Breaking news

অপরাধ

ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৫৪

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং সদস্য সন্দেহে অভিযান চালিয়ে নতুন করে ২৫৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা পুলিশ ও ডিবি শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান চালায়। যেখানেই বখাটে ও উঠতি বয়সীদের উৎপাত রয়েছে, সেসব স্থান লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয় ৬ ঘণ্টার এই সাঁড়াশি অভিযান। আটককৃতদের অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।   এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর একই ধরনের অভিযানে জেলাজুড়ে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয় এবং বাকিদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। কিশোর অপরাধ নির্মূলে জেলা পুলিশের এমন কঠোর অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ 0
অপরাধ দমনের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া কাম্য নয়

যেকোনো অপরাধ সমাজের শান্তি বিনষ্ট করে, অস্থিতিশলিতা তৈরি করে এবং মানুষের জীবনযাপনকে করে তোলে নিরাপত্তাহীন। তাই রাষ্ট্রের অন্যতম কাজ হলো জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে অপরাধ দমন করা। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কোনো চিহ্নিত অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে না পারলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতেই পারে। মানুষ প্রশ্ন তুলতে পারে, প্রতিবাদ করতে পারে, অপরাধীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর দায়িত্ব পালনের চাপও সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু পুলিশের ব্যর্থতা বা বিলম্ব কোনো নাগরিককে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার লাইসেন্স দেয় না কোনোভাবেই।   অপরাধী কিংবা অপরাধী সন্দেহে কাউকে ধরে মারধর করা, গণপিটুনি দেয়া, হত্যা করা, বাড়িঘর ভাঙচুর কিংবা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া — এসবকে কোনোভাবেই জনতার বিচার বলা যায় না। এগুলো সরাসরি অপরাধ এবং বিচারবহির্ভূত অনৈতিক কর্মকাণ্ড। অপরাধ দমনের নামে এমন কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা রাষ্ট্র ও আইনের শাসনের জন্য ভয়ংকর আত্মঘাতী।   কেউ অপরাধী হতে পারে, তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকতে পারে, এমনকি প্রমাণও থাকতে পারে। কিন্তু তার অপরাধের বিচার করার অধিকার রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার। একজনকে রাস্তায় ফেলে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দিয়ে শাস্তি দেয়ার নাম বিচার নয়, সেখানে প্রতিশোধ, উন্মত্ততা ও শক্তির প্রদর্শনই প্রাধান্য পায়।   উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন একটি মানসিকতা তৈরি হচ্ছে, অভিযোগ উঠলেই কেউ কেউ নিজেদের তদন্তকারী, বিচারক ও শাস্তিদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। গুজব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট কিংবা ব্যক্তিগত অভিযোগ মুহূর্তের মধ্যে জনরোষ তৈরি করছে। এর ফলে প্রকৃত অপরাধী যেমন পার পেয়ে যেতে পারে, তেমনি নিরপরাধ মানুষও ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে পারে।   একজন সন্দেহভাজনকে আটক করার প্রয়োজন হলে তাকে পালিয়ে যেতে না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেয়া যেতে পারে। তাকে নিরাপদে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দেয়াই দায়িত্বশীল নাগরিকের কাজ। কিন্তু তাকে বেঁধে মারধর করা, অপমান করা কিংবা উত্তেজিত জনতার হাতে তার ভাগ্য ছেড়ে দেয়া কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না।   সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো, কেউ কেউ অপরাধ দমনের নামে অপরাধ করেও নিজেদের নায়ক ভাবতে শুরু করেছে। অথচ একজন অপরাধীকে শাস্তি দেয়ার নামে আরেকজন অপরাধী জন্ম হওয়ার মধ্যে কোনো নৈতিক মহত্ত্ব নেই। আইন ভেঙে আইন প্রতিষ্ঠা করা যায় না, সহিংসতা দিয়ে সমাজে স্থায়ী শান্তি আনা যায় না।   রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগে দুর্বলতা দেখা দিলে জনতার হাতে বিচার তুলে নেয়ার প্রবণতা বাড়ে। উচ্ছৃঙ্খল জনতা নিরপরাধ ও অপরাধীর মধ্যে যথাযথ পার্থক্য করতে পারে না। সেখানে সন্দেহ প্রমাণে পরিণত হয়, গুজব সত্যের জায়গা দখল করে এবং ব্যক্তিগত শত্রুতা সহজেই জনরোষের রূপ নিতে পারে।   যারা এসব কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উসকানি দেয়, প্রশ্রয় দেয় কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে নীরব থাকে, তাদেরও বিষয়টি নতুন করে ভাবতে হবে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠী বা পেশার সমস্যা নয়, এর অভিঘাত শেষ পর্যন্ত পুরো সমাজকেই বহন করতে হয়।   আজ যদি অন্যের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেয়া হয়, কাল নিজের বাড়ি নিরাপদ থাকবে, এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। আজ যদি অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে জনতার হাতে তুলে দেয়া হয়, কাল একই পরিস্থিতিতে নিজেকেও পড়তে হতে পারে। আইনহীনতার আগুন কখনো শুধু প্রতিপক্ষের ঘর পোড়ায় না, একসময় তা সমাজের নিরাপত্তাকেও গ্রাস করে।   রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীগুলোর জন্যও এখানে বড় শিক্ষা রয়েছে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, প্রভাবও নয়। কিন্তু একটি দেশে যদি আইনকে দুর্বল করে জনতার হাতে বিচার তুলে দেয়ার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তার শিকার একসময় সবাই হতে পারে। আজ যে শক্তিকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে, কাল সেই শক্তিই নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।   একটি রাষ্ট্র তখনই নিরাপদ থাকে, যখন অপরাধী গ্রেপ্তার হয় আইনি প্রক্রিয়ায়, তদন্ত হয় প্রমাণের ভিত্তিতে, বিচার হয় আদালতে এবং শাস্তি নির্ধারিত হয় আইন অনুযায়ী। কোন ব্যক্তি অপরাধী আর কে নিরপরাধ, এই সিদ্ধান্ত উত্তেজিত জনতার হাতে ছেড়ে দেয়া যায় না।   অপরাধীকে অবশ্যই ধরতে হবে। অপরাধের বিচারও নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের পথ হতে হবে আইনসম্মত। গণপিটুনি, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা প্রতিশোধমূলক সহিংসতা অপরাধ দমনের হাতিয়ার নয়, এগুলো নতুন অপরাধের জন্ম দেয় এবং রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল করে।   তাই এখনই রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত স্বার্থ ও দলীয় হিসাবের ঊর্ধ্বে উঠে একটি বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেয়া জরুরি — অপরাধীর বিচার চাই, কিন্তু জনতার হাতে বিচার নয়। অপরাধীর পক্ষ নেয়া যেমন অন্যায়, তেমনি অপরাধ দমনের নামে আইন ভাঙাও সমান অন্যায়।   মনে রাখতে হবে, আইন দুর্বল হলে শুধু অপরাধী বাড়ে না, আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতাও মানুষের মধ্যে জন্ম নেয়। আর সেই প্রবণতা একসময় সমাজের প্রত্যেক মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।   পরিশেষে বলব, আমরা কি আইনের শাসনে পরিচালিত একটি রাষ্ট্র চাই, নাকি উত্তেজিত জনতার সিদ্ধান্তে চলা এক অনিরাপদ সমাজ — সিদ্ধান্তটি এখনই নিতে হবে। অপরাধীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর হতে হবে, কিন্তু রাষ্ট্রের কঠোরতার জায়গা কখনোই জনতার সহিংসতা দখল করতে পারে না। অপরাধ দমন হোক আইনের পথে, জনতার হাতে নয়।    

