক আচরণবিজ্ঞানে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে প্রায়ই ‘ইমোশনাল রেগুলেশন ইন হাই-স্টেকস লিডারশিপ’ বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ নেতৃত্বে আবেগ নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়, যেখানে তাৎক্ষণিক আবেগীয় তাড়নার বদলে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলের কথা বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁর আত্মনিয়ন্ত্রণের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। সন্তান হারানোর শোক, নিকটাত্মীয় বিয়োগ কিংবা অনুসারীদের ভুল-ত্রুটির মুখোমুখি হয়েও তিনি ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতেন বলে হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ পাওয়া যায়। আবেগ প্রকাশে সংযম, অথচ আবেগকে সম্পূর্ণ দমন না করা, এই দ্বৈত ভারসাম্য আধুনিক মনোবিজ্ঞানে ‘ইমোশনাল রেগুলেশন’ এবং ‘ইমোশনাল সাপ্রেশন’-এর মধ্যকার পার্থক্য বোঝার ক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্ত হতে পারে।   সামাজিক বুদ্ধিমত্তার একটি মূল উপাদান হলো ভিন্ন সামাজিক অবস্থান ও প্রেক্ষাপটের মানুষের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক স্থাপনের দক্ষতা। নবি করিম (সা.) দাস, শিশু, নারী, বয়োজ্যেষ্ঠ ও ভিন্নধর্মাবলম্বী সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে তাদের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সংবেদনশীলভাবে আচরণ করতেন। প্রতিবেশীর অধিকার, অতিথি আপ্যায়ন এবং পারস্পরিক পরামর্শ বা ‘শূরা’র নীতির ওপর তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপ এই সামাজিক সংবেদনশীলতারই প্রতিফলন বলে গবেষকরা মনে করেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পরামর্শের ভূমিকা। বদরের যুদ্ধের অবস্থান নির্বাচন থেকে শুরু করে উহুদের যুদ্ধকৌশল পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি অনুসারীদের মতামত গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি ব্যক্তিগত মত ভিন্ন হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।   সাংগঠনিক নেতৃত্বতত্ত্বে এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়াকে ‘পার্টিসিপেটিভ লিডারশিপ’ বলা হয়। যেখানে নেতা তাঁর কর্তৃত্ব বজায় রেখেও অধস্তনদের মতামতকে মূল্য দেন; এবং এর মাধ্যমে সংগঠনের মধ্যে আস্থা ও সংশ্লিষ্টতার অনুভূতি তৈরি করেন। মদিনা সনদ, ইতিহাসে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন লিখিত সংবিধান হিসেবে স্বীকৃত, ছিল এই সামাজিক দক্ষতারই একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহাবস্থানের একটি কাঠামো তৈরি করে তিনি বহুত্ববাদী সমাজ পরিচালনায় সংলাপ ও সমঝোতার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন, যা সমকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সংঘাত-নিরসন তত্ত্বের দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। এই সনদে বিভিন্ন পক্ষের অধিকার ও দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার মাধ্যমে একটি বহু-সাংস্কৃতিক নগর-রাষ্ট্র পরিচালনার যে কাঠামো তৈরি হয়েছিল, তা আধুনিক ‘কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন’ বা সংঘাত-নিরসন তত্ত্বের অনেক মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।   