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
কুষ্টিয়ায় খেলা দেখা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য : যুবকের আত্মহত্যা

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল ম্যাচ দেখা ও দেরিতে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে সুমন হোসেন (৩০) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (২০ জুলাই) ভোরে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন ওই এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে এবং পেশায় কৃষক ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ দেখে রাত প্রায় ৪টার দিকে বাড়ি ফেরেন সুমন। দেরিতে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও মনোমালিন্য হয়। পরে ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের আড়ার সঙ্গে সুমনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। নিহতের স্ত্রী জানান, রাত ৪টার দিকে খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পর তিনি শুধু জানতে চেয়েছিলেন, ‘এখন তোমার আসার সময় হলো?’ এরপর সুমন ঘর থেকে বেরিয়ে যান। স্ত্রী মোবাইল ফোন দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েন এবং ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্বামীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়েছিল। তবে আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, নিহত সুমন দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

জুলাই ২২, ২০২৬ 0
নোয়াখালীতে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে যুবকের আত্মহত্যা

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে মো. আলাউদ্দিন ওরফে রায়হান (২৮) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (২০ জুলাই) ভোরে উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের কেশারপাড় গ্রামের মাইজ্জা মিয়ার বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত রায়হান ওই বাড়ির আব্দুল বারেকের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রায়হান সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন এবং প্রায় এক বছর আগে দেশে ফেরেন। পাঁচ-ছয় মাস আগে তিনি বিয়ে করেন। রোববার দিবাগত রাতে কানকিরহাট বাজারে বন্ধুদের সঙ্গে আর্জেন্টিনা-স্পেনের বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখে ভোররাতে বাড়িতে ফিরলে স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। বাইরে খেলা দেখা ও দেরিতে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই ঝগড়ার একপর্যায়ে স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় রায়হান স্ত্রীকে আত্মহত্যার হুমকি দেন। পরে স্ত্রী ঘরে ফিরে স্বামীকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রহিম সরকার জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জুলাই ২২, ২০২৬ 0
চট্টগ্রামে শিশু আয়নী হত্যায় আসামি রুবেলের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় নয় বছর বয়সী শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীকে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা এবং মরদেহ গুমের দায়ে মো. রুবেল (সবজি বিক্রেতা) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় অনুযায়ী, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৯ (৪) (খ) ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টা ও পরবর্তীতে হত্যার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ পাহাড়তলী এলাকার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিদা সুলতানা আয়নী নিখোঁজ হয়। পরে পাহাড়তলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ স্থানীয় সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের নয়দিন পর পাহাড়তলীর মুরগি ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে শিশুটির গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, বিড়ালছানা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রুবেল শিশুটিকে ফুফুর খালি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় ডোবায় ফেলে দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত এই রায় প্রদান করলেন।