সহমর্মিতার আরেকটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় তাঁর দৈনন্দিন আচরণে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি তাঁর মনোযোগ, রোগীর সেবা এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা শোনার আগ্রহের মধ্যে। এই আচরণ কেবল ব্যক্তিগত সদাচরণের প্রকাশ নয়, বরং একধরনের সক্রিয় শ্রবণ বা ‘অ্যাক্টিভ লিসেনিং’-এর দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে, যা আধুনিক যোগাযোগ তত্ত্বে সম্পর্ক নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে স্বীকৃত।   তায়েফের ঘটনা মহানবি (সা.)-এর আবেগিক নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমাশীলতা ও ভবিষ্যৎমুখী ইতিবাচক চিন্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তায়েফে তিনি প্রত্যাখ্যাত, অপমানিত ও নির্যাতিত হন। শারীরিক নির্যাতন ও অপমানের শিকার হয়েও প্রতিশোধের পরিবর্তে তিনি ধৈর্য ও ক্ষমার পথ বেছে নেন। সহিহ আল-বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, পাহাড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা তাঁকে তাঁর নির্যাতনকারীদের ওপর দুই পাহাড় চাপিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন। প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। আশা করেন যে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্য থেকে এমন মানুষ জন্ম নেবে, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে। এখানে ক্ষমার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। এ ঘটনা কেবল ধর্মীয় সহনশীলতার উদাহরণ নয়, বরং তীব্র মানসিক চাপের মুহূর্তে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার একটি বাস্তব নজির, যাকে আধুনিক পরিভাষায় ‘স্ট্রেস রেগুলেশন’ বা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ বলা যেতে পারে।   এক বেদুঈন মসজিদের ভেতর প্রস্রাব করতে শুরু করলে সাহাবিরা তাঁকে থামাতে উদ্যত হন। কিন্তু মহানবি (সা.) তাঁদের বিরত করেন এবং পরবর্তী সময়ে জায়গাটি পানি দিয়ে পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। তিনি ভুলটিকে সমর্থন করেননি; বরং ভুলকারী ব্যক্তির অজ্ঞতা ও সামাজিক অবস্থাকে বিবেচনায় নিয়েছিলেন। মূল শিক্ষা হলো : অজ্ঞতার চিকিৎসা অপমান নয়, শিক্ষা।   আধুনিক সমাজে মানুষ প্রায়ই ভুল এবং ভুলকারীকে একইভাবে বিচার করে। একটি ভুলের ভিত্তিতে পুরো ব্যক্তিত্বকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। নববি পদ্ধতি ছিল ভিন্ন। ভুল সংশোধন করতে হবে, কিন্তু এমনভাবে, যাতে মানুষের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে এবং তার ফিরে আসার পথ বন্ধ না হয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নীতি প্রয়োগ করা হলে বহু অপ্রয়োজনীয় সংঘাত ও সম্পর্কভাঙন এড়ানো সম্ভব। উহুদের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতেও মহানবি (সা.)-এর নেতৃত্বে আবেগিক ও সামাজিক প্রজ্ঞার উজ্জ্বল উদাহরণ দেখা যায়। কিছু সাহাবির সিদ্ধান্তের কারণে গুরুতর বিপর্যয় ঘটেছিল। মহানবি (সা.) নিজেও আহত হয়েছিলেন। কিন্তু সুরা আলে ইমরান ৩:১৫৯-এ তাঁকে তাঁদের প্রতি কোমল থাকতে, ক্ষমা করতে, তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ অব্যাহত রাখতে বলা হয়। এখানে নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রকাশিত হয়েছে।   