জুলাই ২২, ২০২৬ 0
সাতক্ষীরায় মাছের ঘের থেকে জামায়াত নেতার গাড়িচালকের মরদেহ উদ্ধার

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কৈখালী গ্রামের একটি মাছের ঘের থেকে সুমন (৩৫) নামে এক গাড়িচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) সকালে মাগুরা-কৈখালী বিল এলাকার ওই মাছের ঘের থেকে তার বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সুমন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা মনোয়ার হোসেন মোমিনের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঘেরের মালিক কেসমত আলী টংঘরের বাতি নেভাতে গিয়ে পানিতে মরদেহটি ভাসতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে লোহা কাটার দুটি ব্লেড, একটি বাটন মোবাইল ফোন, সিগারেটের প্যাকেট এবং পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ হাজার ভোল্টের কাটা বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর ধারণা, কোনো সংঘবদ্ধ চোরচক্র বৈদ্যুতিক তার চুরির সময় সুমন তাদের দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করে মরদেহ ঘেরের পানিতে ফেলে রেখে যায়। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহা. মাসুদুর রহমান জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পেছনের মূল কারণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

জুলাই ২২, ২০২৬ 0
ভোলাহাটে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এনজিওকর্মী গ্রেপ্তার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে রাকিবুল ইসলাম (২৩) নামে এক এনজিওকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রাধানগর কলোনী এলাকায় এই জঘন্য অপরাধের ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃত রাকিবুল পিরোজপুর সদর উপজেলার কালিটাটি বটতলা গ্রামের দেলোয়ার তালুকদারের ছেলে এবং স্থানীয় ‘রিক’ নামক একটি এনজিওর মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এনজিওকর্মী রাকিবুল ইসলাম রাধানগর কলোনী এলাকায় কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য যান। এ সময় মো. জুয়েল মিয়ার ৬ বছর বয়সী শিশুকন্যা বাড়িতে একা ছিল। এই সুযোগে রাকিবুল ঘরে ঢুকে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত রাকিবুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। ভোলাহাট থানা পুলিশ জানায়, আসামিকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া ও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জুলাই ২২, ২০২৬ 0
সিরাজগঞ্জে ফুটবল বিরোধে যুবক হত্যায় দুজন গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাশী ইউনিয়নের কালিঙ্গা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে যুবক ইলিয়াস খান (২৬) হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) ভোরে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন সিরাজগঞ্জ সদর এলাকার রাসেল (৪২) এবং কামারখন্দ উপজেলার সোহেল খান (৪০)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ১৯ জুলাই রাতে কালিঙ্গা গ্রামে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ইলিয়াস খান গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রতন আলী খান বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান জানান, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে একাধিক স্থানে অভিযান চলছে এবং জড়িত কাউকেই আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না।

জুলাই ২২, ২০২৬ 0
সিরাজগঞ্জে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধে ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে ইলিয়াস খান নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার রাতে উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের কালিঞ্জা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ এবং মূল অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। বিকেলে মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জের ধরে রাতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত সিয়াম ধারালো ছুরি দিয়ে ইলিয়াসের বুকে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পলাতক সিয়ামকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জুলাই ২২, ২০২৬ 0
Popular post
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শে আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক সংবেদনশীলতা, ইতিবাচক চিন্তার শিক্ষা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা

আধুনিক মনোবিজ্ঞানে ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ বা আবেগিক বুদ্ধিমত্তা ধারণাটি তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক। ১৯৯০-এর দশকে মনোবিজ্ঞানী পিটার স্যালোভি ও জন মেয়ার এ তত্ত্বের গোড়াপত্তন করেন। পরবর্তী সময়ে ড্যানিয়েল গোলম্যানের গবেষণার মাধ্যমে তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। গোলম্যানের কাঠামো অনুযায়ী আবেগিক বুদ্ধিমত্তার পাঁচটি মূল স্তম্ভ চিহ্নিত করা হয় : আত্মসচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, অভ্যন্তরীণ প্রেষণা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দক্ষতা। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এ ধারণার মূল উপাদানগুলো মানবসভ্যতার ইতিহাসে বহু আগে থেকেই আদর্শ চরিত্র ও কার্যকর নেতৃত্বের অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। কেবল এত দিন তাত্ত্বিক কাঠামোয় নামকরণ হয়নি।   মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাচরণে এই গুণাবলির এক সমন্বিত ও ব্যবহারিক রূপ বিদ্যমান, যা সমসাময়িক ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব ও মনোবিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত। সমসাময়িক মনোবিজ্ঞান ও নেতৃত্ববিষয়ক আলোচনায় আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক বুদ্ধিমত্তা, সহমর্মিতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সচেতনতা, সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ও ইতিবাচক চিন্তা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তবে এই পরিভাষাগুলো আধুনিক হলেও মহানবি (সা.)-এর জীবনাচরণে এগুলোর বাস্তব ও গভীর প্রয়োগ বহু শতাব্দী আগেই প্রতিফলিত হয়েছিল।   আবেগিক বুদ্ধিমত্তার একটি কেন্দ্রীয় দিক হলো তীব্র মানসিক চাপের মুহূর্তে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে চিন্তাশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নবি করিম (সা.) তাঁর আবেগ নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শন করতেন। মক্কা বিজয়ের সময় সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ঘটনা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বহু বছরের নিপীড়ন, অবরোধ ও যুদ্ধের ইতিহাস সত্ত্বেও প্রতিহিংসার পরিবর্তে সংহতি ও সহাবস্থানের নীতি গ্রহণ করেছিলেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়ায় আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেয়ার একটি কৌশলগত দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, যা নেতৃত্বতত্ত্বের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।   সাংগঠনিক আচরণবিজ্ঞানে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে প্রায়ই ‘ইমোশনাল রেগুলেশন ইন হাই-স্টেকস লিডারশিপ’ বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ নেতৃত্বে আবেগ নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়, যেখানে তাৎক্ষণিক আবেগীয় তাড়নার বদলে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলের কথা বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁর আত্মনিয়ন্ত্রণের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। সন্তান হারানোর শোক, নিকটাত্মীয় বিয়োগ কিংবা অনুসারীদের ভুল-ত্রুটির মুখোমুখি হয়েও তিনি ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতেন বলে হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ পাওয়া যায়। আবেগ প্রকাশে সংযম, অথচ আবেগকে সম্পূর্ণ দমন না করা, এই দ্বৈত ভারসাম্য আধুনিক মনোবিজ্ঞানে ‘ইমোশনাল রেগুলেশন’ এবং ‘ইমোশনাল সাপ্রেশন’-এর মধ্যকার পার্থক্য বোঝার ক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্ত হতে পারে।   সামাজিক বুদ্ধিমত্তার একটি মূল উপাদান হলো ভিন্ন সামাজিক অবস্থান ও প্রেক্ষাপটের মানুষের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক স্থাপনের দক্ষতা। নবি করিম (সা.) দাস, শিশু, নারী, বয়োজ্যেষ্ঠ ও ভিন্নধর্মাবলম্বী সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে তাদের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সংবেদনশীলভাবে আচরণ করতেন। প্রতিবেশীর অধিকার, অতিথি আপ্যায়ন এবং পারস্পরিক পরামর্শ বা ‘শূরা’র নীতির ওপর তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপ এই সামাজিক সংবেদনশীলতারই প্রতিফলন বলে গবেষকরা মনে করেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পরামর্শের ভূমিকা। বদরের যুদ্ধের অবস্থান নির্বাচন থেকে শুরু করে উহুদের যুদ্ধকৌশল পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি অনুসারীদের মতামত গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি ব্যক্তিগত মত ভিন্ন হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।   