একজন অনুসারী ভুল করলেই তার মর্যাদা ও অংশগ্রহণের অধিকার চিরতরে নষ্ট হয়ে যায় না। বরং কার্যকর নেতৃত্ব মানুষের ভুল সংশোধন করে তাকে পুনরায় দায়িত্বশীল অংশগ্রহণে ফিরিয়ে আনে। মহানবি (সা.)-এর নেতৃত্ব তাই শুধু শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তা মানুষের পুনর্গঠন, আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।   তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রকৃত গভীরতা সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝা যায় কাছের মানুষের সাক্ষ্যে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) প্রায় দশ বছর মহানবি (সা.)-এর সেবায় ছিলেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময়ে মহানবি (সা.) তাঁকে কোনো কাজ করা বা না করার জন্য অপমানজনক ভঙ্গিতে প্রশ্ন করেননি। এই সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জনসমক্ষে ভদ্র থাকা তুলনামূলকভাবে সহজ, কিন্তু যারা নিকটবর্তী, অধীনস্থ বা প্রতিদিনের সম্পর্কের অংশ, তাদের সঙ্গে আচরণই ব্যক্তির প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করে।   আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনাতেও পাওয়া যায় যে মহানবি (সা.) ব্যক্তিগত কারণে প্রতিশোধ নিতেন না এবং কোনো নারী বা খাদেমকে হাতে আঘাত করেননি। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোমলতা বজায় রাখা তাঁর নৈতিক ও আবেগিক পরিপক্বতার একটি উল্লেখযোগ্য দিক। শিশুদের প্রতি তাঁর আচরণ সামাজিক সংবেদনশীলতার আরেকটি মানবিক উদাহরণ। আনাস (রা.)-এর ছোট ভাই আবু উমাইরের একটি পাখি ছিল এবং মহানবি (সা.) তাঁর সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন ও পাখিটির খবর নিতেন। রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, ধর্মীয় ও বিচারিক অসংখ্য দায়িত্বের মধ্যেও একটি শিশুর ক্ষুদ্র আনন্দ ও দুঃখ তাঁর কাছে গুরুত্ব হারায়নি।   মহানবি (সা.)-এর সামাজিক বুদ্ধিমত্তা ধর্মীয় ভিন্নতার ক্ষেত্রেও মানবিক মর্যাদার প্রতি গভীর সম্মান প্রকাশ করে। একজন ইহুদি ব্যক্তির জানাজা অতিক্রম করার সময় তিনি উঠে দাঁড়ান। তাঁকে জানানো হলো যে মৃত ব্যক্তি ইহুদি। তিনি প্রশ্ন করেন, “সে কি একটি প্রাণ নয়?” এই সংক্ষিপ্ত ঘটনায় একটি সর্বজনীন মানবিক নীতি নিহিত রয়েছে। ধর্মীয়, সামাজিক বা রাজনৈতিক মতপার্থক্য মানুষের মৌলিক মর্যাদা অস্বীকারের কারণ হতে পারে না।   বর্তমান বিভক্ত বিশ্বে এই শিক্ষা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামাজিক মেরুকরণ প্রায়ই মানুষকে এমন অবস্থায় নিয়ে যায়, যেখানে নিজের দলের মানুষের কষ্টকে গুরুত্ব দেয়া হয়, কিন্তু ভিন্ন পরিচয়ের মানুষের কষ্টকে উপেক্ষা করা হয়। এ কারণেই মানুষ মহানবি (সা.)-এর পাশে নিজেদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ মনে করত। ভুল করলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে, কষ্ট পেলে তিনি শুনবেন, দুর্বল হলে অপমান করবেন না, শিশু হলে অবহেলা করবেন না, অধীনস্থ হলে মর্যাদা কমবে না এবং ভিন্ন বিশ্বাসের হলেও মানবিক অস্তিত্ব অস্বীকার করা হবে না। এই নিরাপত্তাবোধ তাঁর নেতৃত্বের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য ছিল। কোরআনের ভাষায়, তিনি যদি রূঢ় ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, মানুষ তাঁর চারপাশ থেকে সরে যেত। ফলে নববি নেতৃত্বের অন্যতম শিক্ষা হলো : মানুষ শুধু শক্তিশালী নেতার অনুসারী হয় না, তারা সেই নেতার প্রতি আস্থাশীল হয়, যার কাছে তাদের মর্যাদা নিরাপদ।   