সাংগঠনিক নেতৃত্বতত্ত্বে এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়াকে ‘পার্টিসিপেটিভ লিডারশিপ’ বলা হয়। যেখানে নেতা তাঁর কর্তৃত্ব বজায় রেখেও অধস্তনদের মতামতকে মূল্য দেন; এবং এর মাধ্যমে সংগঠনের মধ্যে আস্থা ও সংশ্লিষ্টতার অনুভূতি তৈরি করেন। মদিনা সনদ, ইতিহাসে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন লিখিত সংবিধান হিসেবে স্বীকৃত, ছিল এই সামাজিক দক্ষতারই একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহাবস্থানের একটি কাঠামো তৈরি করে তিনি বহুত্ববাদী সমাজ পরিচালনায় সংলাপ ও সমঝোতার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন, যা সমকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সংঘাত-নিরসন তত্ত্বের দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। এই সনদে বিভিন্ন পক্ষের অধিকার ও দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার মাধ্যমে একটি বহু-সাংস্কৃতিক নগর-রাষ্ট্র পরিচালনার যে কাঠামো তৈরি হয়েছিল, তা আধুনিক ‘কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন’ বা সংঘাত-নিরসন তত্ত্বের অনেক মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।   সহমর্মিতার আরেকটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় তাঁর দৈনন্দিন আচরণে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি তাঁর মনোযোগ, রোগীর সেবা এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা শোনার আগ্রহের মধ্যে। এই আচরণ কেবল ব্যক্তিগত সদাচরণের প্রকাশ নয়, বরং একধরনের সক্রিয় শ্রবণ বা ‘অ্যাক্টিভ লিসেনিং’-এর দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে, যা আধুনিক যোগাযোগ তত্ত্বে সম্পর্ক নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে স্বীকৃত।   তায়েফের ঘটনা মহানবি (সা.)-এর আবেগিক নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমাশীলতা ও ভবিষ্যৎমুখী ইতিবাচক চিন্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তায়েফে তিনি প্রত্যাখ্যাত, অপমানিত ও নির্যাতিত হন। শারীরিক নির্যাতন ও অপমানের শিকার হয়েও প্রতিশোধের পরিবর্তে তিনি ধৈর্য ও ক্ষমার পথ বেছে নেন। সহিহ আল-বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, পাহাড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা তাঁকে তাঁর নির্যাতনকারীদের ওপর দুই পাহাড় চাপিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন। প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। আশা করেন যে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্য থেকে এমন মানুষ জন্ম নেবে, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে। এখানে ক্ষমার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। এ ঘটনা কেবল ধর্মীয় সহনশীলতার উদাহরণ নয়, বরং তীব্র মানসিক চাপের মুহূর্তে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার একটি বাস্তব নজির, যাকে আধুনিক পরিভাষায় ‘স্ট্রেস রেগুলেশন’ বা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ বলা যেতে পারে।   এক বেদুঈন মসজিদের ভেতর প্রস্রাব করতে শুরু করলে সাহাবিরা তাঁকে থামাতে উদ্যত হন। কিন্তু মহানবি (সা.) তাঁদের বিরত করেন এবং পরবর্তী সময়ে জায়গাটি পানি দিয়ে পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। তিনি ভুলটিকে সমর্থন করেননি; বরং ভুলকারী ব্যক্তির অজ্ঞতা ও সামাজিক অবস্থাকে বিবেচনায় নিয়েছিলেন। মূল শিক্ষা হলো : অজ্ঞতার চিকিৎসা অপমান নয়, শিক্ষা।   আধুনিক সমাজে মানুষ প্রায়ই ভুল এবং ভুলকারীকে একইভাবে বিচার করে। একটি ভুলের ভিত্তিতে পুরো ব্যক্তিত্বকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। নববি পদ্ধতি ছিল ভিন্ন। ভুল সংশোধন করতে হবে, কিন্তু এমনভাবে, যাতে মানুষের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে এবং তার ফিরে আসার পথ বন্ধ না হয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নীতি প্রয়োগ করা হলে বহু অপ্রয়োজনীয় সংঘাত ও সম্পর্কভাঙন এড়ানো সম্ভব। উহুদের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতেও মহানবি (সা.)-এর নেতৃত্বে আবেগিক ও সামাজিক প্রজ্ঞার উজ্জ্বল উদাহরণ দেখা যায়। কিছু সাহাবির সিদ্ধান্তের কারণে গুরুতর বিপর্যয় ঘটেছিল। মহানবি (সা.) নিজেও আহত হয়েছিলেন। কিন্তু সুরা আলে ইমরান ৩:১৫৯-এ তাঁকে তাঁদের প্রতি কোমল থাকতে, ক্ষমা করতে, তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ অব্যাহত রাখতে বলা হয়। এখানে নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রকাশিত হয়েছে।   একজন অনুসারী ভুল করলেই তার মর্যাদা ও অংশগ্রহণের অধিকার চিরতরে নষ্ট হয়ে যায় না। বরং কার্যকর নেতৃত্ব মানুষের ভুল সংশোধন করে তাকে পুনরায় দায়িত্বশীল অংশগ্রহণে ফিরিয়ে আনে। মহানবি (সা.)-এর নেতৃত্ব তাই শুধু শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তা মানুষের পুনর্গঠন, আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।   তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রকৃত গভীরতা সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝা যায় কাছের মানুষের সাক্ষ্যে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) প্রায় দশ বছর মহানবি (সা.)