কোরআন মহানবি (সা.)-এর এই মানবিক ও আবেগিক চরিত্রকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে তুলে ধরে। সুরা আত-তাওবা ৯:১২৮-এ বলা হয়েছে যে, মানুষের কষ্ট তাঁর কাছে অত্যন্ত কষ্টকর ছিল, তিনি মানুষের কল্যাণকামী এবং মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল ও দয়ালু ছিলেন। এ বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, তাঁর সহমর্মিতা ছিল শুধু নৈতিক বক্তব্য নয়; বরং তা তাঁর নেতৃত্ব ও সামাজিক সম্পর্কের মৌলিক ভিত্তি ছিল। অন্যের দুর্দশা, ব্যথা ও দুর্বলতার প্রতি সংবেদনশীলতা তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। মহানবি (সা.)-এর আবেগিক বুদ্ধিমত্তার আরেকটি কেন্দ্রীয় দিক ছিল আত্মসংযম। তিনি শক্তির প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেন। সহিহ আল-বুখারির হাদিসে তিনি বলেন, প্রকৃত শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং সে, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই বক্তব্য মানবিক আত্মনিয়ন্ত্রণের গভীর তাৎপর্য প্রকাশ করে।   নববী দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রকৃত শক্তি হলো আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। মক্কিজীবনের প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিক বয়কট, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতির মুখেও নবুয়তি দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকা এবং অনুসারীদের মধ্যে আশাবাদ সঞ্চার করার প্রবণতা আধুনিক মনোবিজ্ঞানের ‘রেজিলিয়েন্স’ বা প্রতিরোধ-সক্ষমতা ধারণার সঙ্গে তুলনীয়। বদর ও উহুদের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনায়ও তিনি হতাশার পরিবর্তে ভবিষ্যৎমুখী পুনর্গঠনের নীতি অনুসরণ করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক বিবরণ থেকে জানা যায়।   হিজরতের সময়কার একটি বহুল-উদ্ধৃত ঘটনাও এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ। সাওর গুহায় আশ্রয় নেয়ার সময় শত্রুপক্ষের নিকটবর্তী উপস্থিতি সত্ত্বেও তিনি তাঁর সহচরকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। এ ঘটনা চরম অনিশ্চয়তার মুহূর্তেও স্থিতধী মনোভাব বজায় রাখার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। ইতিবাচক মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘কগনিটিভ রিফ্রেমিং’ বলা যেতে পারে। অর্থাৎ একই পরিস্থিতিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করে মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই ইতিবাচক মনোভাব কোনো নিষ্ক্রিয় আশাবাদ নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। শত্রুরা তাঁদের খুঁজছিল এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।   আবু বকর (রা.) উদ্বিগ্ন হলে মহানবি (সা.) বলেন, “চিন্তিত হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।” ( সুরা আত-তাওবা ৯:৪০) এখানে তিনি বাস্তব বিপদকে অস্বীকার করেননি, বরং বিপদের মাঝেও আল্লাহর সাহায্যের প্রতি আস্থা বজায় রেখেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি শেখায় যে জীবনের কোনো একটি সংকটকে সমগ্র ভবিষ্যতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খননের কৌশল গ্রহণ কিংবা মদিনায় অভিবাসনের পর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ।   