-এর সেবায় ছিলেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময়ে মহানবি (সা.) তাঁকে কোনো কাজ করা বা না করার জন্য অপমানজনক ভঙ্গিতে প্রশ্ন করেননি। এই সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জনসমক্ষে ভদ্র থাকা তুলনামূলকভাবে সহজ, কিন্তু যারা নিকটবর্তী, অধীনস্থ বা প্রতিদিনের সম্পর্কের অংশ, তাদের সঙ্গে আচরণই ব্যক্তির প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করে।   আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনাতেও পাওয়া যায় যে মহানবি (সা.) ব্যক্তিগত কারণে প্রতিশোধ নিতেন না এবং কোনো নারী বা খাদেমকে হাতে আঘাত করেননি। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোমলতা বজায় রাখা তাঁর নৈতিক ও আবেগিক পরিপক্বতার একটি উল্লেখযোগ্য দিক। শিশুদের প্রতি তাঁর আচরণ সামাজিক সংবেদনশীলতার আরেকটি মানবিক উদাহরণ। আনাস (রা.)-এর ছোট ভাই আবু উমাইরের একটি পাখি ছিল এবং মহানবি (সা.) তাঁর সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন ও পাখিটির খবর নিতেন। রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, ধর্মীয় ও বিচারিক অসংখ্য দায়িত্বের মধ্যেও একটি শিশুর ক্ষুদ্র আনন্দ ও দুঃখ তাঁর কাছে গুরুত্ব হারায়নি।   মহানবি (সা.)-এর সামাজিক বুদ্ধিমত্তা ধর্মীয় ভিন্নতার ক্ষেত্রেও মানবিক মর্যাদার প্রতি গভীর সম্মান প্রকাশ করে। একজন ইহুদি ব্যক্তির জানাজা অতিক্রম করার সময় তিনি উঠে দাঁড়ান। তাঁকে জানানো হলো যে মৃত ব্যক্তি ইহুদি। তিনি প্রশ্ন করেন, “সে কি একটি প্রাণ নয়?” এই সংক্ষিপ্ত ঘটনায় একটি সর্বজনীন মানবিক নীতি নিহিত রয়েছে। ধর্মীয়, সামাজিক বা রাজনৈতিক মতপার্থক্য মানুষের মৌলিক মর্যাদা অস্বীকারের কারণ হতে পারে না।   বর্তমান বিভক্ত বিশ্বে এই শিক্ষা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামাজিক মেরুকরণ প্রায়ই মানুষকে এমন অবস্থায় নিয়ে যায়, যেখানে নিজের দলের মানুষের কষ্টকে গুরুত্ব দেয়া হয়, কিন্তু ভিন্ন পরিচয়ের মানুষের কষ্টকে উপেক্ষা করা হয়। এ কারণেই মানুষ মহানবি (সা.)-এর পাশে নিজেদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ মনে করত। ভুল করলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে, কষ্ট পেলে তিনি শুনবেন, দুর্বল হলে অপমান করবেন না, শিশু হলে অবহেলা করবেন না, অধীনস্থ হলে মর্যাদা কমবে না এবং ভিন্ন বিশ্বাসের হলেও মানবিক অস্তিত্ব অস্বীকার করা হবে না। এই নিরাপত্তাবোধ তাঁর নেতৃত্বের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য ছিল। কোরআনের ভাষায়, তিনি যদি রূঢ় ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, মানুষ তাঁর চারপাশ থেকে সরে যেত। ফলে নববি নেতৃত্বের অন্যতম শিক্ষা হলো : মানুষ শুধু শক্তিশালী নেতার অনুসারী হয় না, তারা সেই নেতার প্রতি আস্থাশীল হয়, যার কাছে তাদের মর্যাদা নিরাপদ।   কোরআন মহানবি (সা.)-এর এই মানবিক ও আবেগিক চরিত্রকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে তুলে ধরে। সুরা আত-তাওবা ৯:১২৮-এ বলা হয়েছে যে, মানুষের কষ্ট তাঁর কাছে অত্যন্ত কষ্টকর ছিল, তিনি মানুষের কল্যাণকামী এবং মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল ও দয়ালু ছিলেন। এ বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, তাঁর সহমর্মিতা ছিল শুধু নৈতিক বক্তব্য নয়; বরং তা তাঁর নেতৃত্ব ও সামাজিক সম্পর্কের মৌলিক ভিত্তি ছিল। অন্যের দুর্দশা, ব্যথা ও দুর্বলতার প্রতি সংবেদনশীলতা তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। মহানবি (সা.)-এর আবেগিক বুদ্ধিমত্তার আরেকটি কেন্দ্রীয় দিক ছিল আত্মসংযম। তিনি শক্তির প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেন। সহিহ আল-বুখারির হাদিসে তিনি বলেন, প্রকৃত শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং সে, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই বক্তব্য মানবিক আত্মনিয়ন্ত্রণের গভীর তাৎপর্য প্রকাশ করে।   নববী দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রকৃত শক্তি হলো আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। মক্কিজীবনের প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিক বয়কট, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতির মুখেও নবুয়তি দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকা এবং অনুসারীদের মধ্যে আশাবাদ সঞ্চার করার প্রবণতা আধুনিক মনোবিজ্ঞানের ‘রেজিলিয়েন্স’ বা প্রতিরোধ-সক্ষমতা ধারণার সঙ্গে তুলনীয়। বদর ও উহুদের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনায়ও তিনি হতাশার পরিবর্তে ভবিষ্যৎমুখী পুনর্গঠনের নীতি অনুসরণ করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক বিবরণ থেকে জানা যায়।   হিজরতের সময়কার একটি বহুল-উদ্ধৃত ঘটনাও এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ। সাওর গুহায় আশ্রয় নেয়ার সময় শত্রুপক্ষের নিকটবর্তী উপস্থিতি সত্ত্বেও তিনি তাঁর সহচরকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। এ ঘটনা চরম অনিশ্চয়তার মুহূর্তেও স্থিতধী মনোভাব বজায় রাখার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। ইতিবাচক মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘কগনিটিভ রিফ্রেমিং’ বলা যেতে পারে। অর্থাৎ একই পরিস্থিতিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করে মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই ইতিবাচক মনোভাব কোনো নিষ্ক্রিয় আশাবাদ নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। শত্রুরা তাঁদের খুঁজছিল এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।   