এসব দৃষ্টান্ত থেকে বোঝা যায়, তাঁর আশাবাদ বাস্তবতাবিবর্জিত ছিল না, বরং কার্যকর পরিকল্পনার সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এই সমন্বয়কে আধুনিক ব্যবস্থাপনা-তত্ত্বে ‘রিয়েলিস্টিক অপটিমিজম’ বা বাস্তবতাভিত্তিক আশাবাদ বলা হয়, যেখানে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবতা-বিচ্ছিন্ন না হয়ে কার্যকর পদক্ষেপের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই আবেগিক ও সামাজিক প্রজ্ঞার সঙ্গে মহানবি (সা.)-এর ইতিবাচক চিন্তা গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাঁর জীবন পিতৃহীনতা, মাতৃহীনতা, প্রিয়জন হারানো, সামাজিক বর্জন, উপহাস, নির্যাতন, যুদ্ধ ও বিরোধিতায় পরিপূর্ণ ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি তিক্ত, প্রতিহিংসাপরায়ণ বা হতাশ হয়ে যাননি। মানুষের পরিবর্তনের সম্ভাবনায় বিশ্বাস রেখেছেন। চাকরি হারানো, পরীক্ষায় ব্যর্থতা বা আর্থিক সংকট এসব জীবনের কঠিন অধ্যায় হতে পারে। কিন্তু পুরো জীবন নয়।   মহানবি (সা.) আশাব্যঞ্জক কথাও পছন্দ করতেন। সহিহ হাদিসে তাঁর ভালো, সুন্দর ও আশাজাগানিয়া কথা পছন্দ করার কথা এসেছে। এর তাৎপর্য হলো, ভাষা মানুষের মনোবল ও আচরণে প্রভাব ফেলে। ‘তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না’ এবং ‘ভুল হয়েছে, কিন্তু চেষ্টা করলে উন্নতি সম্ভব’ এ দুই ধরনের বক্তব্য একই বাস্তবতার প্রতি সম্পূর্ণ ভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। নববি ইতিবাচকতা এমন ভাষার ব্যবহার করে, যা মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি ও পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে অক্ষুণ্ন রাখে। একই সঙ্গে এই ইতিবাচকতা কোনো কৃত্রিম আবেগ-দমন ছিল না।   মহানবি (সা.) কেঁদেছেন। শোক প্রকাশ করেছেন। মানুষের আচরণে কষ্ট পেয়েছেন এবং উম্মতের জন্য উদ্বিগ্ন হয়েছেন। ফলে দুঃখ অনুভব করা বা কান্না করা ইমানের দুর্বলতার প্রমাণ নয়। একজন মানুষ একই সঙ্গে কষ্ট অনুভব করতে পারে এবং আল্লাহর ওপর আস্থাও রাখতে পারে। সামগ্রিকভাবে মহানবি (সা.)-এর আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক প্রজ্ঞা এবং ইতিবাচক চিন্তা একটি সমন্বিত মানবিক দর্শন নির্মাণ করে। এ দৃষ্টিভঙ্গির সারকথা হলো : মানুষের হৃদয় জয় করতে তাকে পরাজিত করার প্রয়োজন নেই। তাকে বোঝা প্রয়োজন। মানুষের ভুলের মধ্যেও সম্ভাবনা দেখতে হবে। কষ্টের মধ্যেও আশা রাখতে হবে। ভয়ের মধ্যেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। অশ্রুর মধ্যেও পথচলা অব্যাহত রাখতে হবে। এই শিক্ষা শেষ পর্যন্ত কোরআনের সেই গভীর ঘোষণার সঙ্গে সংযুক্ত হয় : মহানবি (সা.) বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর শক্তির গভীরে ছিল দয়া। তাঁর নেতৃত্বের কেন্দ্রে ছিল মানুষের হৃদয়। তাঁর ইতিবাচকতার কেন্দ্রে ছিল আল্লাহর ওপর আস্থা।   আধুনিক সমাজে যেখানে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও সহমর্মিতার ঘাটতি রয়েছে, সেখানে তাঁর জীবন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রকৃত প্রজ্ঞা হলো ক্ষমতার মধ্যেও কোমল থাকা। কষ্টের মধ্যেও ন্যায়বান থাকা। ক্রোধের মধ্যেও আত্মসংযমী থাকা। মানুষের ভুলের মধ্যেও তার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎকে দেখতে শেখা। বর্তমান কর্মক্ষেত্র ও সমাজে নেতৃত্বের সংকট, মানসিক চাপ ও আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্কের জটিলতা ক্রমবর্ধমান একটি আলোচ্য বিষয়। বিশ্বজুড়ে ব্যবস্থাপনা-শিক্ষায় ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘রেজিলিয়েন্স’ এখন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এবং বহু প্রতিষ্ঠান নেতৃত্ব-উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই দক্ষতাগুলোকে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমান বা তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে। বাংলাদেশসহ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পারিবারিক পরিমণ্ডল ও কর্মক্ষেত্রে নৈতিক নেতৃত্বের আদর্শ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঐতিহাসিক-বিশ্লেষণাত্মক পাঠ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।  

চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

সেবিকা

বয়সটা নিতান্তই বাল্যকাল। শখের প্রিয় টেপা পুতুলঘোড়ার খেলনাগুলো এক পাশে রেখে যখন থার্মোমিটার, রক্তচাপ মান যন্ত্রাংশের স্পর্শতা পেয়েছিল, ঢের বুঝেছিলাম একদিন সু-বিশালতার আদর্শ সেবিকা হব।   হঠাৎ অগোচরে বাবার শরীর কাঁপুনিতে জ্বরের আগমনী বার্তা। মনের উদ্দীপ্ত একাগ্রতা চিত্তের আকুলতায় সেবিকা আদর্শে স্পর্শ ছোঁয়ায় অনবদ্য মাধুর্যতা। স্নিগ্ধতায় মস্তকে হাত বুলিয়ে বাবার পরশমণির মৃদু হাসির আড়ালে এক উচ্চারিত প্রতিধ্বনি, “অনেক বড় হও মা। সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনার আলোয় আলোকিত করো প্রতিটি জীবের শুদ্ধতার পবিত্র অন্তর।” এই উচ্চারিত প্রতিধ্বনি কেবল এক নিচ্ছুক শব্দ নয়, জীবনবৃত্তান্তে বেড়ে ওঠা স্বপ্ন পূরণের বহিঃপ্রকাশ।   বাংলার সবুজ দিগন্তে প্রকৃতির নিবিড়য়তায় স্বপ্নগুলো আমার একান্তই সঙ্গী। সন্ধ্যা আঁধারে ঝিঁঝি পোকার আলোই বয়ে চলা নিঃসঙ্গতা নদীপথ। নিদ্রা যাপনে কল্পনার জগৎ ভাবে ভাবান্তর অতুলনীয় স্বপ্ননীল সুন্দর।   কালবেলার দ্বিখণ্ডিত পর্বে শতাব্দীর অবসান। কত শত জীবন্ত মরুভূমি প্রান্তরে অলীক চিন্তার মোড়কে স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার। স্বপ্নসিঁড়ির যাত্রাপথে শহরতলির অভিশপ্ত নগরী আমার আবাসস্থল। ইট-পাথরের শহর গলিপথে অসহায়ত্বের শান্তিনিকেতনে আমার দিবালয় মিশনারি হাসপাতাল।    সমুদ্রের কিনারে সূর্যাস্তে ঢলে পড়া ক্লান্ত সন্ধ্যায় মুঠোফোনের ওপাশ থেকে এক শুভেচ্ছা বার্তা। এই তো এখানে জায়গা আছে। হৃদয়ের সুপ্ত গভীরতায় যে স্বপ্ন বুনেছিলাম, তার প্রতিটি অপেক্ষা পূরণের ব্যাকুলতায় সীমাহীন আনন্দ অভিমান।    পাখিডাকা ভোরের উষ্ণ শীতলতায় ওয়ান জিরো ফোর অপারেশন থিয়েটার। হাসপাতালের প্রতিটি ইট, ধূলিকণা যেন এক নির্বাক বাঁচার আকুতি। কিছু মুহূর্তে হারিয়ে গিয়েছিলাম বিষাদ সিন্ধুর একাকিত্বে। হঠাৎ দরজায় কড়া নেড়ে রুক্ষ মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে এক জীবন্ত সেবিকা। বিষণ্ন বাতাসে মৃদু হেসে বলিয়া উঠিল, “তোমার ডিউটি ওয়ান জিরো ফোর অপারেশন থিয়েটার রুম।”   বেস্ট রঙের যুগলবন্দী পোশাকের ঘ্রাণের মাধুর্যতা আমার শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় বহমান। মুহূর্তেই এক দুঃখবিলাসী জীবনের কাতরতায় অভাগীর অনুপ্রবেশ।   বাঁচার আকুতি এবং সেবা গ্রহণের প্রতীক্ষায়। আগ্রহ বাড়িয়ে হৃদয়স্পর্শী সেবা দানে সমাপ্ত হইল তাহার নিকট আমার প্রথম সেবার আত্মনিবেদন।    

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

Top week

সাহিত্য

শরৎ

অক্টোবর ২, ২০২৬ 0