আবু বকর (রা.) উদ্বিগ্ন হলে মহানবি (সা.) বলেন, “চিন্তিত হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।” ( সুরা আত-তাওবা ৯:৪০) এখানে তিনি বাস্তব বিপদকে অস্বীকার করেননি, বরং বিপদের মাঝেও আল্লাহর সাহায্যের প্রতি আস্থা বজায় রেখেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি শেখায় যে জীবনের কোনো একটি সংকটকে সমগ্র ভবিষ্যতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খননের কৌশল গ্রহণ কিংবা মদিনায় অভিবাসনের পর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ।   এসব দৃষ্টান্ত থেকে বোঝা যায়, তাঁর আশাবাদ বাস্তবতাবিবর্জিত ছিল না, বরং কার্যকর পরিকল্পনার সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এই সমন্বয়কে আধুনিক ব্যবস্থাপনা-তত্ত্বে ‘রিয়েলিস্টিক অপটিমিজম’ বা বাস্তবতাভিত্তিক আশাবাদ বলা হয়, যেখানে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবতা-বিচ্ছিন্ন না হয়ে কার্যকর পদক্ষেপের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই আবেগিক ও সামাজিক প্রজ্ঞার সঙ্গে মহানবি (সা.)-এর ইতিবাচক চিন্তা গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাঁর জীবন পিতৃহীনতা, মাতৃহীনতা, প্রিয়জন হারানো, সামাজিক বর্জন, উপহাস, নির্যাতন, যুদ্ধ ও বিরোধিতায় পরিপূর্ণ ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি তিক্ত, প্রতিহিংসাপরায়ণ বা হতাশ হয়ে যাননি। মানুষের পরিবর্তনের সম্ভাবনায় বিশ্বাস রেখেছেন। চাকরি হারানো, পরীক্ষায় ব্যর্থতা বা আর্থিক সংকট এসব জীবনের কঠিন অধ্যায় হতে পারে। কিন্তু পুরো জীবন নয়।   মহানবি (সা.) আশাব্যঞ্জক কথাও পছন্দ করতেন। সহিহ হাদিসে তাঁর ভালো, সুন্দর ও আশাজাগানিয়া কথা পছন্দ করার কথা এসেছে। এর তাৎপর্য হলো, ভাষা মানুষের মনোবল ও আচরণে প্রভাব ফেলে। ‘তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না’ এবং ‘ভুল হয়েছে, কিন্তু চেষ্টা করলে উন্নতি সম্ভব’ এ দুই ধরনের বক্তব্য একই বাস্তবতার প্রতি সম্পূর্ণ ভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। নববি ইতিবাচকতা এমন ভাষার ব্যবহার করে, যা মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি ও পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে অক্ষুণ্ন রাখে। একই সঙ্গে এই ইতিবাচকতা কোনো কৃত্রিম আবেগ-দমন ছিল না।   মহানবি (সা.) কেঁদেছেন। শোক প্রকাশ করেছেন। মানুষের আচরণে কষ্ট পেয়েছেন এবং উম্মতের জন্য উদ্বিগ্ন হয়েছেন। ফলে দুঃখ অনুভব করা বা কান্না করা ইমানের দুর্বলতার প্রমাণ নয়। একজন মানুষ একই সঙ্গে কষ্ট অনুভব করতে পারে এবং আল্লাহর ওপর আস্থাও রাখতে পারে। সামগ্রিকভাবে মহানবি (সা.)-এর আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক প্রজ্ঞা এবং ইতিবাচক চিন্তা একটি সমন্বিত মানবিক দর্শন নির্মাণ করে। এ দৃষ্টিভঙ্গির সারকথা হলো : মানুষের হৃদয় জয় করতে তাকে পরাজিত করার প্রয়োজন নেই। তাকে বোঝা প্রয়োজন। মানুষের ভুলের মধ্যেও সম্ভাবনা দেখতে হবে। কষ্টের মধ্যেও আশা রাখতে হবে। ভয়ের মধ্যেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। অশ্রুর মধ্যেও পথচলা অব্যাহত রাখতে হবে। এই শিক্ষা শেষ পর্যন্ত কোরআনের সেই গভীর ঘোষণার সঙ্গে সংযুক্ত হয় : মহানবি (সা.) বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর শক্তির গভীরে ছিল দয়া। তাঁর নেতৃত্বের কেন্দ্রে ছিল মানুষের হৃদয়। তাঁর ইতিবাচকতার কেন্দ্রে ছিল আল্লাহর ওপর আস্থা।   আধুনিক সমাজে যেখানে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও সহমর্মিতার ঘাটতি রয়েছে, সেখানে তাঁর জীবন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রকৃত প্রজ্ঞা হলো ক্ষমতার মধ্যেও কোমল থাকা। কষ্টের মধ্যেও ন্যায়বান থাকা। ক্রোধের মধ্যেও আত্মসংযমী থাকা। মানুষের ভুলের মধ্যেও তার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎকে দেখতে শেখা। বর্তমান কর্মক্ষেত্র ও সমাজে নেতৃত্বের সংকট, মানসিক চাপ ও আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্কের জটিলতা ক্রমবর্ধমান একটি আলোচ্য বিষয়। বিশ্বজুড়ে ব্যবস্থাপনা-শিক্ষায় ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘রেজিলিয়েন্স’ এখন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এবং বহু প্রতিষ্ঠান নেতৃত্ব-উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই দক্ষতাগুলোকে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমান বা তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে। বাংলাদেশসহ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পারিবারিক পরিমণ্ডল ও কর্মক্ষেত্রে নৈতিক নেতৃত্বের আদর্শ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঐতিহাসিক-বিশ্লেষণাত্মক পাঠ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।  

চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

সেবিকা

বয়সটা নিতান্তই বাল্যকাল। শখের প্রিয় টেপা পুতুলঘোড়ার খেলনাগুলো এক পাশে রেখে যখন থার্মোমিটার, রক্তচাপ মান যন্ত্রাংশের স্পর্শতা পেয়েছিল, ঢের বুঝেছিলাম একদিন সু-বিশালতার আদর্শ সেবিকা হব।   হঠাৎ অগোচরে বাবার শরীর কাঁপুনিতে জ্বরের আগমনী বার্তা। মনের উদ্দীপ্ত একাগ্রতা চিত্তের আকুলতায় সেবিকা আদর্শে স্পর্শ ছোঁয়ায় অনবদ্য মাধুর্যতা। স্নিগ্ধতায় মস্তকে হাত বুলিয়ে বাবার পরশমণির মৃদু হাসির আড়ালে এক উচ্চারিত প্রতিধ্বনি, “অনেক বড় হও মা। সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনার আলোয় আলোকিত করো প্রতিটি জীবের শুদ্ধতার পবিত্র অন্তর।” এই উচ্চারিত প্রতিধ্বনি কেবল এক নিচ্ছুক শব্দ নয়, জীবনবৃত্তান্তে বেড়ে ওঠা স্বপ্ন পূরণের বহিঃপ্রকাশ।   বাংলার সবুজ দিগন্তে প্রকৃতির নিবিড়য়তায় স্বপ্নগুলো আমার একান্তই সঙ্গী। সন্ধ্যা আঁধারে ঝিঁঝি পোকার আলোই বয়ে চলা নিঃসঙ্গতা নদীপথ। নিদ্রা যাপনে কল্পনার জগৎ ভাবে ভাবান্তর অতুলনীয় স্বপ্ননীল সুন্দর।   কালবেলার দ্বিখণ্ডিত পর্বে শতাব্দীর অবসান। কত শত জীবন্ত মরুভূমি প্রান্তরে অলীক চিন্তার মোড়কে স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার। স্বপ্নসিঁড়ির যাত্রাপথে শহরতলির অভিশপ্ত নগরী আমার আবাসস্থল। ইট-পাথরের শহর গলিপথে অসহায়ত্বের শান্তিনিকেতনে আমার দিবালয় মিশনারি হাসপাতাল।    সমুদ্রের কিনারে সূর্যাস্তে ঢলে পড়া ক্লান্ত সন্ধ্যায় মুঠোফোনের ওপাশ থেকে এক শুভেচ্ছা বার্তা। এই তো এখানে জায়গা আছে। হৃদয়ের সুপ্ত গভীরতায় যে স্বপ্ন বুনেছিলাম, তার প্রতিটি অপেক্ষা পূরণের ব্যাকুলতায় সীমাহীন আনন্দ অভিমান।    পাখিডাকা ভোরের উষ্ণ শীতলতায় ওয়ান জিরো ফোর অপারেশন থিয়েটার। হাসপাতালের প্রতিটি ইট, ধূলিকণা যেন এক নির্বাক বাঁচার আকুতি। কিছু মুহূর্তে হারিয়ে গিয়েছিলাম বিষাদ সিন্ধুর একাকিত্বে। হঠাৎ দরজায় কড়া নেড়ে রুক্ষ মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে এক জীবন্ত সেবিকা। বিষণ্ন বাতাসে মৃদু হেসে বলিয়া উঠিল, “তোমার ডিউটি ওয়ান জিরো ফোর অপারেশন থিয়েটার রুম।”   বেস্ট রঙের যুগলবন্দী পোশাকের ঘ্রাণের মাধুর্যতা আমার শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় বহমান। মুহূর্তেই এক দুঃখবিলাসী জীবনের কাতরতায় অভাগীর অনুপ্রবেশ।   বাঁচার আকুতি এবং সেবা গ্রহণের প্রতীক্ষায়। আগ্রহ বাড়িয়ে হৃদয়স্পর্শী সেবা দানে সমাপ্ত হইল তাহার নিকট আমার প্রথম সেবার আত্মনিবেদন।    

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

Top week

সাহিত্য

শরৎ

অক্টোবর ২, ২০২৬ 0